জীনের সাথে ১৯ মিনিটের কথা

ইদানিং শুনছি যে এক ধরণের প্রতারক চক্র জীনের নামে ফোন করে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে। হয়তো তারা কিছুটা সফল হলেও হতে পারে। এ বিষয়ে অনেক শুনেছি কিন্তু গতকালই আমার সে অভিজ্ঞতা হল। বেশ রাতেই ঘুমানোর আমার অভ্যাস। রাত পৌনে বারটার দিকে ফোনকলটা আসল। ফোনকলটা আসার সাথে সাথে কন্ঠস্বর বুঝেই বুঝে গেলাম কোন এক টাউট ফোন করেছে। বিকৃত এক ধরণের কৃত্রিম স্বরে ফোনের এ বিষয়টা আগে বেশ কয়েকবার শুনেছি..তাই সাথে সাথে বুঝতে পারলাম। আমার ইচ্ছা হল তার সাথে যতক্ষণ পারি কথা বলব, দেখতে চাচ্ছিলাম পানি কোথায় গড়ায়। ফোনকলের সময়কাল শেষমেষ ১৯.০২ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পেরেছি। অনেকেই হয়ত এ ধরণের ফোন ইদানিং পেয়েছেন এবং বেশী কথা না বলে রেখেও দিয়েছেন।

আমার সবগুলো কথা মনে নেই তবে যা মনে আছে তা শেয়ার করছি।

একটা অদ্ভুত ধরণের টোনে সে ফোন করল এবং বলল
বাবা.. তুই এখনও জেগে আছিস বাবা….

আমি তো বুঝতে পারছি যে, এটা কোন ধরণের কল তাই একদম গোবেচারা/ভোদাই :-/ সেজে গেলাম। আমিও একটু কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললাম কে বলছেন?

উত্তর এল আমরা এক পবিত্র স্থান থেকে তোর সাথে কথা বলছি বাবা….
তুই কি বুঝতে পারছিস বাবা…
আমি উত্তর দিলাম না..(একটু ভয় ভয় ভাব করে)
এবার বলল তুই আজকে নামাজ পড়েছিস বাবা….
আমি বললাম এশার নামাজ এখন পড়ব।
এত দেরী করে কেন পড়বি..বাবা। সময় মত নামাজ পড়বি..বাবা..
আমি বললাম আমি নিয়মিত নামাজ পড়ি। অফিস হতে দেরী করে আসছি..রাস্তায় অনেক যানযট অনেক দেরী হয়েছে তাই নামাজ পড়তে দেরী হচ্ছে।

ও.. তুই তাহইলে চাকরি করিস বাবা….
এবার বলল যে, নামাজ পড়..বাবা..। আর তাহাজুদ্দের নামাজ পড়বি বাবা..।
আমি বললাম যে, কালকে সকালে তো অফিস তাই তাহাজুদ্দের নামাজ পড়তে পারি না। কিন্তু এশার নামাজ পড়ি।

এবার সে কোরআন এর কয়েকটি আয়াত বলল। আর এ বিষয়ে আরও কিছু নসিহত দিল। আমিও ভদ্র ছেলের মত শুনলাম, কেননা এখন পর্যন্ত দোষের কিছু ছিলনা।

এবার বলল আমরা কে তুই বুঝতে পারিসিছ বাবা…
আমি বললাম না।
তুই বগুড়া চিনিস বাবা….
আমি বললাম চিনি, কিন্তু কখনো যাইনি।

বগুড়ার এক মাজারের কথা বলল। বলল, খুব বিখ্যাত মাজার। আমি সত্যিই চিনিনি এবং সেটাই বললাম। সে আশ্চর্য হল আমি না চেনায় এবং তার বেশ কিছু বর্ণনা দিল ও বগুড়ার বিখ্যাত কিছু নিদর্শনের কথা বলল। আমি সাথে সাথে বললাম আমাদের মিরপুরেও একটি বড় মাজার আছে। শাহ আলী মাজার, আমি সেখানে গিয়েছি। এবার সে বলল হুম.. তাহলে তুই মিরপুরে থাকিস বাবা…।

