রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ল্যাপটপ মেলা শুরু

রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী ল্যাপটপ মেলা শুরু

pr1 ‘সবার জন্য ল্যাপটপ’ স্লোগান নিয়ে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ল্যাপটপ মেলা। ল্যাপটপ ও ট্যাব নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় আয়োজন চলবে শনিবার পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার এ মেলার উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহিম। এক্সপো মেকারের আয়োজনে এই মেলায় দেশ-বিদেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তির পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করছে। মেলায় বিভিন্ন পণ্যে ছাড় ও উপহার উৎসব চলছে।
মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বর্তমান সরকার সবার হাতে ল্যাপটপ পৌঁছে দিতে চায়। আর ল্যাপটপ মেলা সেই সুযোগকে তরান্বিত করে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২২ হাজার বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। যেগুলোতে ল্যাপটপের মাধ্যামে শিক্ষা কার্ক্রম পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তিকে পাঠ্য করা করা হয়েছে। আর এগুলোর প্রসারে ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে ল্যাপটপ মেলা।
সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কথা স্মরণ করে প্রথম এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহীম বলেন, নেপালে এথন বিধ্বস্থ জনপদে পরিণত হয়েছে। নেপালের অসহায় মানুষদের পাশে আমরা দাঁড়াতে চাই। তাতে সহায়তা করছে এবারের ল্যাপটপ মেলা। মেলার টিকিট থেকে প্রাপ্ত টাকার ২৫ শতাংশ নেপালের ভূমিকম্প আক্রান্তদের সাহায্যার্থে দান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্হিবিশ্বের প্রযুক্তি এতোটা উন্নয়ন হয়েছে যে বাস, ট্রেন, বিমান কখন স্টেশনে আসবে আবার পৌছাবে তাও জানা যায়। বাংলাদেশেও অচিরেই হয়ত সেই প্রক্রিয়া চালু হবে। তাতে প্রযুক্তি উন্নয়নে অবদান রাখবে ল্যাপটপ মেলা।
pr 01এবারের মেলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকম বিশেষায়িত নিউজ পোর্টাল টেকশহর ডটকম। সহ-পৃষ্ঠপোষকে যুক্ত হয়েছে এসার, আসুস, ডেল ও এইচপি।
মেলার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল ফাত্তাহ, এসারের প্রতিনিধি এক্সিকিউটিভ টেকনোলজিস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার সালমান আলী খান, ডেলের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এইচপির কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মো. ইমরুল হোসেন ভূইয়া এবং টেকশহর ডটকমের প্রতিনিধি আল-অমীন দেওয়ান।
এবারের মেলায় অ্যাপল, এসার, আসুস, ডেল, এইচপি, লেনোভো, তোশিবা, টুইনমস, গিগাবাইট, ডিলাক্স, এক্সট্রিম, লজিটেক, মিইজু, ডিলিংক, আইনল, শাওমি, এইচটিসি, এইচটিএস, মাইসেল, মাইক্রোল্যাব, জেটকাইট, জিওনির মতো ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যাবে।
এক্সপো মেকারের পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাহিদ হাসনাইন সিদ্দিকী জানান, মেলায় ৫০টি স্টল, সাতটি মিনি প্যাভিলিয়ন ও তিনটি প্যাভিলিয়নে অংশ নিচ্ছে স্মার্ট টেকনোলজিস, গ্লোবাল ব্র্যান্ড, কম্পিউটার সোর্স, ফ্লোরা, লেনোভো, আরএনটেক, এইচটিএস, মাইসেল, গ্যাজেট গ্যাং সেভেন, এমজে টাইমসটেক,ডিএক্স জেনারেশন, ই-জগত ডটকম, মাইক্রোল্যাব, এইচপিএস ও গ্যাজেট গ্যালারি।
নাহিদ জানান, এটি দেশের ১৫ তম ল্যাপটপ মেলা। এর আগে ১৪টি ল্যাপটপ মেলার আয়োজন করেছে এক্সপো মেকার। বিগত কয়েক বছর ধরে এক্সপো মেকারের এই মেলাটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আকর্ষণীয় ইভেন্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে তরুণ, শিক্ষার্থীসহ সকলের আগ্রহ থাকে চোখে পড়ার মতো। বরাবরের মতো এবারও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে মেলাকে।
আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকরা জানান, প্রযুক্তিপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে এবার মেলায় বেশ কিছু আয়োজন চলছে। মেলায় বিভিন্ন পণ্যে মিলছে ছাড় ও উপহার।
মেলায় গেমিং জোন করেছে গিগাবাইট। টিকেট বুথ পৃষ্ঠপোষক পান্ডা সিকিউরিটি। আয়োজক অংশীদার হিসেবে রয়েছে এবিসি রেডিও, এডুমেকার ও ট্রন।
এবারের মেলা থেকে বিক্রিত টিকিটের অর্থের ২৫ শতাংশ নেপালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য হিসেবে এবং আরও ২৫ শতাংশ তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিলে দান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মেলার আয়োজকেরা। এ ছাড়াও নেপালের দূর্গতদের সাহায্য করতে ইচ্ছুকদের জন্য মেলায় একটি হেল্পবক্সও রয়েছে।
ল্যাপটপ মেলায় প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা। স্কুল শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরে বিনা মূল্যেই মেলায় ঢুকতে পারছেন। প্রতিবন্ধীরাও পাচ্ছেন বিনামূল্যের প্রবেশের এই সুযোগ।
মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, ল্যাপটপ মেলায় ক্রমশ ল্যাপটপ বিক্রি বাড়ছে। ২০০৮ সালে যেখানে ৪০০টির মতো ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছিল সেখানে ২০১৪ সালে তিন দিনের এই মেলায় প্রায় ৫ হাজার ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছে। আর ব্যাপক ছাড় ও উপহারে এই ল্যাপটপ মেলা বরাবরই জমে ওঠে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন