৭ হাজার দক্ষ আইটি কর্মী তৈরি করেছে আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ

৭ হাজার দক্ষ আইটি কর্মী তৈরি করেছে আইডিবি-বিআইএসইডব্লিউ

idbবর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির খাত অনেক বিস্তৃত। ক্যারিয়ার গড়তে বর্তমানে সাবলীল ও সহজ পন্থা হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি। এখন প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ রয়েছে। আর এসব প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তির জন্য নিচ্ছেন যোগ্য প্রার্থী। দিনদিন চাহিদা বাড়ছে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের। এ বিভাগে ক্যারিয়ার গড়তে হলে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষতা থাকতে হবে। অনেকেই আছেন কম্পিউটার বিভাগের শিক্ষার্থী নন, কিন্তু কম্পিউটারের ওপর দক্ষ হলে যে কেউ তথ্যপ্রযুক্তির ওপর ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। আর তথ্যপ্রযুক্তির ওপর দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন বৃত্তি এবং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ও বাংলাদেশ ইসলামিক সলিডারিটি এডুকেশনাল ওয়াকফ (বিআইএসইডাব্লিউ)। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী যুবসমাজের শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি তথ্যপ্রযুক্তির নানা বিষয়ে বিনামূল্যে বিভিন্ন মেয়াদি প্রফেশনাল ডিপ্লোমা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থীকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছে। ২৫তম রাউন্ড পর্যন্ত এখানে মোট ৮ হাজার ২৪২ জন ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী দেশ-বিদেশে তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় কাজ করছেন। নির্মোহভাবে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) বিভিন্ন স্তরে পেশাজীবী তৈরি করছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়াজ খান।
নিয়াজ খান বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ৪ মিলিয়ন ডলার বৃত্তি প্রদান করে আসাছি। এই রকম প্রজেক্ট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো পর্যন্ত নিতে পারেনি। আমরা সর্বপ্রথম মাদ্রাসায় ভোকেশনাল কোর্স চালু করি। দেশের এখন ছয়টি মাদ্রাসায় ভোকেশনাল কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। এই মাদ্রাসাগুলো থেকে ২০১১ সালেই প্রথম শিক্ষার্থীরা কামিল পাস করে বের হয়। এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানই আবার মাদ্রাসা বোর্ডের সেরা দশটি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্থান করে নেয়।’ প্রশিক্ষণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর চারটি রাউন্ডে আইটি স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই করে ভর্তি করানো হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ছাড়াও প্রতিমাসে ২,০০০ টাকা হাত খরচ দেওয়া হয় এবং কোর্স শেষে ফলাফলের ভিত্তিতে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।’ বর্তমানে এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামের ২৮তম রাউন্ডের আবেদন প্রক্রিয়া চলছে, যাতে আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ জুন বলে জানান তিনি।
এই স্কলারশিপের আওতায় কী ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, সে প্রশ্নের জবাবে নিয়াজ খান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির ওপর কয়েকটি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়ে থাকে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ডাটাবেজ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, এন্টারপ্রাইজ সিস্টেমস অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ডিজাইন (জেটুইই), আর্কিটেকচারাল অ্যান্ড সিভিল (ক্যাড), গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন অ্যান্ড ভিডিও এডিটিং, নেটওয়ার্কিং টেকনোলজিস, ওয়েব প্রেজেন্স সল্যুশন্স অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন্স প্রভৃতি।
