মাইক্রোসফটের সোশ্যাল এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

সোশ্যাল  নিয়ে সবকিছু আমি আমার লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি , এ জন্য লেখাটি একটি ব্লগপোস্টের হিসাব অনুযায়ী বেশি বড় হয়ে যাওয়ায় লেখাটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম , আপনাদের সুবিধার জন্য । so.cl নিয়ে আপনি যেটা জানতে চান সেটাই পড়ুন –

মাইক্রোসফটের সোশ্যালঃ ইতিকথা এবং এর নীরব যাত্রা

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল কিভাবে এলো

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল – গুগল প্লাস থেকে কতটা ভিন্ন

মাইক্রোসফটের সোশ্যাল কি সফল হবে?

মাইক্রোসফট এর নতুন নেটওয়ার্কিং সাইট সোশ্যাল(so.cl) শেষ পর্যন্ত তার বেটা ভার্সন বের করেছে। এটি মুলত ছাত্রছাত্রিদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে বলা হচ্ছে কেননা ব্রাউজিং, সার্চ, এবং আরো অনেক সুবধা রয়েছে এই সাইটটিতে। তবে ফেসবুক, গুগল প্লাস, টুইটার এর সাথে পাল্লা দিয়ে এটি কি পারবে নিজের জায়গা করে নিতে?

মাইক্রোসফট এর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর উপর পরীক্ষার একটি ফসল হল সোশ্যাল। এটি ডিসেম্বরে শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও বর্তমানে যে কেউই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।এটি জনপ্রিয় সাইট ফেসবুক, গুগল প্লাস অথবা টুইটার এর সাথে পাল্লা দিতে সক্ষম নয় বরং এটি বিং সার্চ থেকে ওয়েব কন্টেন্ট  নিয়ে সাজানো হয়েছে এবং পিন্টারেস্ট এর মত করে  ইমেজ বোর্ড তৈরি করা হয়েছে।

কিন্তু  ফেসবুক কিংবা  টুইটার যেভাবে  আমাদের  অনলাইন  জীবনে জড়িয়ে আছে তার মাঝে নতুন এই সাইট টি কি পারবে তার জায়গা করে নিতে? তাছাড়া সোশ্যাল জনসাধারণের  ব্যবহারের জন্য  এখনো প্রস্তুত নয়। আপনি সেখানে  গেলে দেখবেন  অনেক সময়ই এর বিভিন্ন  লিঙ্কগুলো কাজ করছে না, এর বিষয়বস্তু আপনার  ফীডকে

জনপ্রিয়  করতে পারছে না, এবং অন্যান্য  কার্যাবলী ও খুব সীমিত। তবুও আপনি যদি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং  সাইট  গুলোর  একজন  চরম ভক্ত হন তবে দেখে নিতে পারেন এখানে মাইক্রোসফট এর গবেষণার নতুন ফসল- সোশ্যাল এর এক ঝলক।

সাইনিং আপ

আপনার ফেসবুক একাউন্ট বা উইন্ডোজ লাইভ আইডি ব্যবহার করেই সোশ্যালে যেতে পারবেন। তবে অনেক সময়ই ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এর মাধ্যমে সাইন ইন করতে চাইলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সাইন ইন এর পরিবর্তে পরে কোন এক সময়ে আপনাকে আপনার ইমেইল এ আমন্ত্রন জানান হবে বলে মেসেজ আসতে পারে। সুতরাং বর্তমানে সোশ্যালে অবিলম্বে প্রবেশাধিকার পেতে বরং উইন্ডোজ লাইভ এর অ্যাকাউন্ট এ শ্রেয়।

সাইন ইন এর পর আপনি একটি উইন্ডো দেখতে পাবেন যেখানে আপনাকে কিছু সাধারন আগ্রহের বিভাগ দেয়া হবে যা সাধারনত মানুষ অনুসরন করে থাকে।তবে সবসময় এট কাজ করে না!! তখন আপনি আপনার নিজের পছন্দমত বিভাগ বেছে নিতে পারেন।

এক্সপ্লোর

একবার আপনি  সোশ্যাল এর প্রাথমিক অভিবাদন  পার করে ফেলার পর, পরবর্তীতে যে পেজটি  আপনি পাবেন তা হল এক্সপ্লোর। এর মূল কলামটি  জেনারেল  ইন্টারেস্ট দিয়েই পূর্ণ থাকবে যা আপনি চাইলে অনুসরন করতে পারেন। এর বামপাশে আরেকটি নেভিগেশন কলাম রয়েছে যেটির মাধ্যমে  আপনি আপনার ফিডে কি দেখতে চান অথবা আপনার পোস্ট এ কি ধরনের বিষয়বস্তু শেয়ার করতে চান তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

ফীড

আপনার প্রোফাইল এ নির্দিষ্ট কিছু  ইন্টারেস্টের বিভাগ যুক্ত করার পরবর্তী ধাপ হল “ফীড”। এটি অনেকটা ফেসবুক এবং গুগল প্লাস এর মতই। আপনার ফিডে আপনি দেখতে পাবেন অন্যান্য সোশ্যাল ব্যবহারকারীদের শেয়ার করা পাবলিক পোস্টগুলো। ফীড এর নিচে “কনভারসেশন” নামে আরেকটি  বিভাগ রয়েছে যেখানে আপনি অন্যান্য সোশ্যাল ব্যবহারকারিদের সরাসরি মেসেজ পাঠাতে পারেন।

পোস্ট

এরপর নজর দেয়া যাক “পোস্ট” বিভাগটিতে।  মজার ব্যাপার হচ্ছে আপনি এখানে কোন বাহ্যিক  বিষয়বস্তু  পোস্ট করতে হলে আপণাকে প্রথমে কোন একটি বিষয় পছন্দ  করে এই পেজটির উপরে বিং এর সার্চ বার এ গিয়ে সার্চ করতে হবে। সার্চ এর ফলাফল পাবার পর  আপনি যে লিঙ্কটি আপনার পোেস্ট যুক্ত করতে চান সেটির নিচে “এড টু পোস্ট”  বাটনটিতে ক্লিক করলেই সেটি আপনার পোস্টে যুক্ত হয়ে যাবে। এরপর আপনি যদি এর সাথে কোন মেসেজ যুক্ত করতে চান তবে সেটি লিখে  “ডান” এ ক্লিক করলেই হবে।

এছাড়াও আপনি লিঙ্কটি ওয়েবসাইটটি থেকে গ্র্যাব করে এনে মেসেজ এন্ট্রি বক্সে দিয়ে “এড লিঙ্ক” এ ক্লিক করেও পোস্ট করতে পারেন। যেমন ধরুন, কম্পিউটার জগত-এর কোন পোস্ট যদি আপনি শেয়ার করতে চান তবে অই পোস্টটির লিঙ্কটি গ্র্যাব  করে আপনার পোস্টে পেস্ট করে দিন, একটি কমেন্ট লিখুন।  অন্যান্য ব্যবহারকারীরা  চাইলে আপনার পোষ্টের নিচের স্মাইলিতে ক্লিক করে আপনার শেয়ার করা লিঙ্কটি লাইক করতে পারে। অথবা তারা চাইলে এতে কমেন্টস করতে পারেন এমনকি ইমেইল অথবা ফেসবুক এর মাধ্যমে আপনার পোষ্টটি শেয়ার ও করতে পারে। এছাড়া আপনার পোস্টটি কেউ ট্যাগ ও করতে পারবে।

রিফঃ

গুগল প্লাস এবং ফেসবুক এর মত সোশ্যালে আপনি কমেন্ট করতে পারবেন কোনো পোস্টের উপর এবং সেই পোস্টকে রিশেয়ার করতে পারবেন – এখানে রিফ্লিং আপনাকে একটু ভিন্ন মাত্রা দিবে। রিফ করার মাধ্যমে আপনি আপনার শেয়ারকে কোলাবরেট করতে পারবেন এর আসল পোস্ট এবং কমেন্ট সহ, এবং এর সাথের সকল লিঙ্ক সহ।

প্রোফাইলঃ

সোশ্যাল ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে তার নাম, তার ফেসবুক অথবা উইন্ডোজ লাইভ এর প্রফাইল ছবি, ব্যবহারকারীর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ প্রদর্শিত হয়। এছাড়াও এর ফেসবুক এর মত একটি কভার ফটো বিভাগ ও রয়েছে।

ভিডিও পার্টি

এখানে আপনি ইউটিউব এর যেকোনো ভিডিও দেখতে পারবেন। এতে আপনি কমেন্ট করতে পারবেন, প্লে-লিস্টে  ভিডিও যোগ করতে পারবেন এবং প্লে-লিস্ট এর শীর্ষে যেকোনো ভিডিওকে সরিয়ে নিতে পারবেন এবং কোন ভিডিওটি  সবচেয়ে কার্যকরী ও উপাদান সমৃদ্ধ তা আপনি  সেই ভিডিওটি মার্ক করে দিতে পারেন যাতে অন্যান্য ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারে।

ইন্টারেস্ট

এই বিভাগটি আপনার অনুসরন করা ইন্টারেস্টগুলোকে তালিকাভুক্ত করে। প্রতিটি ইন্টারেস্টের নিজস্ব একটি পেজ রয়েছে যেখানে আপনি ওই বিষয়ের উপর অন্যান্যদের পোস্টগুলোও পাবেন। এতে একটি কুইক সার্চ লিঙ্ক ও থাকে  যা নতুন ইন্টারেস্ট এর বিষয় খুঁজে পেতে  এবং প্রফাইলে যোগ করতে সাহায্য করে

About blogger - ব্লগার