এশীয় প্রবাসীদের মাঝে বাংলাদেশীরা সবচেয়ে বেশী অনলাইনে বা মোবাইলে কথা বলে

পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা ও ফিলিপাইনের অভিবাসী শ্রমিকদের চেয়ে বাংলাদেশের অভিবাসীদের দেশে টেলিফোনে কথা বলার হার বা প্রবণতা বেশি। এ জন্য তারা মাসে গড়ে ৪৮ ডলার করে ব্যয় করে।
তথ্যপ্রযুক্তি নীতি সংক্রান্ত আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়া পরিচালিত ‘টেলিইউজ অ্যাট বিওপিথ্রি’ শীর্ষক এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার ঢাকায় এক হোটেলে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতকরা ৮৭ ভাগ বাংলাদেশী অভিবাসী সপ্তাহে কমপক্ষে একবার দেশে ফোনে কথা বলেন। আর প্রতিদিন কথা বলেন শতকরা ৩৪ ভাগ।
লার্ন এশিয়ার চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. রোহন সমরজিভ জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আবু সাঈদ খান।

ড. রোহন জানান, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের (শুধু অভ্যন্তরীণ) দেড় হাজারের বেশি বিদেশি (ওভারসিজ) ও অভ্যন্তরীণ (ডমেস্টিক) অভিবাসীর ওপর ‘বটম অব দ্য পিরামিড’ এ জরিপটি চালানো হয়।

জরিপে দেখা গেছে, গড়ে বাংলাদেশী অভিবাসীরা দেশে তাদের পরিবার ও বন্ধুদের পেছনে কথা বলতে মাসে ৪৮ মার্কিন ডলার খরচ করেন। অপরদিকে ভারতীয় অভিবাসীরা এ খাতে খরচ করেন গড়ে ১৫ মার্কিন ডলার।

জরিপের অভিবাসীরা প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য এবং পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় কাজ করেন। গড়ে তারা মাসে ৪৮৫ মার্কিন ডলার আয় করেন এবং বাড়িতে পাঠান ২০৩ ডলার। বাড়িতে যোগাযোগে টেলিফোনই জনপ্রিয় মাধ্যম। অবশ্য অন্য দেশের অধিবাসীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ (শতকরা ২৮ ভাগ) ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন।

জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মোবাইলের মাধ্যমে বাড়িতে টাকা পাঠান। বাংলাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা আদান-প্রদানের নিয়ম নেই। তারপরও দেখা গেছে, অনেকে ‘ফ্লেক্সি-লোড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়িতে টাকা পাঠাচ্ছেন।

প্রায়ই দেখা যায়, পরিবারের কাছে টাকা পৌঁছাতে অভ্যন্তরীণ অভিবাসীরা তাদের গ্রামের বাড়ির ফ্লেক্সি-লোড বিক্রেতার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এ জন্য ২০ শতাংশ টাকা কেটে রাখা হয়।

জরিপে জানানো হয়, একমাত্র ফিলিপাইনে মোবাইলের মাধ্যমে রেমিটেন্স সেবা বিদ্যমান থাকলেও খুব কম সংখ্যক মানুষ এ সেবা নেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অভিবাসী শ্রমিকরা গড়ে মাসে ৪৮ মার্কিন ডলার আয় করেন এবং বাড়িতে পাঠান ২৭ ডলার।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘টেলিইউজ অ্যাট দ্য বটম অব দ্য পিরামিড’ একটি ধারাবাহিক জরিপ। এক্ষেত্রে অনেকগুলো দেশের নিম্ন আয়ের মানুষেরা কীভাবে তাদের জীবনে টেলিযোগাযোগ এবং অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করেন তা নিয়ে গবেষণা করা হয়।

ধারাবাহিক এই জরিপের তৃতীয় গবেষণা টেলিইউজ অ্যাট বিওপিথ্রি। ২০০৮ ও ২০০৯ সালের মধ্যে এটি চালানো হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো এতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=2&id=52800

About শিরোনাম

৯ comments

  1. তবে এটাও সত্যি যে বাঙ্গালীরা ঘরকুনো মানুষ। তাদের হৃদয় নরম

  2. তবে এটাও সত্যি যে বাঙ্গালীরা ঘরকুনো মানুষ। তাদের হৃদয় নরম

  3. তবে এটাও সত্যি যে বাঙ্গালীরা ঘরকুনো মানুষ। তাদের হৃদয় নরম।

    ধন্যবাদ আপনাকে।

  4. তবে এটাও সত্যি যে বাঙ্গালীরা ঘরকুনো মানুষ। তাদের হৃদয় নরম।

    ধন্যবাদ আপনাকে।

একটি উত্তর দিন