হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৪’

হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিল ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৪’

জমে উঠেছে তথ্যপ্রযুক্তির আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪’। দ্বিতীয় দিনে দুপুর ২.০০টায় শুরু হতেই নানা বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে চারদিনের এই তথ্যপ্রযুক্তি উৎসব।

মেলাতে ঢুকতে প্রথমেই চোখে পড়বে বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য দর্শনার্থীদের বড় লাইন। বিনামূল্যেই নিবন্ধন করে তারা সেমিনারে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। তবে যারা ইতিমধ্যেই অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন তারা সরাসরি সেমিনারে অংশ নিতে পারছেন।

মেলার মূল ভেন্যুর প্রবেশদ্বারে সৌরচালিত রিকশা এবং নৌকা প্রদর্শন করছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি [ইউআইইউ]। সেটি দেখতেও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

প্রথমদিনের মতোই দ্বিতীয় দিনেও সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর তাদের ডিজিটাল সেবা প্রদর্শন করছে। সাধারণ দর্শনার্থীরা কিভাবে সহজেই সরকারি সেবা পেতে পারেন সেটা তারা জানতে পারছেন। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৪ এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের বিভিন্ন ডিজিটালাইজড প্রযুক্তির সঙ্গে সাধারণ মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিতেই তাদের এই আয়োজন। বাংলাদেশ পুলিশের স্টলটি ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশের সেবাগুলোর স¤পর্কে দর্শনার্থীদের ধারনা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মোবাইল অ্যাপ, যাতে স্মার্টফোন দিয়ে ডিএমপির সকল পুলিশ অফিসারের মোবাইল নাম্বার, সকল থানার ঠিকানা ও ম্যাপ, ডিএমপির ফেসবুক পেজ, ব্ল্যাড ব্যাংক, নারী সহায়তা কেন্দ্রসহ আরও অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে।

মোবাইল ইনোভেশন জোনে অংশগ্রহণকারী ২৪টি প্রতিষ্ঠান আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড ও উইন্ডোজ প্লার্টফর্মের বিভিন্ন তথ্যমূলক, শিক্ষামূলক ও গেমস প্রদর্শণ করছে। চ্যাম্পস২১ তাদের নানা অ্যাপস প্রদর্শনের পাশাপাশি তাদের স্পেলিং বি অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে একটি করে ট্যাব জেতার সুযোগ দিচ্ছে।

মেলার প্রধান প্রকল্প কর্মকর্তা রাসেল টি আহমেদ বলেন, মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় দেখে বোঝা যায় তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি সব শ্রেণীর মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে কারিগরি সেমিনারগুলোতে তরুণ প্রজন্মদের উপচে পড়া ভিড় ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে আমাদের প্রত্যাশাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করছি শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিন হওয়াতে তথ্যপ্রযুক্তি প্রেমীদের সমাগম বাড়বে।

IMG_0060

তথ্য-প্রযুক্তির এ জমকালো উৎসবে প্রদর্শনী ছাড়াও সেমিনার, কর্মশালা, আইটি জব ফেয়ার ও সিইও নাইট অনুষ্ঠিত হবে। মেলা প্রাঙ্গনে দর্শণার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে থাকছে সেলফি বুথ ও বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা। এলইডি স্ক্রিনে মেলার উল্লেখযোগ্য আয়োজন সরাসরি উপভোগ করা যাবে। এছাড়া ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’ নামের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে মেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং আয়োজন সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানা যাবে।

একের ভেতর তিন
তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা উপস্থাপনে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আগামী দিনের পরিকল্পনা উপস্থাপন হচ্ছে এবাে আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তারা ঘরে বসেই আয় করছেন। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আমদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বেসিস আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তারা ঘরে বসেই আয় করছেন। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আমদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বেসিস আহমেদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের নারীরা অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন। তারা ঘরে বসেই আয় করছেন। ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আমদের নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
বেসিস রর ডিজিটাল আসরে। তিনটি পৃথক মেলাÑ সফট এক্সপো, ই-গভর্ন্যান্স ও মোবাইল ইনোভেশন এক্সপোর সেতুবন্ধনে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪ হয়ে উঠছে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। মেলায় ই-কমার্স জোন, বিপিও ফোরাম, ডেভেলপারস ফোরাম এবং আউটসোর্সিং ফোরামে নানা উদ্ভাবনী উদ্যোগের পসরা নিয়ে হাজির থাকছে তরুণ প্রযুক্তিবিদরা।

মেলায় যত প্রদর্শনী

মোবাইল ইনোভেশন: মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপে বাংলাদেশের জয়যাত্রা তুলে ধরতে ২৫টি স্টলে সেজেছে মোবাইল ইনোভেশন’ শীর্ষক প্রদর্শনী। এখানে বাংলাদেশি ডেভেলপার কোম্পানির জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।  উইন্ডোজ, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড প্লাটফর্মের হাজারের বেশি দেশি অ্যাপ্লিকেশন থাকবে মোবাইল ইনোভেশন জোনে।

