আইসিটি সেক্টরে উদ্যোক্তা দরকার

বাংলাদেশে এখন শত শত কম্পিউটার সাইন্স, টেলি কমিউনিকেশন ইত্যাদি নিয়ে সরকারী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে লেখাপড়া করছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ গুলোতে কম্পিউটার সাইন্স পড়া ছাত্রের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে এদের অনেকেই পড়াশুনা শেষ করে হতাশার সম্মুখীন হন যখন তারা চাকরি-বাকরি না পান। শেষ পর্যন্ত হয়তো অনেকেই চাকরী পাচ্ছেন তবে তা মনের মতো নয় এবং সেখানে তাদের দক্ষতা ও সামর্থ্য তুলে ধরতে পারেন না। আর কম্পিউটার এমন একটি ফিল্ড যেখানে উদ্যোক্তা হওয়া বেশি দরকার। বাস্তবতা হচ্ছে যে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তেমন বড় মাপের কোন সফটওয়্যার বা আইটিইএস কোম্পানি গড়ে উঠেনি এবং তাই যারা কম্পিউটার সাইন্স ফিল্ডে পড়ে তাদের অনেককে হয়তো হতাশা হতে হয়।
তবে একথাও ঠিক যে ভাল মতো কম্পিউটার জানলে বাংলাদেশে কাজের কোন অভাব নেই। তবে আমার মনে হয় যে সময় এসেছে আমাদের সিলেবাস ও কম্পিউটার শিক্ষার ধ্যান ধারণা পাল্টানোর। সিলেবাসে উদ্যোক্তা তৈরির উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
যদি অনেকেই এদিকটাতে চেষ্টা করেন তাহলে আমরা সুফল পাব। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরণের কোন সফটওয়্যার বা আইটিইএস কোম্পানি গড়ে উঠতে পারে। আমরা যদি গুগল, মাইক্রোসফট বা অ্যাপল এর দিকে টাকাই তাহলে দেখব যে দুই-একজন তরুণ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় বা পড়ার আগেই উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং তারপর তারা সফল হন এবং গড়ে তুলেন এতো বড় কোম্পানি।
এই সামান্য বিষয়টি আমাদের নীতি-নির্ধারকদের মনে রাখা উচিত। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও এদিকটাতে এগিয়ে আশা উচিত। এক্ষেত্রে আমি বলব যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর সুযোগ বেশি রয়েছে কেননা তারা চাইলেই টাকা খরচ করতে পারে। তারা যদি বলে দেয় যে শিক্ষার্থীদের কোন কাজ না করে শুধু একটি কোম্পানি তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে তবে সমস্যা নয় কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে তাদের অনেকেরই সেই সামর্থ্য রয়েছে।
আমরা যদি উদ্যোক্তা তৈরির দিকে মনোযোগ দিতে পারি তাহলে আইসিটি সেক্টরে খুব দ্রুতই উন্নতি আসবে। এক্ষেত্রে সরকারেরও অনেক করণীয় আছে। এসব শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের কিভাবে সহায়তা দেওয়া যায় সেটাও সরকারের চিন্তা করতে হবে। আসলে আমার মনে হয় যে আর্থিক সাহায্যের থেকে অন্যরকম সাহায্য সহযোগীতা করা যায় তাহলে তা ভবিষ্যতে সুফল বয়ে আনবে। বাংলাদেশের কোম্পানি খুলতে গেলে ট্যাক্স, তারপরে ট্রেড লাইসেন্স সহ নানা রকমের কাগজপত্র তৈরি করা লাগে।
এ প্রক্রিয়াটি যদি শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজে সম্পন্ন করে তাহলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যয় উৎসাহ বোধ করবে আর সরকারেরও বাড়তি কোন টাকা সাহায্য দেওয়া লাগবে না। তাই সময় এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর থেকেই কিভাবে উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় কম্পিউটার খাতে সে নিয়ে খুব গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করা।

About কমপিঊটার পাগল

একটি উত্তর দিন