লোগো ডিজাইনে দশটি কার্যকর টিপসঃ (১ম পর্ব)

লোগো ডিজাইনে দশটি কার্যকর টিপসঃ (১ম পর্ব)

লোগো!!! কোন ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্টানের একটি গুরূত্বপূর্ণ পার্ট। নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে হচ্ছে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কারন মানুষ একটা ব্যান্ডকে নামে যতটা না চেনে তার চেয়ে বেশী চেনে লোগোর মাধ্যমে। ধরুন আমি এখন আপনাকে যদি কোকাকোলার কথা বলি তবে নিশ্চয়ই চোখের সামনে লাল রঙের কোকাকোলা লিখাটা ভেসে উঠবে কিংবা যদি ম্যাকডোনাল্ডের কথাই বলি তবে হয়তো হলুদ রঙের ইংরেজী M অক্ষরটাই ভেসে উঠবে। তাই লোগো ডিজাইনিং কাজটা একটু মনযোগ নিয়ে করা উচিত। এই পোষ্টে লোগো ডিজাইনিং এর ১০ টি প্রাথমিক কিন্তু কার্যকরী টিপস নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করি যারা ফটোশপ কিংবা ইলাষ্ট্রেটর নিয়ে কাজ করছেন বা শিখছেন তাদের কাজে লাগবে।

১. লোগোটিকে সহজবোধ্য করে তুলুন
লোগো ডিজাইনিং এ যত প্রাথমিক নিয়ম রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি হল একে সিম্পল করে তোলা। বোল্ড শেপ এবং ডিজাইন ব্যবহারে কখনো কার্পন্যবোধ করবেন না। লোগোর সরলতা এমন একটি বিষয় যা লোগোকে স্বীকৃত, মার্জিত এবং শোভনীয় করে তোলে।

২. লোগোটিকে স্কেলেবল করে তুলুন
আপনার লোগোটি স্কয়ার কিংবা রাউন্ড শেপ হলে ভাল হয়। অথবা এটি হতে পারে সমকোনী চতুর্ভূজ আকৃতির। মোটকথা আকৃতিটা এমন করে তৈরী করুন যেন তা সহজেই একটি বর্গক্ষেত্রের মাঝে এটে যায়। এতে সুবিধা হল লোগোগুলো সোসিয়াল মিডিয়া সাইটে ব্যবহার করা সহজ হয়। (বর্তমান সময়ে সোসিয়াল মিডিয়া ছাড়া কোন ব্রান্ডের টিকে থাকা একরকম অসম্ভব ব্যপার।)

৩. কালার, শেড, গ্রেডিয়েন্ট এবং রিফ্লেকশন ব্যবহারে সতর্ক হোন
একটি সিঙ্গেল কালার এর লোগোও যথেষ্ট ভাল হতে পারে, যদি সেটা দেখতে সিম্পল এবং আকর্ষনীয় মনে হয়। যদি মাল্টি কালার ব্যবহার করতেই হয়, তবে তা যেন ৩টা কালারের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে। তাছাড়া আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, কালার লোগোটা এমন ভাবে তৈরী করা হয় যেন সেটাকে সাদাকালো করলেও ভাল দেখা যায়। আর এজন্যেই লোগোতে শেড কিংবা গ্রাডিয়েন্টের ব্যবহার এড়িয়ে চলা ভাল।

৪. লোগোকে কথা বলতে শেখান
হ্যা, আমি কথা বলার কথাই বলছি। লোগোটিকে এমন ভাবে তৈরী করুন যাতে সেটি দেখতে আকর্ষনীয় এবং ব্যাখ্যাযোগ্য হয়, যেন ব্রান্ডের হয়ে কথা বলে, নির্ধারিত ব্র্যান্ডকে উপস্থাপন করতে পারে। লোগো কখনো র্যায়নডম সিলেকশনের মাধ্যমে তৈরী হয়না, প্রতিটা লোগোরই একটা ব্যকগ্রাউন্ড ষ্টোরী থাকে। তাই একজন ডিজাইনার হিসেবে আপনাকেও এমন একটি ডিজাইন সিলেক্ট করুন যেটা আপনার লোগো তৈরীর গল্পটাকে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারবেন। যেমন, amazon.com এর লোগোর কথাই চিন্তা করুন।

logo design tips-devsteam institute

কি! আপাত দৃষ্টিতে কিছু বুঝতে পারছেন? ভালো করে দেখুন লোগোটিতে হলুদ তীর চিহ্ন দিয়ে হাসি বুঝানো হচ্ছে, যা ওদের ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টির বিষয়টি বুঝাতে চাচ্ছে। আর ভালো করে লক্ষ্য করুন তীর চিহ্নটি a থেকে z পর্যন্ত, অর্থাৎ ওদের স্টোরে a থেকে z পর্যন্ত সব ধরনের পণ্যই পাওয়া যায়। কিংবা, ইউনিলিভার এর কথাই ভেবে দেখুন, এই লোগো দেখননি এরকম মানুষ আমাদের দেশে কেনো পৃথিবীতেই কম আছেন। আপাত দৃষ্টিতেতো একটি U দেখছেন?

আসলে ইউনিলিভার এমন একটি কোম্পানি যা খাবার থেকে শুরু করে সাবান সবধরনের পণ্যই প্রস্তুত করে থাকে।আর এসব পণ্যই তাদের লোগোর মধ্যে বিভিন্ন চিহ্ন দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছে। যেমন- হার্ট দিয়ে love, care and health, পাখি দিয়ে ফ্রিডম ও শার্ট দিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন কাপড় বোঝানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের লোগোটি দেখুন, এখানে পাখির মাথার পেছনের অংশে B , পায়ের অংশ P এবং লেজের দিকটায় C, অর্থাৎ BPC- Bangladesh Porjoton Corporation। আমরা বাঙ্গালিরাও কম যাই নাকি?

এখন বুঝতে পারছেন কিভাবে আপনার লোগো ব্যান্ডের হয়ে কথা বলবে?

৫. লোগোটিকে স্মরনীয় করে তুলুন
লোগোকে পরিচিত করে তোলার সবচেয়ে ভাল উপায় হল ইউনিক বোল্ড শেপ, বেসিক কালার কিংবা তাদের কাছাকাছি কালার ভেরিয়েশন ব্যবহার করা। তাছাড়া পরিচিত লোগোগুলি ভালভাবে দেখে নিন। সেগুলো একইসাথে অত্যন্ত সরল, অন্যদিকে বক্তব্য প্রকাশে সমর্থ। এই শ্লোগানগুলি নিশ্চয়ই আপনার পরিচিত, Think Different, Just Do It, Finger-lickin’ good, Impossible is nothing ইত্যাদি। মোটকথা ব্র্যান্ড, ইভেন্ট কিংবা প্রতিষ্ঠান এর সাথে লোগোটি সামঞ্জস্যতা প্রকাশ করে কিভাবে নিজের অনন্যতাকে তুলে ধরবে সেটা চিন্তা করে দেখুন। তবেই মানুষ সেটাকে মনে রাখবে।

(বাকি অংশ খুব শীঘ্রই আসছে)

আশা করি লেখাটার মাধ্যমে আপনাদের কিছু তথ্য দিতে পেরেছি। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে করে দেওয়ার অনুরোধ রইলো।

About ডেভসটিম ইনস্টিটিউট

একটি উত্তর দিন