‘হাতিরঝিল ড্রিম বিগিনস’ কম্পিউটার ভিডিও গেম সিরিজ উদ্বোধন

‘হাতিরঝিল ড্রিম বিগিনস’ কম্পিউটার ভিডিও গেম সিরিজ উদ্বোধন

হাতিরঝিল দেখতে যাননি এমন কোন ঢাকাবাসী বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধু ঢাকাই নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মানুষ আসে হাতিরঝিল দেখতে। কারো কাছে হাতিরঝিল সপ্তাহ শেষের একটু বিনোদনের নাম। কারো কাছে হাতিরঝিল একটি অনুপ্রেরনার নাম। কেউবা হাতিরঝিল কে নিয়ে বাস্তব থেকে অনেক দূরে স্বপ্নের জাল বুনে আর প্রত্যয়ে অহংকারে আর দীপ্তিতে উজ্জল হয়। কারো কাছে এই ভাবনাও উঁকি দেয়, হাতিরঝিল যখন বানাতে পেরেছি নিজস্ব উদ্যোগে , নিজস্ব প্রযুক্তিতে, তখন আরো বড় কিছু বানাতে পারব। তেমনই এক তরুণদল হাতিরঝিলকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করে এবং সে স্বপ্ন বাকীদের মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য তারা বানিয়ে ফেলল “হাতিরঝিলঃ ড্রিম বিগিনস” নামে একটি কম্পিউটার ভিডিও গেম সিরিজ, যা আইসিটি মিনিস্ত্রি এর সহযোগিতায় গত ২৪শে মার্চ এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়ে গেল, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি, প্রতি মন্ত্রী, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গভর্নমেন্ট অফ পিওপলস রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামীম আহসান প্রেসিডেন্ট অফ ব্যাসিস ; মোজাম্মেল বাবু , প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একাত্তর টিভি। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব জামান প্রাক্তন ব্যাসিস; ডঃ ওয়াং, প্রকল্প পরিচালক, “We Make Games” এবং গাউসুল আলম শাওন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্রে । উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যাসিভস্টার স্টুডিও লিমিটেড এর সিইও এস এম মাহাবুব আলম ।

আমাদের দেশের এক বিশাল সংখ্যক শিশুই বেড়ে উঠে আংরি ‘অ্যাংরি বার্ড’ বা ‘ব্যাটেল ফিল্ড’ এর মত গেমস্‌ খেলে। এটা যেন সবাই ধরেই নিয়েছে আমাদের শিশুরা বেড়ে উঠবে ‘ডুম’ আর ‘ব্যাটেল ফিল্ড’ এর মত গেমস্‌, আর হিন্দিতে ডাবিং করা ডরিমন ও মিকি মাউস দেখে। কম্পিউটার গেমস্‌ কি শুধু শিশুদের খেলার উপকরন ? মোটেই না, সারা বিশ্বের মত আমাদের দেশেও অধিকাংশ গেমস্‌ এর খেলোয়াড়ই কিশোর এবং যুবক । কম্পিউটার গেমস্‌ খেলায় মধ্যবয়সী বা বুড়োরাও কম যান না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে একদল তরুণ একরাশ স্বপ্ন নিয়ে নিরন্তন কাজ করে যাচ্ছে নতুন করে বাংলাদেশের কম্পিউটার ভিডিও গেমস এর ইতিহাস লেখার জন্য । তারাই নির্মাণ করে চলেছে হাতিরঝিল নামের বিশাল এক কম্পিউটার গেমস্‌ -এর সিরিজ, যার প্রথম গেমস্‌ “হাতিরঝিলঃ ড্রিম বিগিনস” যা ২৪শে মার্চ উদ্বোধন হয়ে গেল।

'Hatirjheel Dream Begins' Computer Video Game series

স্বপ্ন আর বাস্তব কোনটি মুখ্য? কেউ বলবে বাস্তবই মুখ্য আবার কেউবা স্বপ্ন মুখ্য, কারন স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, ভবিষ্যৎ নির্মাণে মানুষকে অনুপ্রেরনা দেয়। স্বপ্ন না থাকলে আজ আমরা উড়োজাহাজ বা জাহাজ কিছুই দেখতাম না। একসময় মানুষ স্বপ্ন দেখেছে আকাশে উড়বে বলে, সেই স্বপ্নই তাকে প্রেরনা যুগিয়েছে (যুগে যুগে সভ্যতার বিনির্মাণে) সত্যিকারের আকাশে উড়ার জন্য। যুগে যুগে স্বপ্নই সভ্যতার বিনির্মাণে অগ্রণী থেকেছে। অতএব স্বপ্নই মুখ্য । হাতিরঝিল পুরো গেমস্‌ এরই ডিজাইন করা হয়েছে এই স্বপ্ন আর বাস্তবতার মিশ্রণে । সভ্যতার বিকাশে আজ যেমন মানুষের দূরদমনীয় গতি মাটিতে, আকাশে ও পানিতে তেমনি “হাতিরঝিলঃ ড্রিম বিগিনস”,গেমস্‌টিও নির্মিত হয়েছে এই তিন উপকরণকে মাথায় রেখে; তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে নুতন মাত্রা হিসাবে যোগ হয়েছে স্বপ্ন যা মূল চালকের আসনে বসে আছে ।

বিনোদন , রোমাঞ্চকর, ভায়োলেন্স এই তিনই থাকে কম্পিউটার গেমসের উপজীব্য। পুরো পরিবারকে নিয়ে উপভোগের মত গেমস্‌ খুব বেশি খুঁজে পাওয়া যাবে না। হাতিরঝিল এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উদ্দ্যোগ। পুরো গেমস্‌টি নির্মিত হয়েছে পরিবারের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে। বাস্তবের হাতিরঝিল যেমন ছেলে, বুড়ো, শিশু বা কিশোরদের সবার বিনোদনের জায়গা, তেমনি “হাতিরঝিলঃ ড্রিম বিগিনস” গেমস্‌টিও সকল বয়সের সকল মানুষের স্বপ্ন আর বিনোদনের মাধ্যম। মোট ৩১ পর্বের গেমসে্‌ থাকবে এক বিশাল বাস্তব আর স্বপ্নের জগত যা আমাদের মনে করিয়ে দেবে আমাদের আগামি দিনের স্বপ্ন আর সম্ভাবনার কথা। কম্পিউটার গেমস্‌ যে এক গবেষণার ফসল, যাতে গল্প আর কৌশলকে মাধ্যম করে বিনোদন দেয়া যায় তা-ই প্রমান করেছে ম্যাসিভস্টার স্টুডিও এর তরুণ গেমস্‌ নির্মাতা দল। নির্মাতারা জানান হাতিরঝিল কম্পিউটার ভিডিও গেম ছাড়ার পর স্মার্টফোনে খেলার জন্য এর অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণও তৈরি করা হবে। আর এর পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বাংলাদেশের বহু খ্যাতিসম্পন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ।

এখন গবেষণা চলছে গেমস্‌ কি করে আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস শিক্ষার মাধ্যম হতে পারে ।এ ব্যাপারে গেমস্‌ নির্মাতা দলের প্রধান গবেষক এবং ম্যাসিভস্টার স্টুডিও লিমিটেড এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহাবুব আলম জানালেন তার এক অভিনব কর্মসূচির কথা যার নাম “We Make Games”-যেখানে সারা বাংলাদেশর ৫০০ স্কুল ও কলেজের এক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী গেমস্‌ নির্মাণের কলা কৌশল হাতেখড়ি পাবে। তারাই রচনা করবে আগামির জন্য নতুন ইতিহাস, আর একইসাথে গড়বে নিজেদের ক্যারিয়ার।

About অঞ্জন দেব

একটি উত্তর দিন