আজ থেকে বরিশালে শুরু হয়েছে ৫ দিনব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি প্রদর্শনী বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো বরিশাল ২০১২


জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে ধান, নদী ও খালের বিভাগীয় শহর বরিশালের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার মেলা ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো বরিশাল ২০১২’। বসন্তের প্রথম প্রহরে তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তি খাতের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, বরিশাল শাখা এবং আইসিটি বিজসেন প্রমোশন কাউন্সিল (আইবিপিসি) যৌথভাবে এই প্রর্দশনীর আয়োজন করেছে। ১৩-১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ক্লাবে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রর্দশনীর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ডিজিটাল শিক্ষাই ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি’।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব মো: শওকত হোসেন হিরন বরিশাল ক্লাবে সকাল ১০.৩০ মিনিটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি জনাব এস.এম ইকবাল, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি জনাব মো: ফয়েজউল্যাহ্‌ খান এবং সমিতির সহ-সভাপতি জনাব মো: মইনুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বরিশাল সিটি মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, বরিশালে এ ধরনের প্রদর্শনীর এখানকার জনগণের জন্যতো অবশ্যই এমনকি বরিশালের তরম্নণ শিক্ষার্থীদের জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের এ যুগে নদীমাতৃক বরশিালে বিসিএস এর এ আয়োজন নদী অঞ্চলের তৃণমূল মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তির সংস্পর্শে নিয়ে আসা এবং এসবের ব্যবহার বিধি সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করবে। প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পুরো দেশ আজ অগ্রগামী হচ্ছে, সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারে কর্মসম্পাদনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচিকে বাস্তবায়নের রূপরেখায় উন্নীত করতে বরিশালের এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে এবং এ অঞ্চলের তথ্য ও যোগাযোগ শিল্পের প্রসার হবে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি বরিশাল শাখার সভাপতি জনাব মো: মনোয়ার হোসেন হারুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জনাব মো: জাবেদুর রহমান শাহীন, প্লাটিনাম স্পন্সর প্রতিনধি কম্পিউটার সোর্স লিমিটেডের পরিচালক জনাব এ.ইউ খান জুয়েল এবং প্রদর্শনীর আহ্বায়ক ও বরিশাল শাখা কমিটির সেক্রেটারি জনাব শাহ্‌ বোরহান উদ্দিন আদনান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির মহাসচিব জনাব মো: শাহিদ-উল-মুনীর, পরিচালক জনাব এ.টি.শফিক উদ্দিন আহমেদ, বিসিএস কম্পিউটার সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব মজহার ইমাম চৌধুরী পিনু, বিসিএস সদস্য জনাব মো: ওয়াহিদুল হাসান দীপু এবং বরিশাল শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ বিসিএস এর বিভিন্ন শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দ।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই মেলা সকলের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। আর এ সময়ে মেলা প্রাঙ্গন মুখরিত হয় বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায়। প্রর্দশনীতে পণ্য প্রদর্শন ছাড়াও রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, কুইজ, শিশুতোষ চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, ফ্রি ইন্টারনেট জোন, ফ্রি গেমিং জোনসহ নানা আয়োজন। প্রায় ২০,০০০ বর্গফুট স্থান জুড়ে ৩০টি স্টলে ২৫ টি প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তি সামগ্রী প্রদর্শন করবে।

বরিশালের বৃহত্তম এই কম্পিউটার মেলাকে বৈচিত্র্যময় করতে পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টায় বিজনেস ল্যান্ড এর সৌজন্যে থাকছে দর্শনার্থীদের জন্য জমকালো সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রদর্শনীর তৃতীয় দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সকাল ১১টায় রয়েছে প্রদর্শনী বিতর্ক। ১৬ ফেব্রুয়ারি রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি সচেতনতা কর্মসূচি, প্রদর্শনী বিতর্ক এবং বিকালে অনুষ্ঠিতব্য শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বয়স ও বিষয়ভিত্তিক তিনটি গ্রুপে স্কুল শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতায় গ্রুপ গুলো হলো – ক গ্রুপ (বয়স: ৩-৬ বছর), খ গ্রুপ (৭-১০ বছর) এবং গ গ্রুপ (১১-১৪ বছর)। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মেলা চলাকালে মেলা প্রাঙ্গনে বিসিএস এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ও প্রতিযোগিতার স্থলে এক ঘণ্টা আগে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

মেলার প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। বিসিএস এর ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ‘বিসিএস ডিজিটাল এক্সপো বরিশাল ২০১২’- এর প্রদর্শনীতেও স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানো সাপেক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও মেলার বিক্রি হওয়া টিকেট নিয়ে সমাপনি দিনে অনুষ্ঠিত হবে র‍্যাফেল ড্র। আর এতে থাকবে ল্যাটপসহ সমজাতীয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার। এছাড়া প্রদর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনে মেলায় থাকবে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের বিশেষায়িত প্রদর্শনী ও কুইজ প্রতিযোগিতা।

মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে বিশ্বখ্যাত কম্পিউটার ব্র্যান্ড ডেল, ফুজিতসু, এক্সেসরিজ ব্র্যান্ড লজিটেক এবং এন্টিভাইরাস নরটন; গোল্ড স্পন্সর হিসেবে থাকছে আরেকটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড তোশিবা এবং দেশীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কম্পিউটার সেন্টার (ইউসিসি)। সিলভার স্পন্সর হিসেবে থাকছে দেশীয় মোবাইল এক্সেসরিজ প্রতিষ্ঠান অনিক টেলিকম এবং প্রিন্টার ব্র্যান্ড কনিকা মিনোল্টা। প্রদর্শনীর মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে সময় এটিএন বাংলা এবং দৈনিক মতবাদ। টিকেট স্পন্সর ইনফ্রা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, টিকেট কাউন্টার স্পন্সর এক্সেল টেকনোলজিস লিমিটেড, ভলান্টিয়ার ড্রেস স্পন্সর ইমাম টেলিকম, চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা স্পন্সর অমৃত কনজ্যুমারস ফুড প্রোডাক্টস লি:, সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্পন্সর বিজনেসল্যান্ড এবং পরিবহন স্পন্সর এসিআই আইটি লি:

১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টায় এ প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

প্রর্দশণী প্রাঙ্গনে বিসিএসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এখান থেকে যে কোন রকমের তথ্য ও সেবা নিতে পারবেন যে কেউ। এ ছাড়াও মেলায় আগত দর্শনার্থী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের যে কোন ধরনের সহায়তার জন্য একটি বিশেষ টিম মেলা প্রাঙ্গনে নিয়োজিত থাকবে। মেলায় সাধারণ নিরাপত্তা, লোকচলাচল নিয়ন্ত্রণ, পণ্য বিক্রি এবং টিকেট চেকিং এর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা দল সব সময় কাজ করবে।

(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)

Be the first to like.

 


0 মন্তব্য

মন্তব্য প্রদান

 
 

লগইন করুন এবং আপনার মন্তব্য দিন