সিম সাময়িক বন্ধ করা হচ্ছে না

সিম সাময়িক বন্ধ করা হচ্ছে না

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন বিহীন সিম সাময়িক বন্ধ করা হচ্ছে না। গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অপারেটরগুলোকে নিবন্ধন বিহীন সিম সাময়িক বন্ধ করতে নির্দেশনা দিয়ে ইমেইল করে। ওই মেইলে কমিশন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের ঘোষণার রেফারেন্স দেয়।
নির্দেশনায় ১ মে তারিখে ‘সিম্বলিক’ ও ‘র‌্যান্ডম’ হিসেবে নিবন্ধন বিহীন কিছু সিম সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ২ মে ওই তালিকা বিটিআরসিতে জমা দিতে বলা হয়।
কিন্তু ৩ মে তারিখ পর্যন্ত কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরই কোনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। তবে সরকারি অপারেটর টেলিটক নিবন্ধন বিহীন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে কিনা তা জানা যায়নি।
অপারেটরগুলো বলছে, যেহেতু ৩১ মে পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়েছে তাই এই সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করার সুযোগ থাকছে। ফলে আইনি ও নির্দেশনাগত কিছু বিষয়ের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছে না।
বিটিআরসির নির্দেশনার বিষয়ে অপারেটগুলো জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক সিম এখনও নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরি ও সিরিজের সিম রয়েছে। র‌্যান্ডমলি সংযোগ বিছিন্ন করতে গেলে গ্রাহক অধিকারের বিষয়সহ নানা প্রশ্ন আসতে পারে।
রবির কমিউনিকেশন অ্যান্ড কর্পোরেট রেসপনসিবিলিটি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকরাম কবীর জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত রবির কোনো নিবন্ধন বিহীন সিম সাময়িক বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অ্যামটব টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা করছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত গ্রামীণফোনও নিবন্ধন বিহীন কোনো সিম সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামীণফোনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত ৩০ এপ্রিল বিটিআরসি নির্দেশনা পাঠিয়েছে। উদ্ভুত বিষয়ে অপারেটরগুলো প্রতিনিধিত্বে অ্যামটব টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির সঙ্গে কাজ করছে।
মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগটন অ্যামটব নিবন্ধন বিহীন সংযোগ বিছিন্ন করার বিষয়ে বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের বর্ধিত সময় ৩১ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় বলে জানা গেছে।  বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের সুযোগ চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার পরই নিবন্ধন বিহীন সিম বন্ধে উদ্যোগ নিতে আগ্রহী সংগঠনের সদস্য মোবাইল ফোন অপারেটগুলো।
এদিকে বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, তিনঘন্টা করে ধারাবাহিকভাবে সিম বন্ধের বিষয়ে অপারেটরগুলোকে একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই নির্দেশনা অনুয়ায়ী অপারেটগুলো কী করছে বা তাদের বক্তব্য কী সে বিষয়ে লিখিতভাবে এখনও যোগাযোগ করেনি।
যদিও বিটিআরসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর নির্দেশনা অপারেটরগুলোকে পাঠায়নি। বুধবার অপারেটরগুলোকে এই মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠি দেয়ার কথা।
এর আগে গত শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কার্যক্রম ৩১ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন তারানা হালিম।
সংবাদ সম্মেলনে তারানা বলেন, স্বল্প রিটেইলারদের মাধ্যমে এতো অল্প সময়ের মধ্যে সিম নিবন্ধনে গ্রাহকদের কষ্ট, আঙ্গুলের ছাপ না মেলাসহ বিভিন্ন কারণে গ্রাহকরা এখনো পর্যন্ত বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করতে না পারার কারণে এই সময় বাড়ানো হয়েছে ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সিম নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হলেও এখনও পর্যন্ত যেসব গ্রাহক নিবন্ধনের চেষ্টা করেননি তাদের সিমগুলো ধারাবাহিকভাবে তিন ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয়া হবে।
তবে কোনো গ্রাহক যদি ৩১ মে রাত ১২ টার মধ্যে সিম নিবন্ধন না করেন তাহলে তাদের সিম কোনো ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বন্ধ করে দেয়া সিমগুলো পরবর্তী ১৫ মাস পর্যন্ত টেলিকম অপারেটররা আর বিক্রি করতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরতরা যদি নিবন্ধন না করেন তাদের সিমও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে তারা দেশে ফিরে এসে নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে যদি কেউ বায়োমেট্রিক না করেন তবে সে সিমগুলোর মালিকানা হারাবেন।
যেসব ব্যক্তি, বিশেষ করে যেসব বয়স্ক ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বা পাওয়া যাচ্ছে না তাদের সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এনআইডি অফিস সহায়তা করবে। এনআইডি অফিস থেকে তাদের বাড়িতে গিয়ে সিম নিবন্ধন করার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সিম নিবন্ধনে কষ্ট হচ্ছে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, এর জন্য আমরা আসলেই খুব দুঃখিত। ভালো কিছুর জন্য সবারই একটু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তবে এখন থেকে কাস্টমার কেয়ারগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের বদলে প্রায় দেড় লাখ সিম পাসপোর্ট ও জন্ম সনদ দিয়ে নিবন্ধন করেছে। তাদেরকে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
এখন পর্যন্ত এক কোটি ৩০ লাখ সিমের এনআইডির সঙ্গে আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় সিম নিবন্ধন করতে পারেনি বলে বলেন তারানা হালিম। তবে এই সংখ্যাটা আরও কম হবে বলে তার বিশ্বাস।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে মোবাইল সিম ও রিমের পুনঃনিবন্ধন কার্যক্রম।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন