মিডিয়া পাড়ায় অস্থিরতা, ফোকাস বাংলায় ১ মাসে চাকুরী ছেড়েছেন ২০ সাংবাদিক

নতুন নতুন মিডিয়ার আগমনে মিডিয়া পাড়ায় এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বেশ কিছু নতুন বার্তা সংস্থা, দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা এবং টিভি চ্যানেলের আগমনে বর্তমানে প্রায় সব মিডিয়াতেই সাংবাদিকদের এক মিডিয়া ছেড়ে অন্য মিডিয়ায় যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। জনপ্রিয় বার্তা সংস্থা ফোকাস বাংলা নিউজে এ অস্থিরতা একটু বেশিই বলা যায়। গত এক মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২০ জন সাংবাদিক ফোকাসবাংলা ছেড়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় যোগ দিয়েছেন। হঠাৎ এ অস্থিরতার কারণে জনপ্রিয় এ সংবাদ সংস্থাটি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে নিয়িমিত নিউজ আপেডেটও বন্ধ রয়েছে। ফোকাস বাংলার ওয়েবসাইট সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর বিকাল ৫টায় ভিজিট করে দেখা যায় ১৩ অক্টোবরের আপডেটকৃত সংবাদগুলো এখনো প্রদর্শিত হচ্ছে।

নতুন ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে ২০০৪ সালে ফোকাসবাংলা ফটো সার্ভিস দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু করে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এ সার্ভিস ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং ফোকাস বাংলা ফটো এজেন্সি হিসাবে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরী করে নিতে সক্ষম হয়। এখানে উল্লেখ্য, ভিডিও ফুটেজ প্রেরণের জন্য এফটিপির ব্যবহার ফোকাসবাংলার হাত ধরে শুরু হয়েছে ফলে শুধু প্রিন্ট মিডিয়াগুলো যেমন ফটোর জন্য ফোকাস নির্ভর হয়ে উঠে তেমনি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াগুলোও ভিডিও ফুটেজ এর জন্য সেসময় ফোকাস বাংলার উপর নিভর্র করত। ২০০৮ সালে ফোকাসবাংলা ফটোর পাশাপাশি নিউজ সার্ভিসও চালু করে। একঝাঁক তরুণ সংবাদকর্মীর কর্মতৎপরতায় প্রতিষ্ঠানটি আরো একধাপ এগিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ও ব্যতিক্রমধর্মী সংবাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মিডিয়াঙ্গনে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তা আর ধরে রাখতে পারছে না।

গত একমাসে এ প্রতিষ্ঠানে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সাংবাদিকদের চাকুরি ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে বর্তমানে ফোকসবাংলার কর্মকাণ্ডে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট খুললেই তার প্রমাণ মেলে। ২০ জন সাংবাদিক ছাড়াও ডেস্কে কর্মরত একদল কর্মীও ফোকসবাংলা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ফোকসবাংলা ছেড়ে চলে যাওয়াদের মধ্যে, সেলিয়া সুলতানা ও মোহাম্মদ জুয়েল একুশে টিভিতে, শরীয়ত উল্যাহ, এজাজুল হক মুকুল ও জাহিদুর রহমান শীর্ষনিউজে , সৈয়দ সাইফুল ইসলাম আমাদের সময়ে, আবু হানিফ রানা ও ইয়াছিন এলাহি বার্তা২৪ডটনেটে, রাসেল আহমেদ আরটিভিতে, মোয়াজ্জম হোসেন শাকিল নিউজবিএনএ’তে, আব্দুল্লাহ মুয়াজ ও শাহীন আলম আজকালের খবরে, মাসুম বিল্লাহ বিডিনিউজ২৪ডটকমে, মর্তুজা জিহাদ নিউজএন্ডইমেজেসে, ইকরাম হোসেন দি-সানে, রুমেল ওএমএসে।

এছাড়া সর্বশেষ আব্দুল্লাহ আল কাফী ও হামিদ বিশ্বাস চাকুরি ছেড়েছেন। তবে তারা এখনো কোথাও যোগ দেননি। এর কয়েকমাস আগে ফোকাসবাংলার বার্তা সম্পাদক খায়রুজ্জামান কামাল ও মফস্বল সম্পাদক নাসিরুদ্দিন কাবুল ফোকাসবাংলা ছাড়েন।

হঠাৎ কেন এ অস্থিরতা? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চাকুরী ছেড়ে দেয়া কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ কর্মকর্তার খামখেয়ারীপনা এবং অব্যবস্থপনাকে দায়ী করেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফোকাস বাংলার এক কর্মকর্তা জানান, সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিলেও ফোকাসবাংলা আবার ঘুরে দাঁড়াবে। নতুন সংবাদকর্মীদের সমন্বয়ে শীঘ্রই নতুন একটি টিম গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি ফোকাস বাংলা তার পূর্বের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে।

http://www.amadermedia.com.bd/index.php?cmd=details_lead&id=1383

About ডিজিটাল বাংলাদেশ

একটি উত্তর দিন