সিঙ্গাপুরে কোম্পানি খুলছে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং

সিঙ্গাপুরে কোম্পানি খুলছে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং

spectrumসানাউল্লাহ সাকিব: সিঙ্গাপুরে কোম্পানি খুলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগের অনুমতি পেয়েছে। যৌথ উদ্যোগে সিঙ্গাপুরে কোম্পানি খুলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজার ধরতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে চিঠি দিয়ে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিংকে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে আমাদের কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। কয়েক বছর ধরে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজ চলায় আমাদের কাজের পরিধিও বেড়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে নেপালেও কাজ করেছি আমরা। সিঙ্গাপুরের কোম্পানির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে আমরা যেতে চাই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমরা সম্প্রতি বিনিয়োগের অনুমোদন পেয়েছি। অনুমোদন পাওয়ায় দ্রুতই অফিস স্থাপনের কাজ শুরু হবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এক আবেদনে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং জানায়, সিঙ্গাপুরে স্পেকট্রাম সিপিটিই লিমিটেড নামে কোম্পানি খুলে ওই অঞ্চলে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটিতে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেয়ার হবে ৭০ শতাংশ। এর মাধ্যমে তারা বৈশ্বিক বাজারে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের রপ্তানি প্রত্যাবাসন হিসাব (ইআরকিউ) থেকে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার ৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৬ লাখ টাকা) বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। মূলত সিঙ্গাপুরে কোম্পানি খুলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন টেন্ডারে অংশ নেবে কোম্পানিটি। সিঙ্গাপুরের কোম্পানির মাধ্যমে মিয়ানমারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের আধিপত্যের পর কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওসসহ ওই অঞ্চলের দেশগুলোর বাজার ধরতে চায় স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং।
স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ কর্মী রয়েছেন। সেবা রপ্তানি করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বড় অংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বিদেশে অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। অবশ্য একজন রপ্তানিকারক ব্যবসা বাড়াতে অন্য দেশে লিয়াজোঁ বা সাবসিডিয়ারি অফিস খোলা ও ব্যয় নির্বাহের জন্য বছরে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতে পারেন। এলসি খুলে যেকোনো পরিমাণে বৈধ পণ্য আমদানি, ভ্রমণ কোটায় বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার খরচ করা যায়। এ ছাড়া শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সুনির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে বৈধ উপায়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেওয়ার সুযোগ আছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে মবিল যমুনাকে মিয়ানমারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে এমজেএল অ্যান্ড একেটি পেট্রোলিয়াম নামে একটি কোম্পানি গঠন করে। দেশের বাইরে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের অনুমতি পায় তৈরি পোশাক খাতের দুলাল ব্রাদার্স (ডিবিএল) গ্রুপ। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটিকে ইথিওপিয়ায় বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। এর বাইরে এসিআই হেলথ কেয়ারকে ইআরকিউ হিসাব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি ওই দেশের ক্যাটালেন্ট ফার্মা সলিউশন, মেডকোর ফার্মা ও সারভেন্স ইনকে বিনিয়োগ করেছে। জেনেরিক ওরাল সলিড ডোস উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্য এ তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন নিতে এই বিনিয়োগের অনুমতি পেয়েছে এসিআই হেলথ কেয়ার।
ব্যবসা সম্প্রসারণে স্কয়ার ফার্মাকেও যুক্তরাষ্ট্রে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে দেশের বাইরে বিনিয়োগের অনুমতি পায় ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। সম্প্রতি বিএসআরএম স্টিলকে কেনিয়ায় বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিংসহ সাত প্রতিষ্ঠান বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি পেল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আবেদন করলেও তা নাকচ করে দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সাল থেকে বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন