লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

আমি দু-তিন দিন পুর্বেও মেসির খেলার ভীষন ভক্ত ছিলাম। এর মানে এই নয় যে আমি খুব বেশী ফুটবল বুঝি। মাঝে মধ্যে দেখে মেসির খেলা ভাল লাগত। আর্জেন্টাইন এই তারকা মেসির পায়ের জাদু যে সত্যিই অস্কিকার যোগ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও আমি কখনই আর্জেন্টিনার সাপোর্টার ছিলাম না কিন্ত তারপরও মেসির খেলা দেখতাম এবং ভালও লাগত। পাশাপাশি যেহুতু জার্মানির সাপোর্ট করি তিন বিশ্ব কাপ যাবৎ সেহুতু মেসি কে আমি কখনই প্রতিদন্দি মনে করিনি। মেসি একজন ভাল খেলোয়াড় এবং একজন মহান আর্জেন্টাইন তারকা তা নিয়ে কোন দ্বিমত আজও নেই।

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

এই মেসিরই জাদুতে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব থেকে উঠে আসল সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা।সারা বিশ্ব যখন বিশ্ব কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা নিয়ে মত্ত, অন্ধ ঠিক তখনই ফিলিস্তিনে শুরু হল নরকীয় হত্যাকান্ড। আজকের দিন পর্যন্ত সে নরকীয় হত্যাকান্ডর সংখ্যা প্রায় ২০০ ছুই ছুই। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের মুসলিম যখন বিশ্ব কাপের জুয়ারে ডুবে গেল ঠিক তখনই পৃথিবীর অপর প্রান্তের মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনে নির্বিচারে হত্যা করা হল নারী-শিশুসহ সাধারণ নাগরিকদের। শুধু তাই নয় একেকটি লাশের দৃশ্য ছিল অপরটির থেকে ভয়াবহ।

মুল আলোচনা, যেহুতু আমি একজন মুসলিম, অতি সাধারন মুসলিম। ঈমানের দিক থেকে যে আমি অনেক পিছিয়ে তা আর বলার প্রয়োজন নেই। একজন মুসলিম, অতি সাধারন মুসলিম হিসাবেই মুসলিম ভাই দের কস্টে সমবেদনা জানাতে ফিলিস্তিনি ভিবিন্ন পেজ, গ্রুপ, ইভেন্ট, ইত্যাদি-তে সমবেদনা জানাতে এবং তাৎক্ষনিক খবরা খবর জানতে ঘুরাঘুরি শুরু করি। কিন্তু সেই সময় এমন কিছু তথ্য, চিত্র, ভিডিও দেখতে পাই এই মেশি সম্পর্কে যার পর তার প্রতি ভালবাসাতো অনেক দুরের কথা ঘিন্যায়, কস্টে মনের অজান্তেই থুথু চলে আসে এবং একজন সাধারন মানুষ হিসাবে এমনটি হওয়াই স্বাভাবিক। কারন এমন নির্বিচারে মুসলমান হত্যা না বলে নির্বিচারে মানুষ হত্যার পক্ষে যেই ব্যাক্তি সমর্থন করতে পারে সে কতটা খারাপ হতে পারে? তাকে কি সত্যিই ভালবাসা যায়? কিংবা সে কি ভালবাসার যোগ্য?

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

মেসির বা এই ধরনের white listed কোন মানুস যখন কর্মের পক্ষে সাফাই গায় বা তাদের পক্ষ নেয় তখন সেই জিনিষটার গ্রহন যোগ্যতাও বেরে যায় শতগুন, তা আমরা ভাল করেই জানি। ঠিক এমনই ঘটেছে এই ক্ষেত্রেও। যখন ইফতারের পুর্বে আর সেহরির পর দফায় দফায় বোম্বিং হচ্ছিল ঠিক তখন ইসরাইলের ইয়াহুদি পন্থী পেজ গুলা বরাবরের মতই শেয়ার করছিল “মেসি নেইমার আমাদের সাথে রয়েছে…” অথবা “মেসি, নেইমার…… পৃথিবীর সবেচেয়ে ধর্মিয় পবিত্র স্থানে প্রার্থনা করে গিয়েছে”। ইত্যাদি…, ইত্যাদি। (প্রার্থনা রত মেসি  https://www.facebook.com/OfficialRussianJews/posts/10151792087936955)ইজরাইলি বর্বরতা আজ নতুন কিছু নয়। মুসলিমের কথা বাদই দিলাম একজন অন্য ধর্মের মানুষও পারবেনা ইজরাইলি বর্বরদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করতে। আমার এক সময়কার প্রিয় খেলোয়ার মেসি সেই কাজটিই করছেন, প্রথমে এই খবর দেখে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। পরে যখন যাচাই করে সত্যতা খুজে পেলাম বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। এই কথাটার পর হয়ত বা বলবে মেসি জানেনা যে ইসরাইলে এভাবে মুসলিম মারা হচ্ছে। তাহলে আর কিছুই বলার থাকছে না। ( https://www.facebook.com/notes/605026939617676 )

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

ইহুদিদের প্রার্থনালয়ে লিওনেল মেসি। হুম্মম অনেকেই হয়ত বা বলতেই পারেন ইজিরাইলি মন্ত্রী কিংবা ইজরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর সাথে মেসির সাক্ষাত করাটা স্বাভাবিক তিনি তা করতেই পারেন। তাদের ভাল সম্পর্ক থাকতেই পারে,… ইত্যাদি ইত্যাদি…। সেই জন্য উল্লেক্ষ করতে হচ্ছে ইহুদিদের প্রার্থনালয়ে লিওনেল মেসির অপর একটি সংবাদ। ( প্রার্থনা রত মেসির ভিডিও লিঙ্কঃ  http://www.youtube.com/watch?v=2JqckdwtaPM
আরো একটি ভিডিওর লিঙ্কঃ  http://www.ynetnews.com/articles/0,7340,L-4413434,00.html
ইহুদিদের প্রার্থনালয়ে লিওনেল মেসির প্রার্থনা রত ছবি অ্যালবামঃ
http://www.vosizneias.com/news/photos/view/791372058 )

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

ইহুদিদের প্রার্থনালয়ে মেসি শুধু ভ্রমনই করেননি বরং তিনি সেখানে প্রার্থনাও করেছে। অনেকেই বলতে পারেন মেসির ইয়াহুদিদের ভাল লেগেছে তাই প্রারার্থনা করেছে এতে এমন কি আসে যায়? এতে ফিলিস্তিনির কি এমন ক্ষতি হয়েছে? মেসি ইয়াহুদি কিংবা খ্রিস্টান হোক সেটা তার একান্তই নিজেসস ব্যাপার। হুম্মম তার পিছনেও একটা যুক্তি রয়েছে কারন উক্ত স্থানটি শুধু যে ইহুদিদের প্রার্থনালয়ই তা কিন্তু নয়, এই স্থানটিতে বিশেষ ভাবে ইসরাইলের দীর্ঘ আয়ু কামনা করা হয়। এটি একটি প্রাচির যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের এক পাশে বন্ধি করে রাখা হয়েছে। ( ছস্ট মন্তব্যে লিংকে ইস্রাইলি ইয়াহুদিদের সেই প্রাচিরের তাতপর্য বুঝার জন্য অপর একটি সংবাদের লিংক শেয়ার করলাম। )

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

তাদের উপস্থিতে সেদিন জেরুজালেমের সালতিতে কিছু মানুষ বিদ্রোহও করে, এতে মেসি কে নিয়ে কিছু বিকৃত প্লাকার্ড বানিয়ে তারা সেখানে অংশগ্রহন করে। সেই বিদ্রোহ সম্পর্কে একটি সংবাদ সপ্তম মন্তব্যে এবং অপরটি অস্টম মন্তব্যে শেয়ার করলাম। সর্বশেষ ৯ম মন্তব্যে একটি ফিলিস্তিনি পেজের পোস্টের লিংক শেয়ার করলাম।
তারপরও আরও কিছু ছবি আমি পরবর্তি মন্তব্যগু-লোতে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করছি। সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন । এখানেই শেষ করছি কিন্তু তার পুর্বে কিছু কথা না লিখলেই নয়ঃ

* মেসি কে কিংবা আর্জেন্টিনা কে ছোট করার আমার কোন ইচ্ছে নেই।
* মেসি কে কিংবা আর্জেন্টিনা কে আমি কোন দিনও প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না।
* আর্জেন্টিনার প্রতি একটা ভালবাসা চিরদিনই থাকবে মেরাডোনা এবং ফুটবলের জন্য।
* আর্জেন্টিনার সাপোর্ট করতে আমি বাঁধা দিতে চাচ্ছি না বরং মেসির অন্য রুপ ফুটিয়ে তুলে ধরলাম মাত্র।

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

আমার কাছে মনে হয়েছে এটা সবার সাথে শেয়ার করা উচিৎ শুধুমাত্র সেই চিন্তা থেকেই শেয়ার করলাম। ভাল লাগা, খারাপ লাগা একান্তই আপনার ব্যাপার। আম জানি অনেকেই সব দেখেও মানবেন না এতে আমার দুঃখ নেই, আবার অনেকেই বলবেন ধর্ম ধর্মের জায়গায় খেলা খেলার জায়গায় তাদের জন্য বলব তাহলে তারা কেন খেলার সাথে ধর্ম জরায়? তারা কেন খেলার মাধ্যমে আমাদের সাপোর্ট যোগাড় করে আমাদেরই বিরুদ্ধে ঐক্যমত গঠন করে?

লিওনাল মেসি ভার্সেস ফিলিস্তিন

সব শেষে আবারও বলব শত্রুমি কিংবা কোন প্রকার রাগের থেকে নয় বরং যারা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের হত্যার প্রতি সাপোর্ট দিচ্ছে এবং দিবে তাদের আমি ঘিন্যা করি, ঘিন্যা করি এবং ঘিন্যা করি। এতে যদি আপনি আমাকে ঘিন্যা করেন আমার কিছুই করার নেই। এতে যদি আপনি আমাকে উগ্র পন্থী মুসলিম বলেন অথবা জংগি তাতেও আমার দুঃখ নেই। আমার কাজ ছিল এই মেসেজটা আপনার কানে পৌছে দেওয়া আর আমি তা পৌছে দিলাম। ভাল লাগা মন্দ লাগা একান্তই আপনার ধন্যবাদ। আশা করি খুব দ্রুতই আরও এমন কিছু ইয়াহুদি এজেন্টের পরিচয় নিয়ে লিখব। ভাল থাকবেন।

About Mehedi Menafa

Mehedi Menafa

একটি উত্তর দিন