এবার সে বলল, মাজারের পবিত্র ইমাম সাহেব নামাজ পড়তে পড়তে ঘুমাইয়া পড়েছে এবং তার মোবাইল থেকে তোর কাছে ফোন করেছি বাবা….
তুই কি বুঝতে পারিসিছ আমরা কে বাবা…..আমি বললাম না।

বলল তুই কখনো জীন এর নাম শুনেছিস বাবা…..
আমি বললাম শুনেছি। আর বললাম মানুষ আর জীন আল্লার সৃষ্টি।
বলল তুই ঠিকই বলেছিস বাবা….আমরা জীন জাতি। আমরা আল্লাহর পক্ষ হতে তোর সাথে কথা বলছি বাবা…। আমরা এখন শুন্যে ভাসমান থেকে তোর সাথে ফোন করছি বাবা… তুই বুঝতে পারিছিস বাবা….(আমি একটু কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললাম বুঝতে পারছি এবং আরও বুঝতে পারছি যে, আমি জীনের সাথে কথা বলছি) শুন্যে ভাসমান থাকার কথা আরও কয়েকবার গুরুত্ব দিয়ে বলল।

তোকে ২টা প্রশ্ন করি বাবা….. বললাম করেন।

জীন বলল……..বলতো কোরআন শরীফে কয়টা সুরা?
আমি বললাম ১১৪টি।
এবার বলল কয়টি আয়াত আছে?
আমি বললাম ৬৬৬৬টি।
খুব ভাল, খুব ভাল বাবা…। আমরা খুব খুশী হয়েছি বাবা। আর এ কারণে আল্লাহ তোকে একটা বিশেষ মোহর আমাদের মাধ্যমে দিবে এবং তা যে খুবই মূল্যবান তাও তা বলল। তুই কী তা নিতে চাস বাবা……?

আমি বললাম…. আমি সাধারণ মানুষ। চাকরি করি। আমার জীবনে এত লোভ লালসা নাই।

জীন বলল…….. আল্লাহ খুশী হয়ে তোকে দিতে চাচ্ছে আর তুই নিবি না বাবা….?
এবার আরো কিছু লেকচার দিল…কিছু আয়াতও শোনাল। বলল যে, যেকোন সময় আল্লাহ যে কোন অবস্থায় নিতে পারে। আমিও তাতে সায় দিলাম….বললাম আল্লাহ ইচ্ছা করলে তার বান্দাকে দেয় আবার তা নিতেও পারে।

এবার বলল তাহলে তুই আল্লার দেয়া জিনিস নিবি না বাবা…. আমি বললাম আল্লাহ দিলে তো নিতেই হবে।

এবার হল আসল কথা……
বলল আল্লাহর দেয়া এই জিনিস নিতে হলে তোকে ৫টি শর্ত পালন করতে হবে বাবা…। তুই কী ৫টি শর্ত পালন করতে পারবি বাবা……? আমি বললাম আপনি বলুন। আমাকে সতর্ক করে দেয়া হল যে.. এসব কথা যেন আমি কোন মানবকুলকে না বলি। আমি বললাম আচ্ছা।

জীনের ৫টি শর্ত>
প্রথম শর্ত হল নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পারবি বাবা….
আমি খুশী মনে বললাম….আমি তো নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি।

দ্বিতীয় শর্ত হল কখনো মিথ্যা কথা বলতে পারবি না বাবা….
আমি বললাম..আমি তো মিথ্যা কথা বলিনা। চেষ্টা করি সবসময় সত্যনিষ্ট হয়ে থাকার। আর বললাম আল্লাহ মিথ্যাবাদীকে পছন্দ করে না। আমি খুব খুশী ভাব দেখালাম এত সহজ প্রশ্ন দেখে।

