লন্ডনে ই-কমার্স মেলা শুরু হতে যাচ্ছে ১৩ নভেম্বর

লন্ডনে ই-কমার্স মেলা শুরু হতে যাচ্ছে ১৩ নভেম্বর

ঢাকা, অক্টোবর ৩১, ২০১৫: ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ: এ ল্যান্ড অব অপারচুনিটিজ’ স্লোগানে আগামী ১৩ ও ১৪ নভেম্বর লন্ডনের ই১ ৪টিটি, ৬৯-৮৯ মাইল এন্ড রোডের ‘দ্য ওয়াটারলিলি’তে দ্বিতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউকে-বাংলাদেশ ই-কমার্স ফেয়ার। গত ২৯ অক্টোবর লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। আইসিটি ডিভিশন, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি ও কমপিউটার জগৎ এর যৌথ আয়োজনে এই মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মেলায় বাংলাদেশ সরকারের ২জন মন্ত্রীসহ প্রায় ১২জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নিয়ে মেলাকে সাফল্যম-িত করবেন। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর সহযোগীতায় মেলার প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড এবং সিলভার স্পন্সর হিসেবে আইজিডাব্লিউ অপারেটরস ফোরাম। ইউকে-বাংলাদেশ ই-কমার্স ফেয়ার দুটি দেশের ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও স্টেকহোল্ডারদের একই ছাতার নিচে নিয়ে আসবে। মেলায় ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করবে। আশা করা হচ্ছে ই-কমার্স সেক্টরের প্রায় ৫০০০জন প্রফেশনাল এবং সদস্যগণ মেলায় অংশ নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব মো: আব্দুল হান্নান ইউকে-বাংলাদেশ ই-কমার্স ফেয়ার সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশের ই-কমার্স দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। দিন দিন অনলাইনে কেনাকাটা ও লেনদেন বাড়ছে। ফলে একদিকে যেমন পণ্যের দাম কমছে অন্যদিকে এই খাতে অনেক এসএমই কোম্পানি হচ্ছে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
মেলার প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম আয়োজক কমপিউটার জগৎ এর সিইও জনাব মো: আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, গত তিন বছরে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত অনেক দূর এগিয়েছে এবং সমৃদ্ধ হয়েছে। লন্ডনে ইউকে-বাংলাদেশ ই-কমার্স ফেয়ার অংশগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান, দর্শনার্থী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দসহ সবার জন্য আনন্দদায়ক হবে এবং নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চার করার পাশাপাশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এই মেলায় অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহৎ পরিসরে পণ্য ও সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে পারবে। এই মেলা একই প্লাটফর্মে পণ্য ও সেবা প্রদর্শন, সেমিনারসহ ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট কর্মকা- অংশগ্রহণকারীদের সামনে নতুন দুয়ার খুলে দেবে।
পণ্য ও সেবা প্রদর্শন, সেমিনার, অ্যাওয়ার্ড প্রদানসহ ডিনার পার্টির মাধ্যমে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বাধুনিক উদ্ভাবন, ই-কমার্স, পেমেন্ট সার্ভিস ইত্যাদি বিষয়ে আন্ত:নেটওয়ার্ক বৃদ্ধিতে মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মেলায় মোট ৬টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমদিন ১৩ নভেম্বর মেলার ভেন্যু দ্য ওয়াটারলিলি’তে ২টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজনে ‘ইলেকট্রনিক পেমেন্ট: দ্য ট্রিগার ফর স্প্রেডিং ই-কমার্স’ শীর্ষক প্রথম সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর স্টান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের আয়োজনে ‘ফোকাসিং অন ইলেকট্রনিক ডেলিভারি চ্যানেল’ শীর্ষক  দ্বিতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া মেলার দ্বিতীয় দিন মোট ৪টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ: নিউ আইসিটি ডেসটিনেশন’ শীর্ষক সেমিনার। এফবিসিসিআইয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘ইনভেস্টিং ইন বাংলাদেশ: দ্য নেক্সট ইমার্জিং ডেস্টিনেশন ফর ই-কমার্স ইন এশিয়া’ শীর্ষক সেমিনার। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘এক্সপোর্টিং ইন দ্য ডিজিটাল এইজ: হেল্পিং বাংলাদেশি কোম্পানিজ টু সাকসিড গ্লোবালি’ শীর্ষক সেমিনার। সবশেষ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘আইসিটি ইন এডুকেশন ইনোভেশনস: লেসন লার্নট ফ্রম বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হবে।
মেলায় ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ই-গভ. সার্ভিস, ক্রেডিট কার্ড অ্যান্ড পেমেন্ট সার্ভিস, ব্যাংকিং সার্ভিস, ই-এডুকেশন, সফটওয়্যার অ্যান্ড হার্ডওয়্যার, রিয়েল এস্টেট, টেলিকম, কুরিয়ার/ডেলিভারি সার্ভিস, এয়ারলাইন্স, ট্যুরিজম-ট্রাভেল অ্যান্ড হোটেল, ফ্যাশন হাউসসহ অন্যান্য ই-সেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

About blog admin

একটি উত্তর দিন