২০০০ সৌর বিদ্যুতের সেচ পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ

২০০০ সৌর বিদ্যুতের সেচ পাম্প স্থাপনের উদ্যোগ

solar pampসৌর বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১০টি সমিতির মাধ্যমে দুই হাজার সেচপাম্প বসানো হবে। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সেচ মৌসুমে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো এবং ডিজেল পাম্পের মাধ্যমে যে দূষিত পদার্থ পরিবেশে ছড়ায় তা কমানো এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, নওগাঁ, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা ও ফেনী জেলায় এসব পাম্প বসানো হবে। তিন বছরমেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৩৬৭ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ঋণ নেবে সরকার। বাকি ১৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এবং দুই কোটি টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।
দুই হাজার পাম্পের মধ্যে ৫৫০টি হবে ২ দশমিক ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার, ৪ কিলোওয়াট ক্ষমতার হবে ৫৩০টি, সাড়ে ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার হবে ৫০০টি, সাড়ে ৭ কিলোওয়াট ক্ষমতার হবে ৩২০টি এবং ১০০টি পাম্প হবে ১১ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন। এসব পাম্প থেকে মোট সাড়ে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে।
জমির মালিকদের থেকে স্থাপনের ব্যয়ের অর্থ পর্যায়ক্রমে নেবে সরকার। স্থাপনের সময় মোট ব্যয়ের ১৫ ভাগ অর্থ তাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে। বাকি অর্থ ১০ বছর মেয়াদে কিস্তির মাধ্যমে নেওয়া হবে। তবে কৃষকদের কীভাবে সেবা দেওয়া হবে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে পাম্প নষ্ট হলে তার ব্যয় কে বহন করবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা নেই প্রকল্প প্রস্তাবে। এ ছাড়া এসব সোলার পাম্পের মেয়াদ কত বছরের হবে তাও স্পষ্ট নয়।
জানা গেছে, দেশে প্রায় ৮৩ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়। এমনকি আমন মৌসুমে কম বৃষ্টিপাত হলে অনেক অঞ্চলে সেচ দিতে হয়। প্রধানত ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হয়। বর্তমানে সারাদেশে ২ লাখ ৭০ হাজার বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্পের মাধ্যমে ১৭ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া হয়। এসব পাম্পে ১৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
ফলে সেচ মৌসুমে প্রায়ই বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এ ছাড়া বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ডিজেল চালিত পাম্পের মাধ্যমে ৩৪০ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে।
ডিজেলচালিত পাম্প চালানোর জন্য বছরে ১০ লাখ টন ডিজেলের দরকার। এসব পাম্প থেকে প্রতিবছর ৩১০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে নির্গত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় গঠিত সাসটেইনেবল রিনিউএবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (স্রেডা) ২০২০ সালের মধ্যে সারাদেশে পাঁচ লাখ সোলার পাম্প স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং কৃষিতে সেচের জন্য বিদ্যুৎশক্তি ও ডিজেলচালিত প্রায় ১৭ লাখ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলার পাম্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে চায়। ইতিমধ্যে সারাদেশে ২ শতাধিক সৌরশক্তি চালিত সেচপাম্প স্থাপিত হয়েছে। এদিকে ইডকল সোলার পাম্পের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন