শেষ হলো বিজটেক বিটুবি কনফারেন্স

শেষ হলো বিজটেক বিটুবি কনফারেন্স

Panel Discussionগতকাল রোববার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে দেশের প্রথম ভিন্নধর্মী বিজনেস সল্যুউশন প্রদর্শনী বিজটেক বিটুবি কনফারেন্স। স্থানীয় বাজারে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার বাজার সম্প্রসারণে, প্রাইভেট সেক্টর অটোমেশন/ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও বেসিস যৌথভাবে এই কনফারেন্সের আয়োজন করে। যেখানে ব্যাংকিং ও ফিন্যান্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তৈরি পোশাক খাতের উপর ইন্ডাস্ট্রি পেপার উপস্থাপন, আলাদা ৪টি প্যানেল আলোচনা, প্রদর্শনী এবং বিটুবি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এই বিজটেক বিটুবি কনফারেন্সে রবিবার দুটি প্যানেল আলোচনা, বিটুবি মিটিং এবং সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনের অংশ হিসেবে রবিবার সকালে শিক্ষা খাতের উপর প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষা খাতের উপর ইন্ডাস্ট্রি পেপার তুলে ধরেন বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর। আনন্দ কম্পিউটারসের স্বত্বাধিকারী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বনমালী ভৌমিক, এলআইসিটি প্রকল্পের কমপোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ, ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জের পরিচালক কেএএম মোরশেদ।
আলোচকরা বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কম্পিউটার শিক্ষা দেয়া উচিত। দেশের সফটওয়্যারের বড় বাজার তৈরিতে আমাদেরকে সফটওয়্যার আমদানি না করে স্থানীয় কোম্পানির থেকেই প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার নিতে হবে। যদি সফটওয়্যার আমদানি করতেই হয় তাহলে বিদেশি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে দেশীয় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আন্ত:সংযোগ করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি কোম্পানির শেয়ার কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর বিজনেস টু বিজনেস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে তৈরি পোশাক খাতের উপর আরেকটি প্যানেল আলোচনা হয়। তৈরি পোশাক খাতের উপর ইন্ডাস্ট্রি পেপার উপস্থাপন করেন বেসিসের সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান।
বেসিসের সাবেক সভাপতি ও সিএসএল সফটওয়্যার রিসোর্সেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম রাউলির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার সাহা, বেসিসের সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন করিম ও বিকেএমইএ’র পরিচালক সেলিম মাহমুদ।
আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক। এই খাতে রফতানিতে বিশ্বের আমাদের অবস্থান দ্বিতীয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছর বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।  এর মধ্যে পোশাক খাত থেকেই আয় হয়েছে ২৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় ২০২১ সাল নাগাদ ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। আর সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর তৈরি পোশাক খাত! তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতে ৮১ শতাংশ ভ্যালু অ্যাড করা সম্ভব।
তৈরি পোশাক খাতের বিজনেস ট্রানজেকশন প্রসেসিং, পারফরমেন্স মূল্যায়ন, যোগাযোগসহ ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশের এই খাতে এখনও পর্যন্ত সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ততোটা চোখে পড়ে না। অনেক গার্মেন্টস মালিক এ বিষয়ে না জানার কারণে তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে চান না। আর যারা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল দিকগুলো বোঝেন তারা অনেকেই উচ্চদামে বিদেশ থেকে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা নিচ্ছে। অথচ আমাদের দেশের কো¤পানিগুলোর কাছ থেকে এসব সেবা নিয়ে খরচ কয়েকভাগ কমে যেতো। বিক্রয় পরবর্তী সেবায়ও আপনারা ভালো সেবা পেতেন।
আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। আর দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সেবার চাহিদা পূরণের যথেষ্ঠ সক্ষমতা রয়েছে আমাদের কোম্পানিদের। বাংলাদেশি কো¤পানিগুলোর তৈরি সফটওয়্যার বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো আন্তর্জাতিকমানের। দাম ও সেবার ক্ষেত্রেও সেগুলোতে বিদেশি কো¤পানির থেকে বেশি সহায়ক। তবে অনেকেই দেশের বাইরে থেকে সফটওয়্যার আমদানি করছে। তাই আপনাদেরকে দেশিয় কো¤পানির সফটওয়্যার ও সেবার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর তৈরি পোশাক খাত প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাচ্ছি।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন