খুব কাছে থেকে মৃত্যূকে দেখা:)

জীবন জীবিকার তাগিদে গত ১২ জুন ২০০৯ রাতে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহের মহেশপুর রওনা হওয়ার কথা থাকলে ও দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে ১৩ জুন সকালে ঢাকার গাবতলী থেকে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। বরাবরের মত স্বাভাবিক গুতিতে শুরু যাত্রা অব্যাহত রাখল আমাদের বাস।বেলা ১২ টার দিকে আমরা এসে পৌছলাম পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে, কিন্তু ঘাট কোথায়। বাস থেকে নেমে একটু উকি ঝুকি দিয়ে বুঝলাম আমরা পাটুরিয়া ঘাট থেকে ৫ কি:মি: দূরে আছি। এর পর শুরু হলো অপেক্ষার পালা, সময় যায় আর এক পা দু’পা করে এগোয় আমাদের গাড়ি। গরমে ততক্ষনে আমাদের সবার গোসল কয়েকবার হয়ে গেছে, নিজেদের কাছে রক্ষিত সব বোতলজাত পানি ও শেষ। নতুন করে আর ও পানি কিনে নিলাম, মাঝে মধ্যে কোক, চা যার যা মন চায় খেতে শুরু করলাম। অবশেষে, দুপুর ৩:১৫ তে আমাদের বাস ফেরিতে উঠল, যেন হাফ ছেড়ে বাচলাম আমরা, পৌনে চারটায় আমরা নদী পার হয়ে এপার এলাম। ফেরি থেকে নেমে আমাদের পাইলট! যেন বেপরোয়া হয়ে উঠল। ফেরি পার হয়ে ১০ কি ১১ কি:মি: রাস্তা পার হয়েছি হঠাৎ প্রচন্ড এক ঝাকুনী খেলাম, সামনে তাকিয়ে দেখি অপর একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রনে আনতে হিমশিম কাচ্ছে আমাদের পাইলট 🙂 । মুহুর্তে কর্তব্য স্থির করে ফেললাম। আমার প্রিয় ল্যাপটপ এর ব্যাগটা গলায় ঝুলিয়ে সিটের উপরের বাঙকার ধরে ঝুলে পড়লাম আমি আর তখনই আমাদের গাড়ি রাস্তা ছেড়ে পাশের খাদে এবং গড়িয়ে চাকা উপরের দিকে আর ছাদে মাটিতে। আর্ত চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠলো। আমার সহযাত্রী কয়েকজন তখন মারাত্নক আহত। আমার মাথায় এবং কোমরে বেশ লাগল। অনেক কষ্টে বাসের ভিতর থেকে বের হলাম, ততক্ষনে আমার মোবাইল সেট দু’টি যে কোথায় গেছে বলতে পারব না। এলাকাবাসী ছুটে এল উদ্ধার তৎপরতায়, কিন্তু আহতদের উদ্ধার যতটা না হলো তার থেকে বেশী হলো লুটপাট। একটু পর যখন পুলিশ এলো ততক্ষনে আমার দুই আসন সামনে বসে থাকা একজন মহিলা এবং অন্য এক আসনে থাকা একটা বাচ্চা (১০) এ জীবনের মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে অন্য জগতে। এরপর যথারীতি প্রাথমিক চিকিৎসা ও পুলিশী ঝামেলা শেষ করে অন্য গাড়িতে করে আবার ও রওনা হলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। কিন্তু তখন আমার রসদ, কাপড় চোপড়, মোবাইল, ক্যামেরা অন্য কারো দখলে।
এদিকে অফিস থেকে ফোন করে আমাকে না পেয়ে অফিসের সবার মাথা খারাপ হবার উপক্রম, ঝিনাইদহের স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করে ও আমার কোন আপডেট না পেয়ে অফিসের অবস্থা কি হয়েছে তা বোঝা কঠিন কিছু নয়। সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ পৌছে সবার আগে একটি মোবাইল সেট কিনলাম এবং পকেটে থাকা অতিরিক্ত সিম ব্যবহার করে অফিসে এবং বাসায় আমার আপডেট জানিয়ে আবার রওনা হলাম স্থানীয় অফিসের উদ্দেশ্যে। গন্তব্যস্থানে পৌছে যেন জীবন ফিরে পেলাম আমি:)।
এ ভ্রমনে এসে আবার ও উপলব্ধি করলাম ফিরোজ সাইয়ের সেই বিখ্যাত গান,
“এক সেকেন্ডের নাইরে ভরসা………” ।

About দূর্ভাষী

একটি উত্তর দিন