প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে দুই-আড়াই হাজার প্রার্থী আবেদন করলে সেখান থেকে আমরা চার থেকে পাঁচশ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। প্রশিক্ষণ চলাকালীন কোনো প্রশিক্ষণার্থী পাঁচদিন অনুপস্থিত থাকলে তাকে সাসপেন্ড করা হয়। কেউ কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে তাকে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং এরপরেও সে অকৃতকার্য হলে তাকে সাসপেন্ড করা হয়। ক্লাসে দেরি করলে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয় শিক্ষার্থীদের। কোথাও চাকরির বিজ্ঞপ্তি হলে সেখানে আমাদের প্রশিক্ষণার্থীরা আবেদন করার পর সাক্ষাত্কার দিলে আমরা আবার তাকে যাচাই-বাছাই করি। আমরা বুঝার চেষ্টা করি সে কোনো ভুল করেছে কি না। তার ভুল থাকলে সেগুলো শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকি। আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থা অন্য কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।’
এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কোন কোন খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে, সে প্রসঙ্গে নিয়াজ বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে যারা প্রশিক্ষণ নিয়ে যান, তারা এমনকি বুয়েটের স্নাতকদের সাথেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে। আসলে পেশাজীবনের উপযোগী কাজে দক্ষ হয়ে ওঠে এখানকার শিক্ষার্থীরা। এখানকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রায় ৯৫ ভাগই প্রাইভেট এবং পাবলিক সেক্টরে চাকরিরত রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা বিভিন্ন ব্যাংক, বিমা, বায়িং হাউজ, আইটি ফার্ম, এনজিও প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেয়ে থাকে। তাছাড়া দেশি-বিদেশি সফটওয়্যার ফার্মগুলোতেও অনেকে কাজ করছে। মোট কথা, তথ্যপ্রযুক্তিতে কাজ করার উপযোগী সব খাতেই কাজ করার সুযোগ রয়েছে এখান থেকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করাদের।’
ঢাকা এবং চট্টগ্রামে পরিচালিত হচ্ছে আইডিবি-বিআইএসইডাব্লিউয়ের প্রশিক্ষণ। এই কোর্সের প্রায় সব কার্যক্রমই ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ক্লাসের কী পড়ানো হচ্ছে, কারা উপস্থিত বা অনুপস্থিত থাকছে—এর সব তথ্যই ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিদর্শন করা হয়। দেশের সব জায়গায় ইন্টারনেট এখনও বিস্তৃত হয়নি বলে বলেই এই প্রোগ্রামকে সারাদেশে বিস্তৃত করা যাচ্ছে না বলে জানান নিয়াজ খান।
দেশের বাইরে থেকে প্লেসমেন্টের জন্য প্রস্তাবনা আসে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটা সময় এই প্রবণতা বেশি ছিল। এই প্রবণতা এখন নিম্নমুখি। তবে এমনিতে আমেরিকা, কানাডা, মালেশিয়া, আবুধাবি, সিংগাপুরসহ বিভিন্ন দেশে প্লেসমেন্ট আছে।’
নিয়াজ খান জানান, বাংলাদেশ ছাড়াও গিনিতে এই প্রজেক্ট চালু রয়েছে। এ ছাড়াও আরও বেশকিছু দেশে এই প্রজেক্ট চালু করার চিন্তা-ভাবনা চলছে বলেও জানান তিনি।
আইডিবি-বিআইএসইডাব্লিউ পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ কোর্সে আগে সরাসরি আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এখন কেবল অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদনের ওয়েব লিংক http://apply.idb-bisew.info। আবেদন করতে হলে আবেদনকারীকে স্নাতক উত্তীর্ণ হতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কমপক্ষে দ্বিতীয় বিভাগ বা ২.২৫ জিপিএ থাকতে হবে। তবে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকরা এই কোর্সের জন্য মনোনীত হবেন না। তবে আইডিবি-বিআইএসইডাব্লিউ পরিচালিত ফাস্ট ট্র্যাক আইটি কোর্সে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকরাও আবেদন করতে পারবেন। প্রতি ধাপে ৩০০ জন করে বছরে এক হাজার দুইশ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয়। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। এমসিকিউ পদ্ধতিতে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নেওয়া হয় মৌখিক পরীক্ষা। মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। এই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা ও চট্টগ্রামে। প্রশিক্ষণ শুরু হয় জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে। সপ্তাহে ছয় দিন চার ঘণ্টা করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মনোনীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ক্লাস চলে। দেশের প্রথিতযশা আইটি বিশেষজ্ঞবৃন্দ এসব প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন।
স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আইটি ভেন্ডর সার্টিফিকেশন যেমন—আরএইচসিই, এমসিএসই, ওসিপি প্রভৃতি পরীক্ষা বিনামূল্যে এমন সুসজ্জিত ল্যাবের মাধ্যমে দিতে পারেন

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন