মাইক্রোসফটের সোশ্যাল কিভাবে এলো

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল কিভাবে এলো

মাইক্রোসফট এর নতুন নেটওয়ার্কিং সাইট সোশ্যাল(so.cl) শেষ পর্যন্ত তার বেটা ভার্সন বের করেছে। এটি মুলত ছাত্রছাত্রিদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে বলা হচ্ছে কেননা ব্রাউজিং, সার্চ, এবং আরো অনেক সুবধা রয়েছে এই সাইটটিতে। তবে ফেসবুক, গুগল প্লাস, টুইটার এর সাথে পাল্লা দিয়ে এটি কি পারবে নিজের জায়গা করে নিতে?

সোশ্যাল  নিয়ে সবকিছু আমি আমার লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি , এ জন্য লেখাটি একটি ব্লগপোস্টের হিসাব অনুযায়ী বেশি বড় হয়ে যাওয়ায় লেখাটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম , আপনাদের সুবিধার জন্য । so.cl নিয়ে আপনি যেটা জানতে চান সেটাই পড়ুন –

মাইক্রোসফটের সোশ্যালঃ ইতিকথা এবং এর নীরব যাত্রা

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল কিভাবে এলো

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল – গুগল প্লাস থেকে কতটা ভিন্ন

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল কি সফল হবে?

সোশ্যালের উদ্দেশ্যঃ
মাইক্রোসফট সোশ্যাল বের করার উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করে এটি শিক্ষার উদ্দেশ্যে সোশ্যাল সার্চ এর একটি নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে। কেননা এটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এবং সার্চ এর সমন্বয় ঘটিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে ওয়েব পেজ শেয়ার করতে যেভাবে ছাত্রছাত্রীরা একসাথে কোন কাজ করে সেভাবেই এটি করা হয়েছে। মাইক্রোসফট এর একজন মুখপাত্র জানান, “ এটি বর্তমানে নেটওয়ার্কিং এবং সার্চ এর যেসব সাইট রয়েছে সেগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নয় বরং কিভাবে সর্বনিম্ন উপাদান ব্যবহার করে নেটওয়ার্কিং এবং সার্চকে মিলিয়ে তা শিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা জায় তার উপরই একটি গবেষনার ফসল।
কিভাবে এলো এই সোশ্যাল?
মাইক্রোসফট এর নতুন সাইট “সোশ্যাল”(So.cl)- যা একত্রিত করেছে নেটওয়ার্কিং এবং সার্চ- এটি ছাত্রছাত্রীদের ওয়েব এর মাধ্যমে বিভিন্ন খবর, ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ এবং শেখার সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছে। সোশালে মূলত আপনি ইন্টারনেট অনুসন্ধান উপর ভিত্তি করে পোস্ট তৈরি এবং শেয়ার করতে পারবেন, তবে এতে আরো অনেক কিছু যেমনঃ টেক্সট, ছবি এবং ভিডিও ইত্যাদি ও শেয়ার করা যাবে। মাইক্রোসফট এর ফিউজ ল্যাব ফেসবুক, টুইটার এবং বিং এর ডাটা সমূহের উপর বিশ্লেষণ করে তার উপর ভিত্তি করে এই সাইটটি ডেভেলপ করে।
ফিউজ ল্যাব এর ব্যবস্থাপক লিলি চেং জানান,” আমরা চেস্টা করেছি এমন একটি সাইট তৈরি করতে যেখানে খুব সহজে সমৃদ্ধ ও সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার অভিজ্ঞতা লাভ করা যায়। এখানে ব্যবহারকারী খুব সহজেই নিজের প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করাতে পারবে, অন্যদের অনুসরন করতে পারবে, ফীড সেট আপ করতে পারবে, জনপ্রিয় চলতি বিষয় সার্চ করতে পারবে।তবে এই সাইট এর অনেক কিছুই আমাদের আগে দেখা- পিন্টারেস্টে ব্যবহারকারীরা যেমন বোর্ড তৈরি করতে পারে এখানেও ব্যবহারকারীদের জন্য সে সুজগ রয়েছে তবে এখন পর্যন্ত এর ব্যবহার শুধু মাত্র কলেজ এর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই সীমিত রয়েছে।এছাড়াও এর নিউজ ফীড গুগল প্লাস এর কথাই মনে করিয়ে দেয়। তবে সোশ্যাল এর কিছু ফিচার এ নতুনত্ব তো রয়েছেই। যেমন- এর পার্টি ফিচারটি যেখানে আপনি কোন মিউজিক ভিডিও অথবা “টু অ্যান্ড হাফ মেন” এর কোন পুরাতন পর্ব দেখে নিতে পারেন খুব সহজেই। এবং চাইলে ভিডিও ফুটেজটির ব্যাপারে আলোচনাতেও অংশগ্রহন করতে পারেন। এই নেটওয়ার্ক একই কমিউনিটির সদস্যদের ভাললাগা, পছন্দের বিষয় ইত্যাদি বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করে। যেমনঃ পছন্দের খাবার, ব্যান্ড ইত্যাদি। এর উপর ভিত্তি করে নতুন নতুন মানুষের সাথে যোগাযোগ এর একটি পথ তৈরি হয়। যাইহোক, যেহেতু এটি একটি ওপেন কমিউনিটি তাই এখানে অনেক সময়ই এমন ছবি প্রকাশিত হতে পারে যা অনেকের বিরক্তির কারন হতে পারে। যেমনঃ মৃত ওসামা বিন লাদেন এর ছবি অথবা কোন প্রেমিক যুগলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ইত্যাদি। আপনি চাইলে ওইসব ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম আনফলো করে দিতে পারবেন। সোশ্যালে সাইন ইন করতে হলে আপনাকে ফেসবুক অথবা উইন্ডোজ লাইভ এর মাধ্যমে তা করতে হবে।
কারা রয়েছে এর পেছনে?
সোশ্যাল তৈরি করেছে ফিউজ ল্যাব নামের একটি ছোট্ট দল যার সদস্য মাত্র ২৩ জন। ফিউজ এর প্রতিষ্ঠাতা হল রে অজি। লিলি চেং এর আগে ইনিই মাইক্রোসফট এর ক্রিয়েটিভ পরিচালক ছিলেন যা পরবর্তীতে লিলি চেং-কে হস্তান্তর করা হয়। দেখা যাক ফিউজ ল্যাব সত্যিই কতোটা সফল হয় তাদের এই প্রজেক্টে যদিও খুব একটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।

About blogger - ব্লগার