মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়িয়েছে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়িয়েছে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা নতুন মাত্রায় পৌঁছাল। গত এপ্রিল মাস শেষে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস তথা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ লাখ ৫৪ হাজার জনে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এএফএম আসাদুজ্জামান বলেন, এপ্রিল মাস শেষে গ্রাহক সংখ্যা নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের হিসাব মতে এ পর্যন্ত ২৬টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১৭টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ লাখের ওপরে।”

MobileBank_Main

জানা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন ১২১ কোটি টাকার ওপর লেনদেন হচ্ছে।

সোমবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান তার দফতরে বলেন, “দরিদ্র ও ব্যাংকিং সেবা বহির্ভূত জনগণকে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এবং প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দ্রুত, সহজ ও নিরাপদে গ্রামীণ এলাকায় বসবাসরত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আমরা ২০১০ সালে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের কার্যক্রম শুরু করি। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ব্যাপকভাবে সাড়া দিয়েছে তফসিলি ব্যাংকগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেলো।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা যদি আমাদের দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ শিল্প কারখানার শ্রমিকদের এ সেবার আওতায় নিয়ে আসতে পারি তবে অর্থনীতির চেহারা আরো বদলে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সে চেষ্টাই করছে।”

জানা গেছে, এপ্রিল মাসে মোট ১ কোটি ৫১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯৬টি লেনদেন হয়। মার্চে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৮ হাজার ৬৩১টি।

হিসাব মতে, মার্চে লেনদেনকৃত টাকার পরিমাণ ছিলো ৩ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এপ্রিলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৩৭ কোটি টাকার ওপরে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সেবা দেওয়ার জন্য ১৭টি ব্যাংক ৮৩ হাজার ৬৩৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, মোবাইল ফোনে ইউটিলিটি বিল পরিশোধের পরিমাণও দিন দিন বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। তবে এপ্রিলে তা গিয়ে দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

আসাদুজ্জামান বলেন, “তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসতে আমরা ইতোমধ্যে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-বিটিএমএসহ কারখানা মালিকসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি।”

সৌজন্য : বাংলানিউজ২৪.কম

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন