গ্রাফিনের চেয়ে শক্তিশালী পদার্থ এখনো তৈরি বা আবিষ্কৃত হয়নি

কার্বনেরই একটি ভিন্ন রূপ গ্রাফাইট। পেনসিলের সীস হিসেবে এই গ্রাফাইট ব্যবহূত হয়। এটি বিদ্যুৎ পরিবাহী। এই গ্রাফাইটকেই আরেকটু পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়েছে গ্রাফিন। গ্রাফিনের প্রথম গুণ হলো, এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সব মৌল ও যৌগের মধ্যে গ্রাফিনই সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ পরিবাহী। ফলে কম্পিউটারে সিলিকন চিপের বদলে গ্রাফিন ব্যবহার শুরু হলে কম্পিউটারের গতি কমপক্ষে শতগুণ বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে মহাকাশ, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, অর্থনীতি ও পরিসংখ্যানের বিভিন্ন গবেষণায় এই উচ্চগতির কম্পিউটার ব্যবহার বিজ্ঞানীদের কাজকে আরও সহজ করে দেবে।
গ্রাফিন কিন্তু সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পদার্থ। এ ছাড়া এটি অনেক স্বচ্ছ। এর এই স্বচ্ছতাই প্রকৌশলীদের উৎসাহিত করছে ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের যন্ত্রে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে। সবচেয়ে সূক্ষ্ম হওয়ায় মনিটরের রেজ্যুলেশন হবে এখনকার চেয়ে অনেক বেশি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের স্পর্শকাতর পর্দা (টাচস্ক্রিন) তৈরির প্রধান উপাদান হবে গ্রাফিন। নিখুঁত ছবির পাশাপাশি গ্রাফিন অতি সূক্ষ্ম স্পর্শও গ্রাফিনের স্তর শনাক্ত করতে পারে।
প্রসেসর গরম হয়ে যাওয়া ঠেকানো বর্তমানে কম্পিউটার প্রকৌশলীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গুগল তার সার্ভার সমুদ্রের নিচে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যেন সার্ভার ঠান্ডা থাকে। কম্পিউটারে সিলিকন চিপ ও অন্যান্য উপাদানের জায়গায় গ্রাফিন ব্যবহূত হলে কম্পিউটার ঠান্ডা থাকবে। কারণ, গ্রাফিন খুব ভালো তাপ পরিবাহী। ফলে কম্পিউটার সহজেই তাপ ছেড়ে দিতে পারবে। এখন যেমন কিছুক্ষণ ব্যবহারের পরই ল্যাপটপ গরম হয়ে যায়, তখন আর এটা হবে না। গ্রাফিন যে শুধু ভালো তাপ ও তড়িৎ পরিবাহী তা-ই নয়, অত্যন্ত শক্তিশালীও বটে। গ্রাফিনের চেয়ে শক্তিশালী পদার্থ এখনো তৈরি বা আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে গাড়ি, উড়োজাহাজ এবং সোলার সেলে গ্রাফিনকেই বেছে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রাফিন অনেক হালকা। ফলে গ্রাফিন দিয়ে তৈরি যান চালাতে কমে আসবে জ্বালানি-খরচও। গ্রাফিন নিয়ে জীববিজ্ঞানীরাও গবেষণা শুরু করে দিয়েছেন। গ্রাফিন অক্সাইড ইতিমধ্যেই অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। চীনে তাই খাবার সংরক্ষণে এই গ্রাফিন অক্সাইড ব্যবহূত হচ্ছে।
গ্রাফিনের ব্যবহার ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আইবিএমের প্রকৌশলীরা সিলিকন ট্রানজিস্টর বাদ দিয়ে গ্রাফিন ট্রানজিস্টর উৎপাদন শুরু করেছেন। এ ছাড়া স্যামসাং তৈরি করছে প্রিন্টেড গ্রাফিন ইলেকট্রোড, যা হয়তো আর কিছুদিন পরই চলে আসবে মোবাইল ফোনের টাচ্ স্ক্রিনে। এই তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রকৌশলে ভবিষ্যতের প্রধান উপাদান গ্রাফিন তৈরির জন্য চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেলেন রাশিয়ার অধ্যাপক আন্দেই কন্সতান্তিনোভিচ গেইম ও অধ্যাপক কন্সতান্তিন সের্গিয়েভিচ নোভাসেলোভ। ৫ অক্টোবর2010 নোবেল কমিটি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলপুরস্কার বিজয়ী হিসেবে তাঁদের নাম ঘোষণা করে।গেইম ও নভোসেলভের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। সঙ্গে গ্রাফিন-জগৎকে স্বাগত।
সুত্র-[link|http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-10-08/news/99631|প্রথম আলো ]

About জুয়েল ফুজি

একটি উত্তর দিন