শেষ হলো জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

শেষ হলো জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা

nhspcশেষ হলো সারাদেশ ব্যাপী আয়োজিত জমজমাট জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৬। সারাদেশে থেকে আগত ছোট্ট ছোট্ট প্রোগ্রামদের নিয়ে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৬-এর চূড়ান্ত পর্ব। ২৪ এপ্রিল রোববার সকাল ৯টায় বেলুন উড়িয়ে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। উদ্বোধনের পর শুরু হয় ৩০ মিনিটের কুইজ প্রতিযোগিতা ও ৩ ঘন্টা ব্যাপি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা।
দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার প্রোগ্রামিংয়ে জুনিয়ার ক্যাটাগরি চ্যাম্পিয়ান হয়েছে রিজেন্ট এডুকেয়ারের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী রুহান হাবিব। সিনিয়রে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের আসিফ জাওয়াদ।
এছাড়া জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় কুইজে পর্বে জুনিয়ার ক্যাটাগরি চ্যাম্পিয়ান হয়েছে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের মো. ফাহিম আবরার, সেকেন্ডারিতে ক্যাটাগরি পাবনা জিলা স্কুলের শাহরিয়ার রিজবী এবং হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছে সরকারী বিজ্ঞান কলেজের সেজান আহমেদ। প্রতিযোগিতা প্রোগ্রামিংয়ে প্রতিযোগিতায় জুনিয়ারে ১৬ জন এবং সিনিয়রে ২২ জনকে পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে। কুইজের তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ২০ জন করে মোট ৬০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, আমরা আশাবাদী এই তরুণদের নিয়ে। আজকের তরুণরাই যেকোনো অপশক্তিকে পরাজিত করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশে তরুণরা একদিন বিশ্বজয় করবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব তৈরি করে দিচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। আগামীতে ৩২টি অঞ্চলে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আয়োজনে উপস্থিত থেকে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেকখানী জ্ঞানের সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে। যে দেশের যত বেশী জ্ঞান আছে সেই দেশে ততবেশী এগিয়ে যাবে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আমাদের তরুণদের জ্ঞানের সম্পদ বৃদ্ধি করতে হবে। মুহম্মদ জাফর ইকবাল অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে জ্ঞানী বা ক্ষমতাবানের যা আছে তোমাদেরও তাই আছে। আর সেটা হলো তোমাদের ব্রেন। তোমাদের মধ্যেই একজন ফেসবুক, গুগল তৈরি করবে।
সমাপণী অনুষ্ঠানে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ কায়কোবাদ বলেন, তরুণদের শক্তি হলো অপরিসিম। এই শক্তি ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করতে হবে। তরুণদের মাঝে প্রযুক্তি ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রোগ্রামিংয়ের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, স্কুল-কলেজ থেকে প্রতিভা বের করে আনার জন্য এটি একটি ভালো পদক্ষেপ। এই আয়োজন তরুণদের মাঝে তথ্য-প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিবে। বরি এ আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পরে আনন্দিত। তিনি বলেন, বরির আলোয় আলোকিত করতে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পালন করে থাকে। আগামীতেও রবি সেই ধারা বজায় রাখবে।
তথ্য-প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ এখন স্কুল পর্যায় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা হচ্ছে। এটা দেশের জন্য খুবই ভালো খবর। আগামীতে প্রাথমিক পর্যায় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করে সত্যিকারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলায় কাজে এগিয়ে আসবে আইসিটি মন্ত্রণালয়।
আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বের অনুষ্ঠানের আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্চিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লাফিফা জামাল সহ অনেকে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মত দেশব্যাপী ১৬টি অঞ্চলে আয়োজন করা হয় জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৬-এর আঞ্চলিক পর্ব। এই ১৬টি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নিয়ে আজ চূড়ান্ত পর্ব কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ী ৯৬৮ জন এবং প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ৩১৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
প্রসঙ্গত, এর আগে এই আয়োজনের  আওতায় ৬৪টি জেলায় ৭০০ হাই স্কুলে প্রচারণামূলক অ্যাক্টিভেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় যেখানে প্রায় দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে ১৬টি জেলায় আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা সফল ভাবে সম্পন্ন করা হয়। যেখানে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।  এছাড়া মেন্টরস ট্রেনিং, অনলাইন মেন্টরশীপ ও ফোরাম আলোচনা পরিচালনা করা হয়।
জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজনে রয়েছে আইসিটি ডিভিশন, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড, বাস্তবায়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক , একাডেমিক সহযোগিতায় কোডমার্শাল,  পার্টনার হিসেবে আছে-কিশোর আলো, এটিএন নিউজ, বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।
প্রতিযোগিতা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: http://www.ictd.gov.bd অথবা http://www.nhspc.org/। এছাড়া ফেসবুক পেজ www.facebook.com/nhspcbd  বিস্তারিত জানা যাবে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন