পোস্টটি উবুন্টু ১০.০৪ লুসিড লিংক্স থেকে লেখা :D আমার প্রাথমিক বিশ্লেষণ

পোস্টটি উবুন্টু ১০.০৪ লুসিড লিংক্স থেকে লেখা :D আমার প্রাথমিক বিশ্লেষণ

[link|http://www.somewhereinblog.net/blog/Aminul_Islamblog/29106449|উবুন্টুতে পদার্পণ] নিতান্ত শখের বশে। হঠাৎই একদিন মনে হলো শখের ডেস্কটপ কম্পিউটারে একটু নতুন স্বাদ যোগ করি। যেই কথা সেই কাজ। উবুন্টুর সাইট থেকে সিডির অর্ডার দিলাম। অর্ডার দেয়ার পর কিছুদিন উর্ধ্বশ্বাসে অপেক্ষায় রইলাম সিডি আসার, যদিও তিন সপ্তাহের আগে আসার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। এরই মধ্যে পরিকল্পনা হলো কক্সবাজার যাবার। ব্যস! ভুলে গেলাম উবুন্টুর কথা; [link|http://www.somewhereinblog.net/blog/Aminul_Islamblog/29147970|ঘুরে এলাম কক্সবাজার] । কক্সবাজার থেকে এসেই হাতে পড়লো উবুন্টু ৯.১০। সোজা ইন্সটল। কিছুদিন মাতামাতি। পরে সব শেষ।

এরমাঝেও প্রায়ই উবুন্টু ব্যবহার করেছি। বিশেষ করে যখন বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে এক্সপি ডিস্টার্ব দিচ্ছিলো, তখন কাজ করতে উবুন্টু লাইভ সিডি দারুণ কাজে এসেছে। এই বৈশিষ্ট্যটার জন্য উবুন্টুর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। 🙂

যাই হোক, এবার মূল কথায় আসি। উবুন্টু লুসিড লিংক্স মুক্তি পেয়েছে শুনেই ডাউনলোড দিয়েছিলাম। আজ ডাউনলোড সম্পন্ন হলো। উবি দিয়ে ইন্সটল করলাম (কারণ পার্টিশনিংয়ের ঝামেলা পারি না 🙁 )। এবারে আসি আমার মতামতে।

নিঃসন্দেহে উবুন্টু লুলি ( :D:D ) -তে গ্রাফিক্সে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এছাড়াও সফটওয়্যার সেন্টারও একটু ইমপ্রুভড দেখা যাচ্ছে। আসুন পয়েন্ট আকারে দেখা যাক লিনাক্স পরিবারের নতুন সংযোজন উবুন্টু ১০.০৪ লুলি-তে আমার কী ভালো লাগলো আর কী কী ভালো-মন্দ কোনোটাই লাগেনি।

ভালো লাগলো…

# গ্রাফিক্স। বুটটাইমে অবশ্য তেমন কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি। কেননা ডুয়েল বুট হওয়ায় উবুন্টু সিলেক্ট করার পর কত সময় নেয় তা বোঝা যায় না। এছাড়া কারমিক কোয়ালাও একই সময় নিয়েছিল আমার পিসিতে।

# মি মেনু; যেটা পর্দার উপরের ডান কোণায় পাওয়ার মেনুর সঙ্গে থাকে। বিভিন্ন চ্যাট সেবায় লগইন করার সুবিধা কারমিক কোয়ালায় থাকলেও, লুলি-তে এর ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। আমি এটার প্রেমে পড়ে গেছি। ইশ্! কোনোভাবে যদি এটাকে উইন্ডোজে নিতে পারতাম। 🙁

কেউ কোনো মেসেজ পাঠালেই তা পপ আপ হবে পর্দার উপরের ডান কোণায়।

# ওয়ার্কস্পেস দু’টি থেকে বাড়িয়ে চারটি করা হয়েছে। তবে এটা নাকি আগের সংস্করণেও বাড়ানো-কমানো যেত বলে শুনেছি।

# সফটওয়্যার সেন্টার। আগের চেয়ে সহজে সফটওয়্যার ইন্সটল করা যায় বলে মনে হয়।

# সিডি/ডিভিডি বার্ন। এই কাজের জন্য ডিফল্ট একটা দারুণ কার্যকরী সফটওয়্যার দিয়েছে উবুন্টু লুলি। এই সফটওয়্যারটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। সহজ, দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব। ইমেজ/বুটেবল ডিস্কও তৈরি করা যায়। এছাড়াও ব্ল্যাঙ্ক ডিস্ক প্রবেশ করালেই কমান্ড উইন্ডো আসে যেখান থেকে আপনি সরাসরি বার্ন করতে পারবেন, সফটওয়্যার খুঁজে বের করার সময় বাঁচবে। 😉

# (ফাও!) মিনিমাইজ/ম্যাক্সিমাইজ/ক্লোজ বাটনগুলো বাম পাশে নেয়া। অদূর ভবিষ্যতে ম্যাকে মুভ করার ইচ্ছে আছে। এগুলো থেকে তাড়াতাড়ি ক্লোজ/মিনিমাইজ করার অভ্যাসটা গড়ে উঠবে। 😉

যা ভালো লাগেনি…

# এখনো মিডিয়া ফাইলগুলো চালাতে প্লাগইন-এর দরকার হয়। কোনো ফরম্যাটের মিডিয়া ফাইলই চালাতে পারে না উবুন্টু। আমার এটা চরম অপছন্দ। এভিআই, এফএলভি ইত্যাদি ফরম্যাটের ভিডিও উইন্ডোজও চালাতে পারেনা বাড়তি সফটওয়্যার ছাড়া (ব্যতিক্রমঃ উইন্ডোজ ৭)। কিন্তু অন্যান্য ফরম্যাটগুলো দিব্যি মিডিয়া প্লেয়ারে চলে। কিন্তু উবুন্টু এখনো প্লাগইন অথবা আলাদা সফটওয়্যার ইন্সটল না করলে চালানো যায় না।

# (এখন পর্যন্ত এই পয়েন্টে আর কিছু পাইনি। পেলে সঙ্গে সঙ্গে যোগ করা হবে। 😉 )

একটি সমস্যাঃ উবুন্টুতে বাংলা লেখা নিয়েই সমস্যায় আছি। অভ্র ইন্সটল করা গেলেও আমি “বিজয়/ইউনিবিজয়” মোড ছাড়া লিখতে পারি না। তাই এই সমস্যার কারণে স্থায়ীভাবে উবুন্টুতে থাকা সম্ভব হয় না।

একটি প্রত্যাশাঃ আমি বিশ্বাস করি, শিগগিরই উবুন্টুর এমন সংস্করণ বের হবে যাতে টার্মিনাল ব্যবহারের প্রয়োজনই পড়বে না। প্রতিটি রিলিজে উবুন্টু যেভাবে সহজ থেকে সহজতর হচ্ছে, এতে করে আমার মনে হয় এক সময় সাধারণ মানুষ উইন্ডোজ থেকে উবুন্টুকেই ভালোবাসবেন। তবে আমার মতে, মানুষকে উবুন্টুতে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে, তবে উইন্ডোজের বদনাম করে নয়। উইন্ডোজ থেকে এখনো বহুলাংশে পিছিয়ে আছে উবুন্টু। তাই উবুন্টু ব্যবহারে উৎসাহিত করুন তবে উইন্ডোজের সঙ্গে তুলনা করে নয়।

মনে রাখবেন, উবুন্টু একটি আলাদা সত্ত্বা। :D:D

সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। সুন্দর থাকুন।
আর লিনাক্সড থাকুন। B-)

[link|http://aisajib.wordpress.com/2010/05/04/ubuntu-lucid-lynx/|ওয়ার্ডপ্রেস বাংলায় প্রকাশিত]

About আমিনুল ইসলাম

One comment

  1. ভাই উবুন্টু একটা ওপেনসোর্স ডিস্টো তাই ক্লোজসোর্স ভিডিওগুলো চালানোর জন্য কোডেক ইন্সটল করার দরকার পরে। আপনি আই বাস দিয়ে খুব সহজে ইউনিজয় দিয়ে লিখতে পারেন। যদি টিউটরিয়াল দরকার হয় [link|http://jamal919.wordpress.com/2010/04/20/writting-bangla-in-ubuntu-unijoy-bijoy-layout-using-ibus/|এখানে দেখতে পারেন।] বারসো ডিস্ক বার্না উবুন্টুতে আগে থেকেই আছে। আর যার সাধারন ব্যবহার কারী তাদের টারমিনাল ব্যবহার না করলে চলে কিন্তু লিনাক্স এর মুল শক্তি হচ্ছে এই টামিনাল। এখানেই একজন উইন্ডোজ ব্যবহার করির সাথে পার্থক্য তৈরী করে।

  2. ভাই উবুন্টু একটা ওপেনসোর্স ডিস্টো তাই ক্লোজসোর্স ভিডিওগুলো চালানোর জন্য কোডেক ইন্সটল করার দরকার পরে। আপনি আই বাস দিয়ে খুব সহজে ইউনিজয় দিয়ে লিখতে পারেন। যদি টিউটরিয়াল দরকার হয় [link|http://jamal919.wordpress.com/2010/04/20/writting-bangla-in-ubuntu-unijoy-bijoy-layout-using-ibus/|এখানে দেখতে পারেন।] বারসো ডিস্ক বার্না উবুন্টুতে আগে থেকেই আছে। আর যার সাধারন ব্যবহার কারী তাদের টারমিনাল ব্যবহার না করলে চলে কিন্তু লিনাক্স এর মুল শক্তি হচ্ছে এই টামিনাল। এখানেই একজন উইন্ডোজ ব্যবহার করির সাথে পার্থক্য তৈরী করে।

একটি উত্তর দিন