দেশজুড়ে শুরু হলো নকিয়ার ‘অভিযান’ কর্মসূচি

দেশজুড়ে শুরু হলো নকিয়ার ‘অভিযান’ কর্মসূচি


বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা-শহরের স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মকে ইন্টারনেট জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং হাতেনাতে ইন্টারনেট ব্যবহার শিক্ষা দেয়ার নতুন এক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে নকিয়া। ‘অভিযান’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় ইন্টারনেটে সংযুক্ত পাঁচটি কম্পিউটার সম্পন্ন দুটি সাইবার বাস দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে এই ‘অভিযান’ সম্পন্ন করবে বলেই জানা গেছে। বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে নকিয়া আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্স ও কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নকিয়া ইমার্জিং এশিয়ার জেনারেল ম্যানেজার প্রেম চাঁদ, হেড অফ মার্কেটিং সহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে প্রেম চাঁদ বলেন, ‘আমাদের প্রয়োজন ইন্টারনেট বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে জ্ঞান বৃদ্ধি করা। কেননা, উন্নত বিশ্ব প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের কল্যাণে। বাংলাদেশে বর্তমান প্রজন্ম ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে দারুণ আগ্রহী। তাদের প্রয়োজন শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। তৃণমূল পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে নকিয়ার রয়েছে ধারাবাহিক কার্যক্রম।’

বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যক্রমকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতেই নকিয়া এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ‘অভিযান’ নামের এই কার্যক্রমের সূচনা করতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, ব্যতিক্রমী এই কার্যক্রমের আওতায় ইন্টারনেটে সংযুক্ত পাঁচটি কম্পিউটারসহ আধুনিক সাজে সজ্জিত দুটি সাইবার বাস দেশের ৪১টি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় যাত্রা করবে। বিভিন্ন শহরে এবং জেলায় এগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রযুক্তিগত স্বাক্ষরতা অর্জনের সুবিধা দিতে ইন্টারনেটের ব্যাপকতা সম্বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং হাতেনাতে শিক্ষা দিয়ে তাদেরকে ইন্টারনেট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবে।

প্রেম চাঁদ আরো বলেন, ‘আমাদের প্রধান টার্গেট হবে উক্ত জেলাসমূহের স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইন্টারনেটের জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়া।’

প্রেম চাঁদ জানান, সাইবার বাস দুটিতে পাঁচটি নকিয়া মোবাইল সেট পাঁচটি কম্পিউটারকে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত রাখবে। এছাড়াও এগুলোর উপরে সোলার প্যানেল বা সৌর শক্তি উৎপাদকও বসানো থাকবে, যার মাধ্যমে ভেতরের কম্পিউটার, মোবাইল সেট ইত্যাদির জন্য শক্তি উৎপাদন করা হবে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ইন্টারনেটের বিবর্তন ও গুরুত্ব সম্বন্ধীয় একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয় যেখানে ইন্টারনেট সম্পর্কিত নানা গুরুত্বপূর্ণ ও চমকপ্রদ তথ্য উপস্থাপিত হয়। ভিডিওচিত্রটিতে দেখানো হয়েছে, ৫০ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছতে রেডিওর লেগেছিলো ৪১ বছর আর টেলিভিশনের লেগেছিলো ১৩ বছর। অথচ একই সংখ্যার মানুষের কাছে পৌঁছতে ইন্টারনেটের লেগেছে মাত্র চার বছর এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের লেগেছে দুই বছর।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৮টি বিয়ের মধ্যে ১টির বেলায় পাত্র-পাত্রীর পরিচয় ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ঘটে থাকে। এ থেকেই বোঝা যায় ইন্টারনেট বর্তমান বিশ্বে কতটা প্রয়োজনীয় ও এর ব্যবহার কতটা প্রসারিত।

জানা গেছে, নকিয়ার সাইবার বাস দুটি ১৮ অক্টোবর ২০০৯ তারিখ থেকে দিনাজপুরের পঞ্চগড় এবং কক্সবাজার থেকে ভিন্ন ভিন্ন পথে যাত্রা শুরু করে ১২ই জানুয়ারি ২০১০ তারিখে ঢাকায় এসে মিলিত হবে। প্রতিটি শহরে বা জেলায় ৩ থেকে ৪ দিন অবস্থান করবে এগুলো। প্রথমে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে স্থান নির্দিষ্ট করে বিষয়টি জানানোর জন্য একটি সভারও আয়োজন করা হবে। এই সভায় জেলা প্রশাসক, স্থানীয় স্কুল বা কলেজের অধ্যক্ষ, চেম্বার অফ কমার্স, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। স্কুল সময় শেষ হলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কোনো জায়গাতেই সাইবার বাসটি রাখা হবে যেখানে তা সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এছাড়াও বিভিন্ন টক শো’র আয়োজন করে তা টিভি চ্যানেল এবং রেডিওতেও প্রচারেরও ব্যবস্থা করবে নকিয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান নকিয়ার এই “অভিযান” শীর্ষক অভিযানের প্রশংসা করেন এবং এর সাফল্য কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজার প্রেম চাঁদ প্রতিমন্ত্রীকে ‘অভিযান’ এর যাত্রা শুরু উপলক্ষে একটি স্মারক প্রদান করেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী সুইচ টিপে পর্দা উন্মোচন করে ‘অভিযান’ এর একটি সাইবার বাস উন্মোচন করেন। এরপর অতিথিবৃন্দ এবং উপস্থিত সাংবাদিকরা একে একে অত্যাধুনিক পরিবেশে সজ্জিত সাইবার বাস পরিদর্শন করেন।

বিডিনিউজ থেকে—

About হাশেম দেওয়ান