সফটএক্সপো: মেলায় বেসরকারি পর্যায়ে ১৫০টি স্টলে দেশে তৈরি বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রদর্শন করবে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

ই-গভর্ন্যান্স : মেলায় ৯৫টি স্টল থেকে নানা ই-সেবা প্রদর্শন করবে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর। মূলত ‘ই-গর্ভন্যান্স’  শীর্ষক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে সরকারের অগ্রযাত্রার প্রতিচ্ছবি খুঁজে পাওয়া যাবে।

আইটি জব ফেয়ার : মেলা প্রাঙ্গনে এসে পছন্দের আইটি কর্মীদের খুঁজে পেতে হাজির থাকছে ৯টি আইটি প্রতিষ্ঠান। মেলায় থাকা বুথে প্রথম তিন দিন থেকেই সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। মেলার শেষ দিন সকালে সাক্ষাতকারের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন যোগ্য প্রার্থী।

সেমিনার ও কর্মশালা
প্রদর্শনীর বাইরে সম্মেলন থাকছে প্রায় ৩০টি সেমিনার এবং ১৪টি টেকনিক্যাল সেশন, সিইও নাইট ও অ্যাওয়ার্ড নাইট সহ তিনটি মেগা নাইট। সেমিনারের মধ্যে ব্যবসায় বিষয়ে ১৫টি, ই-গভ: নিয়ে ১২টি এবং ৩টি স্পেশাল সেশন। উদ্বোধনী দিনে আজ মিডিয়া বাজারে ‘ই-লার্নিং, এসএমএসি এবং শিক্ষণ পদ্ধতির রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিষয়ে এবং উইন্ডি টাউনে ‘তথ্যের নিরাপত্তা’, টেক স্টার্ট আপ-কে উৎসাহিতকরণ ও আরওআই ভিত্তিক প্রসেস ম্যাচুরিটি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও গ্রিন ভিউতে থাকছে তিনটি টেকনিক্যাল সেশন।

আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মিলনমেলা
বিনিয়োগ আকর্ষণ ও মেধা অন্বেষণসহ তথ্যপ্রযুক্তির প্রচার, প্রকাশ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সফল আইটি ব্যক্তিত্বদের পরিচয় করিয়ে দিতে এই মিলনমেলায় ১৫টিরও  বেশি দেশ থেকে যোগ দিচ্ছেন ৩২ জন আইটি বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা।  তথ্যপ্রযুক্তির নিয়ে আয়োজিত সেমিনার ও টেকন্যিক্যাল সেশনে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন তারা। এর মধ্যে রয়েছেন পিটার ভোগেলার, মার্টিন লেবে, টোরেক ফারহাদি, ক্লাউস ট্রিলিংসগ্রাড, ব্রাডলি মিয়ার্নস, মুরালি বালাকৃশনম, লারস স্যামুয়েলসেন, ফার্ডিনান্দ   কেজায়রালফ, মর্টেন লুন্ড, কেটি গোভ, মাইকেল কোলে, ড. পল্পব সাহা, অশোক কুমার, ইভার ট্যালো, ড.  হেনরিক হ্যানসন, সবারজিৎ সিং, বর ভ্যান ইজবার্গেন, ব্রায়ন জেইসেন, কেলিসিয়া ব্রাউন, হ্যান্স মার্টিন হোহ  হেনরিকসন, মার্ক স্পেপিওটা এবং সুন্দর রাম।

বিদেশি এসব স্পিকাররা ছাড়াও খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞরাও বক্তব্য দেবেন এই সম্মেলনে। বিষয় ভিত্তিক সেশনে বক্তব্য দেবেন ড. বদরুল হুদা খান, শামীম আহসান, ফাহিম মাশরুর, অনীর চৌধুরী, সাইদুর মামুন খান, অরুণ গুপ্ত, মোহাম্মদ এম জামান, সাজীদ আকতার, লুনা শামসুদ্দোহা, অধ্যাপক ড. সুরাইয়অ পারভীন, হাসান মজুমদার, অধ্যাপক ইমরান রহমান, এস এম আশরাফুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ এন করিম, ভাস্কর ভট্টাচার্য, রাউলি রফিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ মো. ইহসানুল করিম, অধ্যাপক ড, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

আয়োজক যারা
যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে ডাক,  টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মšúণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। আয়োজন সহযোগী হিসেবে রয়েছে প্রধানমšúীর কার্যালয়ের অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল [বিসিসি], মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব, প্রযুক্তি পণ্য বিক্রেতাদের সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংবাদকর্মীদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।

About অঞ্জন দেব

একটি উত্তর দিন