এবার শোন বাবা তোর দ্বিতীয় প্রশ্ন (মনে হয় সেও খেই হারিয়ে ফেলেছে) সাথে সাথে বলল দ্বিতীয় না তৃতীয় প্রশ্ন..…..তুই ফকির মিসকিন কে খাওয়াবি। ফকির মিসকিকে খাওয়ানোর পুন্য সম্পর্কে কিছু লেকচার দিল।
আমি বললাম এই শর্তটা আমি পুরন করতে পারব। সাথে এও বললাম যে, আমার আব্বার মৃত্যুবার্ষিকী সামনে। আমরা সাধ্যমত ফকির মিসকিন খাওয়াই।

এবার ৪র্থ শর্তটা বলল (শর্তটার কথা ভুলে গিয়েছি, তবে তা সহজ ছিল নিশ্চই বুঝতে পারছেন)

এবার শোন তোর ৫ম প্রশ্ন……আল্লাহর এ পবিত্র মাজারে তুই কালকে একটি কোরআন শরীফ দিবি বাবা..…
আমি সাথে সাথে বললাম আমাদের বাসায় অতিরিক্ত কোরআন শরীফ আছে। আমি দিতে পারব।
সাথে সাথে জীন বলল কোরআন শরীফের সাথে একটি জায়নামাজ দিতে হবে। আমি বললাম দিতে পারব (অর্থাৎ আমার উদ্দেশ্য হল কোন সবকিছুতেই সায় দেয়া)।

এবার বলল কোরআন শরীফ আর জায়নামাজ কালকের মধ্যে পবিত্র মাজারে দিতে হবে। আমি বললাম কালকের মধ্যে দিতে হবে? জীন বলল.. হ্যা কালকের মধ্যে দিতে হবে। আমি একটু আনমোনা হবার ভাব দেখালাম..এবং একটু পরে বললাম আমার অফিসে এক কলিগ আছে সে বগুরায় থাকে (এটুকু মিথ্যা বলেছি)। আমি তাকে তার মাধ্যমে পাঠাতে পারব।

এবার বলল তোকে না বলেছি মানব জাতির সাথে এ বিষয়ে কোন কথা বলবি না। তাহলে তুই তোর কলিগকে বলবি কেন?
আমি বললাম…..তাকে তো তাকে বলবনা। শুধু বলব আমি মানত করেছি যে, ওমুক মাজারে শুধু কোরআন শরীফ আর জায়নামাজ দিব। একটু ব্যবস্থা করে দিতে হবে।

বারবার শুধু বলতে থাকল কালকের মধ্যে পারবি তো বাবা…। আমিও হাল ছাড়ছি না। বললাম পারব।
আর জীনের সাথের লোকজন তো বুঝতে পারছে যে এখানে বিশেষ সুবিধা হবে না। একটু একটু আওয়াজ পাচ্ছিলাম। আমি শুধু বলে যেতে লাগলাম পারব..পারব এবং লাইন কেটে গেল।

এ বিষয়টা নিয়ে কলিগদের মধ্যে কথা বলতে গেলে তাদের একজন বলল যে, তার আম্মার মোবাইলে একধরণের স্বরে ফোন এসেছিল। তার মা তাকে ফোনটি দিলে আমার কলিগ সাথে সাথে ফোনটি স্পিকার মোডে দিয়ে অন্য মোবাইল থেকে তার অল্প কিছু ভিডিও করে নেয়(যদিও শুধু অডিও করার কথা, তাড়াহুড়ায় ভিডিও করেছে ৩জিপি ফরমেট)। আমি সাথে সাথে বললাম আছে। ব্লুটুথ ছিল তাই দিতে পারলাম। আমার ফোনে ঠিক একই ধরণের টাউট ফোন করেছিল।

About মোঃ নূরুজ্জামান খান (সালেহীন)

একটি উত্তর দিন