মার্কেটপ্লেসে নিজেকে যেভাবে সাজাবেন

মার্কেটপ্লেসে নিজেকে যেভাবে সাজাবেন

তথ্যপ্রযুক্তিতে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং একটি সম্ভাবনাময় খাত। দেশের প্রচুর ওয়েবসাইট ডেভেলপার, গ্রাফিক ডিজাইনার, আর্টিকেল রাইটার, মার্কেটার বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সফলতার সঙ্গে কাজ করছে। আবার অনেকে নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে মার্কেটে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে।

তবে নতুনদের কাছে যে বিষয়টা প্রায় শোনা যায়, তা হলো এ পেশায় সহজে সাফল্য পাওয়া যায় না। বিষয়টা কিছুটা হলেও সত্যি! যে কোনও একটি নির্দিষ্ট কাজের এবং ইংরেজি মাধ্যমে যোগাযোগের দক্ষতা না থাকলে আসলে এ পেশায় সাফল্য পাওয়া অনেকখানি অসম্ভব।

তবে হ্যাঁ, এই দুটো থাকলেই যে সাফল্যের চুড়ায় যাওয়া যাবে, তাও ঠিক নয়। সাময়িক সাফল্য পাওয়া এবং নিজেকে একটি পেশায় প্রতিষ্ঠিত করা এক নয়। এ পেশায় এগিয়ে যেতে নিজেকে একটি কমপ্লিট প্যাকেজ হিসেবে তৈরি করতে হবে, যাতে শুধু কাজের দক্ষতা নয়, অন্যান্য সকল দিক দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের একজন পেশাজীবী হিসেবে তৈরি করা যায়।

এ প্রতিবেদনে সেরকম কিছু ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হলো।

মার্কেটপ্লেসের প্রোফাইল
বর্তমানে ৪-৫টি আন্তর্জাতিকমানের ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস রয়েছে, যেখানে কাজ করে ভালো ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। এই মার্কেটপ্লেসগুলোর প্রতিটিতেই একটি কমন বিষয় থাকে, সেটা হলো একটি ভালো প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। সাধারণ কাজে যেমন সিভি দেখে চাকরি দেওয়া না দেয়ার বিষয়টি নির্ধারণ হয়, তেমনি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে আপনার প্রোফাইল দেখেই ক্লায়েন্ট বিবেচনা করবে আপনি কাজ পাওয়ার জন্য কতোটা যোগ্য। এর জন্য প্রোফাইলটিকে যতোটুকু সম্ভব আকর্ষণীয় করে পূরণ করতে হবে। যেগুলো না থাকলেই নয়:

• হাসিমুখে তোলা একটি ছবি, যেখানে আপনার চেহারা পরিস্কারভাবে বোঝা যাবে।
• স্কিল টেস্ট দেওয়া থাকলে ভালো। ইল্যান্স ডটকমে ফ্রিতেই প্রচুর স্কিল টেস্ট দেওয়া যায়। স্কিল টেস্ট দেওয়া থাকলে ক্লায়েন্ট বুঝবে যে আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নতুন অথবা অভিজ্ঞ যাই হোন না কেন, সেই স্কিলে আপনার যথেষ্ট তাত্ত্বিক জ্ঞান আছে।
• পোর্টফলিও আইটেম অ্যাড করা উচিৎ। পোর্টফলিও আইটেম হিসেবে নিজের তৈরি লোগো, নিজের বানানো ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট, ইউনিভার্সিটিতে তৈরি করা কোন প্রেজেন্টেশন, কোন সার্টিফিকেটের স্ক্যান করা ইমেজ, ইত্যাদি দেওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে যদি স্কিল টেস্ট থাকে, তাহলে ক্লায়েন্ট জেনে যাবে, যে আপনার শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান আছে তাই নয়, তার সঙ্গে ব্যবহারিক কাজ করার অভিজ্ঞতাও আছে।
• আপনার অ্যাকাডেমিক বিবরণ (কোথায় পড়াশোনা করেছেন, কি ডিগ্রি আছে ইত্যাদি) আপনার প্রোফাইলে আপডেট করুন। একই সাথে যদি কোন জব হিস্ট্রি থাকে সেটাও দিয়ে দিন।

বিষয়টি অনেকটা ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার মত। একদম খালি একটি ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালে যেমন কেউ আপনাকে সহজে অ্যাড করবে না, ঠিক তেমনি একদম খালি, অনাকর্ষণীয় একটি ফ্রিল্যান্স প্রোফাইল তৈরি করে কাজে আবেদন করলে ক্লায়েন্টরাও সাড়া দিবে না।

ক্লায়েন্টের কাছে কাজের আবেদন করা
যখন কোনও কাজে আবেদন করবেন, অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেনো আপনার লেখার ধরণ প্রফেশনাল হয়। কখনই কপি-পেস্ট করে আবেদন পাঠাবেন না। এটা করলে কাজ পাওয়া দুরহ তো হবেই, বরং অনেক ক্লায়েন্ট আপনার লেটার স্প্যাম হিসেবে মার্ক করলে মার্কেটপ্লেসের অ্যাকাউন্টটি হারাতে পারেন আপনি। যেটা করা উচিৎ সেটা হলো, প্রতিটি জব ভালোভাবে পড়ে, তারপর চিন্তা করে গুছিয়ে একটি লেটার লিখে পাঠানো। এক্ষেত্রে আপনি একটি ফরম্যাট ফলো করতে পারেন, যেমন:

• Hello, Good Day, Good Morning অথবা Evening, ইত্যাদি দিয়ে শুরু করতে পারেন (Dear Sir/Madam, Dear Manager, ইত্যাদি না দিলেই ভালো)
• তারপর এক লাইন আপনি তার কাজের বিষয়ে কোন প্রশ্ন করতে পারেন, এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট বুঝবে আপনি তার জবটি পড়েছেন।
• তারপর ২-৩টি লাইন লিখুন আপনার কোন স্কিলটি তার প্রোজেক্টে কাজে আসবে, এবং কেন।
• এরপর ৪-৫টি বুলেট পয়েন্ট করে লিখুন আপনি তার কাজটি পেলে কি কি ধাপে করবেন।
• আপনি কোনও ফাইল সংযুক্ত (অ্যাটাচ) করে থাকলে উল্লেখ করুন।
• সর্বশেষে ধন্যবাদ দিয়ে আপনার লেটার শেষ করুন।

এভাবে একটি ফরম্যাট ফলো করলে দেখবেন কখনই কপি-পেস্ট করতে হবে না। তবে হ্যাঁ, দুটি ব্যাপার কখনই করবেন না – একটা হলো লেটারে নিজের ইমেইল অথবা যোগাযোগের কোন আইডি উল্লেখ করবেন না, এবং কখনই আপনাকে যেন কাজটি দেয় এটা নিয়ে জোর করবেন না। নাহলে ক্লায়েন্ট আপনাকে আনপ্রফেশনাল ভাবতে পারে।

এছাড়া আবেদনের ক্ষেত্রে কখনই খুব কম রেটে বিড করবেন না। ১৫ টাকার একটি পানির বোতল যদি আপনার কাছে ৫ টাকা চায়, তাহলে যেভাবে সেটা কিনতে আপনার সন্দেহ হবে, তেমনি খুব কম প্রাইসে কাজে বিড করলে আপনার যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়েও ক্লায়েন্টের সন্দেহ হবে। মার্কেট যাচাই করুন, অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের প্রোফাইলে দেখুন তাদের রেট কত, তারপর নিজের একটি স্ট্যান্ডার্ড প্রাইস সেট করুন।

গুগল, গুগল, এবং গুগল
গুগলকে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বানিয়ে ফেলতে হবে। যেকোনও সফল ফ্রিল্যান্সারকে জিজ্ঞেস করলেই দেখবেন, প্রত্যেকেই বলবে তারা অনেক কিছু গুগল সার্চ করে জেনেছে। বিষয়টি আসলেই সত্যি। অনেক সময়ই অনেক ধাপে আটকে গেলে তখনই গুগল সার্চ করতে হবে। দেখা যাবে প্রচুর রিসোর্স ইতিমধ্যে অনলাইনে আছে যা আপনাকে সাহায্য করবে। প্রোফাইল সম্পূর্ণ করতে পারছেন না? গুগলে গিয়ে সার্চ দেন, “How to complete Elance profile”। প্রোপোজাল লেটার লিখতে সাহায্য দরকার? গুগলে সার্চ দিন, “How to write a perfect Elance proposal”। ফটোশপে কাজ করতে গিয়ে আটকে গিয়েছেন, গুগলে গিয়ে Photoshop Help অথবা Photoshop Tutorial Video লিখে সার্চ করুন, দেখবেন হাজার হাজার রিসোর্স আছে সাহায্যের জন্য।

এভাবে যদি নিজের ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার শুরু করেন, তাহলে আশা করা যায় খুব কম সময়েই সফলতা পাবেন, এবং সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে।

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন