সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি

সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বিটিআরসি

cityউচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পরিশোধ না করায় সিটিসেলের স্পেকট্রাম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। স্পেকট্রাম স্থগিত করার ফলে সিটিসেলের কার্যক্রমই মূলত বন্ধ হয়ে গেছে। উচ্চ আদলতের আদেশ অমান্য করার ফলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিআরসিতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, সিটিসেলের কাছে পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা। আপিল বিভাগের আদেশ অনুযায়ী গত বুধবারের মধ্যে তাদের দুই তৃতীয়াংশ টাকা পরিশোধের কথা। সে হিসেবে তাদের দিতে হতো ৩১৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তারা বিটিআরসিকে ১৩০ কোটি ও এনবিআরকে ১৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। কিছু টাকা তারা দিলেও আদালতের আদেশ অমান্য করেছে। এই কারণে তাদের স্পেকট্রাম স্থাগিত করা হয়েছে।
সিটিসেলের কার্যক্রম ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই বলেই জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা সর্বোচ্চ আদেশ প্রতিপালন করেনি। ফলে তাদের ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই। যে কোন সময় তাদের স্পেকট্রাম বাতিল করা হবে। তবে লাইসেন্স বাতিল করা হবে কি-না সে ব্যাপারে পরিষ্কার করে তিনি কিছু বলেননি।
বুধবার টাকা জমা দেয়ার পর বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে একটা আবেদন জমা দিয়েছে সিটিসেল কর্তৃপক্ষ। যদিও সে আবেদন শুনানির জন্য উঠেনি। জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টার দিকে র‌্যাব ও পুলিশ নিয়ে বিটিআরসি প্রতিনিধি দল সিটিসেল অফিসে গিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। সেই মুহূর্তে অফিসে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সিটিসেলের কোন কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। বর্তমানে এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড। সিটিসেলের সবচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে। এছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন