ollo কি ওয়াইম্যাক্স না কি আরেকটি ফাঁদ !!

ollo কি ওয়াইম্যাক্স না কি আরেকটি ফাঁদ !!

সম্প্রতি ওলো (Ollo) ওয়্যারলেস ইন্টারনেট নামক একটি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। রাজধানীর ধানমন্ডি, মোহাম্মাদপুর, হাতিরপুল, উত্তরা, নিকুঞ্জ, গুলশান-বনানী ও মতিঝিলে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত বলে জানানো হয়েছে ওলো (Ollo)-এর ওয়েবসাইটে। সরকারের কাছ থেকে ২১৫ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি দিয়ে যে দুইটি ওয়াইম্যাক্স অপারেটর (কিউবি এবং বাংলালায়ন) ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে, ঠিক তাদের মতই একই ধরনের ইউএসবি ডঙ্গল দিয়ে ওলো (Ollo) ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করছে। ডঙ্গল ছাড়াও তারা আরও কয়েকটি মডেলের ওয়্যারলেস মডেমের মাধ্যমেও ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা দিচ্ছে বলে জানা গেছে তাদের ওয়েবসাইটে। ইতিমধ্যে অনেক গ্রাহক এই সেবা গ্রহণ করা শুরু করেছেন। তবে গ্রাহকদের প্রশ্ন—এটি প্রযুক্তিগতভাবে কোন ধরনের সেবা? এটি কি ওয়াইম্যাক্স না অন্য কোনো প্রযুক্তি?

 

প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ওয়েবসাইটেও কোথাও নিজেদের ওয়াইম্যাক্স অপারেটর বলে দাবী করছে না। তারা বলে আসছে, তারা ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এদিকে দেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি’র ওয়েবসাইটেও এরকম কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স পাওয়ার তথ্য নেই। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এখন প্রশ্ন—ওয়াইম্যাক্স অপারেটর কিউবি ও বাংলালায়নকে যেখানে ওয়াইম্যাক্স সেবা প্রদান করতে ২১৫ কোটি টাকার লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়েছে, সেখানে লাইসেন্স ছাড়াই ওলো (Ollo) কীভাবে ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সেবা উন্মুক্তভাবে দিতে পারছে? এতে কি সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেনা? উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি কর্তৃক উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনটি প্রতিষ্ঠান ওয়াইম্যাক্স সেবা প্রদানের লাইসেন্সের জন্য অনুমতি লাভ করে। এদের মধ্যে বাংলালায়ন ও কিউবি ছাড়া তৃতীয় প্রতিষ্ঠানটি (ব্র্যাকনেট) নির্দিষ্ট সময়ে লাইসেন্স ফি প্রদানে ব্যর্থ হয়। তারই প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২১ জুলাই অজের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড বাংলাদেশ লিমিটেড কিউবি নামে তাদের ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির ইন্টারনেট সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে। তবে ওয়াইম্যাক্স সংশ্লিষ্ট কোনো লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ওলো’র কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে তথ্য জানার জন্য প্রতিষ্ঠানটির সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও এই বিষয়ে তথ্য জানাতে প্রতিষ্ঠানটির কেউই রাজি হননি।

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন