৮ দিনব্যাপী “ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার-২০১১” এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন

৮ দিনব্যাপী “ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার-২০১১” এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন


আজ ১৯ ডিসেম্বর ২০১১ সোমবার সকাল দশটায় দেশের সর্ববৃহত্তম কম্পিউটার মার্কেট মাল্টিপ্ল্যান কম্পিউটার সিটি সেন্টারে ৮দিনব্যাপী “ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার-২০১১” এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের ১৪ তলায় এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী জনাব ড. হাছান মাহমুদ। চতুর্থবারের মতো আয়োজিত ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ারের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়: Go Green With ICT। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলার সমাপনী আগামী ২৬ ডিসেম্বর।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. হাছান মাহমুদ বিশ্বব্যাপী পরিবেশ বিপর্যয় রোধে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিকে সার্থকভাবে ব্যবহারের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষের আচরণের কারণে পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে পৃথিবী বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতির উন্নয়নে আইসিটি ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কার্যকরী সিদ্ধান্তে গত তিন বছরের মধ্যে দেশে আইসিটি সেক্টরের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এর মাধ্যমেই একদিন পূরণ হবে।

তিনি আরব বসন্তের উদারণ টেনে বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়েব প্রচারণার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ গণজাগরণ সৃষ্টি করে একনায়কত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেয়েছে। আমরাও যদি আমাদের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ওয়েব প্রচারণার মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের আগেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবে রুপান্তরিত হবে। তিনি দেশের তথা ঢাকার পরিবেশ রক্ষার জন্য ওয়েব প্রচারণাকে কাজে লাগাতে তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান। তিনি আরো জানান, সরকার আইসিটি সেক্টরের ওপরে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। সম্প্রতি এজন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ও গঠন করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের উদাহরণ টেনে তিনি এই সেক্টরকে ব্যবহারের মাধ্যমে দেশকে বদলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে শুধু মেলার আয়োজন নয় আইসিটি সেক্টরের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ কিভাবে রক্ষা করা যায় সেবিষয়ে ওয়ার্ক প্ল্যান তৈরির জন্য আয়োজকদের উদ্দেশে আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক সাংসদ ও বৃহত্তর এলিফ্যান্ট রোড দোকান মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোস্তফা মহসীন মন্টু। তিনি বক্তৃতায় আইসিটি সেক্টরের কার্যকরী বিকাশের স্বার্থে বয়োজ্যেষ্ঠদের চেয়ে তরুণ প্রজন্মকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি বলেন, আইসিটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তিনি সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা ব্যাখ্যা করে জানান, ‘গত চল্লিশ বছরে ফোকাস ঠিক না থাকায় দেশের সঠিক উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। এখন আমাদের ফোকাস ডিজিটিাল বাংলাদেশ। গত তিন বছরে শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেক্টরে আইসিটির কার্যকরী প্রয়োগ করা হয়েছে। ২০১৩ সালের মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এর ফলে আমরা অচিরেই পেয়ে যাবো তথ্য প্রযুক্তির বিষয়ে শিক্ষিত একটি নতুন প্রজন্ম। আগামীতে জাতি গঠনে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি এলিফ্যান্ট রোডকে লন্ডনের অক্সফোর্ড স্ট্রিটের সঙ্গে তুলনা করেন এবং এ এলাকার কম্পিউটার ব্যবসায়ীদের দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি পণ্য দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস) সভাপতি মোস্তফা জব্বার ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে এবিষয়ে কার্যকরী নীতিমালা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি আফতাব উল ইসলাম, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির চেয়ারম্যান আমির হোসেন খান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব এস. এ. কাদের কিরণ এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের হেড অব নিউজ চৌধুরী আফতাবুল ইসলাম, মাল্টিপ্ল্যান দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার, কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হাজারী, সাংগঠনিক সম্পাদক এস, এম ওয়াহিদুজ্জামান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মেলার আহ্বায়ক ও মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি তৌফিক এহ্সোন।

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটিসেলের চিফ কাস্টমার কেয়ার অফিসার ও চিফ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার মাহবুব হোসেনসহ মেলার আয়োজক কমিটির সকল সদস্য, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী এবং দেশের খ্যাতিমান আইসিটি ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে তৌফিক এহ্সোন বলেন, আটদিন দিনব্যাপী এই মেলায় অংশগ্রহণ করছে দেশের মার্কেটের ৪৫০ থেকে ৫০০ টি আইটি প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মার্কেটের ৩য় থেকে ১০ম তলা পর্যন্ত ৯৬ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে আয়োজিত এ মেলায় বিশ্বের স্বনামধন্য বিভিন্ন আইসিটি ব্র্যান্ড এই মেলায় পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর: সিটিসেল। কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে: আভিরা, এসার, এসপি সিলিকন পাওয়ার, ম্যাকগ্রীন, ফুজিটসু, হাই-টেক, ভ্যারিকো। এছাড়াও মেলার ইলেকট্রনিক মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে এটিএন নিউজ, রেডিও পার্টনার রেডিও ফূর্তি, এবং প্রিন্ট মিডিয়া পার্টনার: কালের কন্ঠ। ওয়েব পার্টনার: ই-সফট্। মেলায় বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পণ্যসমূহ সুলভ মুল্যে পাওয়া যাবে। এছাড়াও মেলা উপলক্ষে সিটিসেল জুম আলট্রার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বলেও জানানো হয়।

ডিজিটাল আইসিটি মেলায় বিশেষ আয়োজন হিসেবে থাকছে-আইসিটি নিয়ে সেমিনার, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য গেমিং জোন। এছাড়াও মেলা চলাকালীন সময়ে প্রতি ৫ ঘন্টা পর পর প্রবেশ টিকেটের উপর র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে। মেলার প্রবেশ টিকেটের মূল্য দশ টাকা মাত্র। ছাত্র-ছাত্রী ও সর্বস্তরের সাংবাদিকদের জন্য মেলায় প্রবেশ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। মেলার ওয়েব পোর্টালের ঠিকানা: www.digitalictfair.com.

মেলা সম্পর্কে তথ্য জানতে বা জানাতে যোগাযোগঃ info@digitalictfair.com; events@digitalictfair.com

(প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

About mehdi

একটি উত্তর দিন