রিভেঞ্জ পর্ন সাইট শিকারী অ্যাডাম স্টেইনবো, অজানা যে বীরের বীরত্বগাঁথা

রিভেঞ্জ পর্ন সাইট শিকারী অ্যাডাম স্টেইনবো, অজানা যে বীরের বীরত্বগাঁথা

রিভেঞ্জ পর্ন সাইট শিকারী অ্যাডাম স্টেইনবো, অজানা যে বীরের বীরত্বগাঁথা

লস অ্যাঞ্জেলসে এক আইনজীবীর ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন অ্যাডাম স্টেইনবো। এই মানুষটির শখটি বড় অদ্ভুত যা তিনি আবেগ দিয়ে লালন করেন। ৩১ বছর বয়সী এই তরুণের শখ হলো, রিভেঞ্জ পর্ন সাইটগুলো ওপর নজরদারি করা। সাধারণত সম্পর্কের ভাঙন বা টানাপড়েনের ফলে বিশেষ করে প্রেমিকের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক বিকৃত মনোভাব থেকে ছড়িয়ে পড়েছে রিভেঞ্জ পর্ন। সম্পর্কে নানা সময়ের অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো ক্যামেরা ধরে রেখে ভাঙনের পর তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়াকে বলা হচ্ছে রিভেঞ্জ পর্ন।

অ্যাডাম স্টেইনবো গত দুই বছর ধরে শত শত ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন রিভেঞ্জ পর্ন সাইটগুলো যারা পরিচালনা করেন তাদের পরিচয় বের করার কাজে। এসব পর্ন সাইটে মেয়েদের শত শত নগ্ন ছবি পাবলিক এক্সিবিশনের জন্য তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের নাম ঠিকানা এবং ফোন নম্বরসহ যা নিমিষেই অসংখ্য মেয়ের জীবন নষ্ট করছে। অ্যাডাম নিজ প্রচেষ্টায় শনাক্ত করেছেন হোয়াইট হ্যাকার, দ্য ডাবিয়াস ডাইনামিক ডুয়ো রানিং ইউগোপোস্ট এবং দ্য ওকলাহোমা ড্রামার অপারেটিং উইনবাইস্টেট এর মতো রিভেঞ্জ পর্ন সাইটকে।

বর্তমানে তিনি অন্যান্য সাইটগুলোর পেছনের অপরাধীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। এসব সাইটে অনেকের নাম সংযুক্ত করা হয়েছে যা প্রকাশযোগ্য নয়। অ্যাডাম বলেন, রিভেঞ্জ পর্ন সাইটের মাধ্যমে মেয়েদের যে করুণ পরিণতি আমি দেখেছি, তা দেখেই এগুলো বন্ধ করার পেছনে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। ইতিমধ্যে জীবননাশের হুমকি পেয়েছেন তিনি। তার কারণেই আইনের সামনে দাঁড়িয়েছে বহু রিভেঞ্জ পর্ন সাইট। শিশু পর্ন প্রকাশ করার দায়ে ইউগটপোস্টেডকে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছে। এই সাইটের সঙ্গে উইনবাইস্টেট অপরাধী প্রমাণিত হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে।

ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামির আইন বিভাগের প্রফেসর মেরি অ্যান ফ্রাঙ্কস জানান, বর্তমানে রিভেঞ্জ পর্ন সাইটের চালকরা দারুণ ভয় পান অ্যাডামকে। কারণ তিনি এই কাজটিতে পারদর্শী। যারা এই ধরনের পর্নের শিকার হচ্ছেন, তাদের সবার জন্য সমবেদনা জানান সবাই। কিন্তু সত্যিকার অর্থে কিছু করছেন অ্যাডাম। এ বিষয়ে অ্যাডামের বক্তব্য পরিষ্কার, কে কিভাবে আমাকে ব্লগে হুমকি দিলো সে বিষয়ে আমার কিছু যায় আসে না। তবে আইন যদি সহায়তা দেয় এবং ওইসব কালপ্রিটদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারে তবে আমি ওদের ধরিয়ে দেব।

আইন পেশায় আসার আগে অ্যাডাম মাইস্পেসে ‘সিকিউরিটি অ্যাবইউজ স্পেশালিস্ট’ হিসেবে কাজ করতেন। যারা ইন্টারনেটে অবৈধ কিছু করতেন তাদের আইপি অ্যাড্রেস বের করে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়াই ছিলো তার কাজ। ২০১২ সালে লস অ্যাঞ্জেলসের ল স্কুল অব লয়োলা থেকে আইন শিক্ষা গ্রহণের পর রিভেঞ্জ পর্ন সাইটের হোতাদের আইপি খুঁজে বের করছেন এবং শাস্তির ব্যবস্থা করছেন। অ্যাডামের এই গোয়েন্দগিরি শুধুমাত্র ইন্টারনেটকেন্দ্রিক নয়। হোতাদের পরিচয় বের করতে তাকে ছদ্মনামের বিভিন্ন সোর্স এবং বিভিন্ন সময়ে রিভেঞ্জ পর্নের শিকার মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে হয়।

বর্তমানে তার এই কর্মকাণ্ডে গড়ে উঠেছে একদল মানুষের একটি সংগঠন যারা রিভেঞ্জ পর্ন সাইট বন্ধের জন্যে কাজ করছেন। পাশাপাশি এরা শিকারদের মানসিকভাবেও সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। অ্যাটর্নি নিজেও অ্যাডামের কর্মকাণ্ডের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখছেন। কাজেই নিশ্চিতভাবে তিনিও এসব অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করছেন। রিভেঞ্জ পর্নের শিকার শত শত নারী এবং সচেতন মানুষদের মুখে অ্যাডাম সম্পর্কে একটিই মন্তব্য, অ্যাডাম হচ্ছেন অ্যান্টি-রিভেঞ্জ পর্ন মুভমেন্টের সেই বীর যার বীরত্বগাঁথার গল্প আমরা জানি না।

About boshe achi

একটি উত্তর দিন