মোবাইল চার্জের দোকান !

মোবাইল চার্জের দোকান !

মানুষ জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন রকম পেশা বেছে নেয়। কেউ ব্যবসা, কেউ চাকরি, কেউ শিক্ষকতা আবার কেউবা ভিক্ষাবৃত্তির পেশাও বেছে নেয়। এরই মাঝে কিছু ব্যতিক্রম পেশাও থাকে যা মানুষকে আলোচিত করে সমালোচিতও করে। এ রকম এক ব্যতিক্রম ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর উপকূল এলাকা লুধুয়া বাজারে। ভাঙ্গন কবলিত এ বাজারের চারপাশে বিদ্যুত সংযোগ না থাকলেও লুধুয়া বাজারে পল্লিবিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে। এ সুযোগে ব্যতিক্রম এ ব্যবসা চালু করেছে নিরব হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী। তার ব্যবসাটি হচ্ছে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি চার্জ দেয়ার ব্যবসা। নিরবের মোবাইল চার্জ এর দোকানে রাতের বেলায় তাকালে মনে হয় জোনাকি পোকার সমারোহ। সেখানে শত শত চার্জারের ছোট ছোট আলোই জানিয়ে দেয় এটি মোবাইল চার্জের দোকান।

Nirob mobile charge

দোকানের মালিক একই এলাকার নিরু জানান, প্রতিদিন  তার দোকানে ৪শত থেকে ৫শত মোবাইল ও ব্যাটারি চার্জ দেয়া হয়। প্রতিটি মোবাইল চার্জ দিতে ২ থেকে ৩ টাকা করে নেয়া হয়। তিনি আরো জানান, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত এই সময়ে শতাধীক মোবাইল ফোন তার দোকানে আসে। এই জন্য অবশ্য তাকে লক্ষাধিক টাকার আইপিএস কিনতে হয়েছে। বিদ্যুত চলে গেলে আইপিএস আবার কখনো জেটারেটর দিয়ে চার্জ দিতে হয়। নিরব প্রতিমাসে প্রায় ৩০-৪০ হাজার টাকা মোবাইল চার্জ দিয়ে আয় করে বলে জানান। এ টাকা দিয়ে ২ ছেলে ২ মেয়ের স্কুলের পড়ালেখার খরচ চালান তিনি। সে আরো জানান মোবাইলের নিরাপত্তা দিতে সেটের সঙ্গে একটি টোকেন দিয়ে মোবাইল বা ব্যাটারির সঙ্গে রাবার দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়। এতে করে মোবাইল হারানের সম্ভাবনা থাকে না। মোবাইল চার্জ দেয়ার এ ব্যবস্থা দেখে একই বাজারে আরো অনেকেই এ ব্যবসা শুরু করেছেন। এ ব্যবসায় নিরব এখন অনেকটাই স্বাবলম্বি।

এ ব্যাপারে  স্থানীয় এক কলেজ ছাত্র মনজুর করিম জানান, আমরা অনেকেই এ প্রক্রিয়ায় মোবাইল চার্জ দিয়ে থাকি। চার্জ দেয়ার বিষয়টি সহজলভ্য হওয়ায় গ্রাহকরা এ ব্যবস্থায় খুশি। বিদ্যুত না থাকলেও চার্জ দিতে কোন সমস্যা হয় না। তাছাড়া অনেকেই কথা বলতে গিয়ে মোবাইলের চার্জ ফুরিয়ে গেলে চার্জার খুঁজতে হয়। দেখা গেছে নির্দিষ্ট চার্জার না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ কাজও সারতে পারছেন না। ফলে নিরবের চার্জারের দোকানটি অনেকের কাছে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: এবিনিউজ

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন