ব্লগার : সাফল্য পেতে কিছু রুটিন মেনে চলুন

ব্লগার : সাফল্য পেতে কিছু রুটিন মেনে চলুন

উঠে পড়ুন ,ব্রাশ করে যত্ন সহকারে আপনার সকালের রুটিনের দিকে অগ্রসর হউন। বেশ, প্রতিবার যত্নবান হওয়ার প্রয়োজন নেই। মাঝেমাঝে, যখন আপনার বের হওয়ার ৫ মিনিট বাকি আছে আপনি কাজটি দ্রুতও সম্পন্ন করতে পারেন। আপনি ভুলে যেতে পারেন (সম্ভবত আপনি ভুলে যান) কিন্তু আপনাকে অন্তত দিনটি শুরু করতে হয়। ঠিক তেমনি আমাদেরও রুটিন আছে যখন আমরা আমাদের ওয়েবসাইটে ,বিশেষকরে ব্লগিং এ আসি। মাঝেমাঝে আমাদের তাড়া থাকে এবং আমরা নতুন আর্টিকেলটিকে দ্রুত প্রকাশ করতে চাই। আমরা একইসাথে কিছু অত্যাবশ্যক জিনিস ও ভুলে যাই কারন তখন আমরা আমাদের পরের চ্যালেঞ্জের দিকে দৃষ্টিপাত করি। সৌভাগ্যবশত আমরা কিছু কৌশল গ্রহন করতে পারি যা আমাদের জীবনকে যত দ্রুত সম্ভব সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

blogger success- Devsteam Institute

আপনি ব্লগিংয়ে নতুন বা পুরাতন যা-ই হউন না কেন, আপনার নতুন কনটেন্ট লেখা শেষ হওয়ার পরে কি করতে হবে তার তাৎপর্য ধরতে চেষ্টা করা খুবই গুরুত্বপূর্ন। সম্ভবত পুরাতন কনটেন্ট এর জন্য সার্কুলেশন হাই রাখা টা বেশি গুরুত্বপূর্ন। যদিও এই ডাইনামিক এর কিছু কৌশল আছে। প্রথম অংশটা পরিচালনা করা সহজ। আপনার পোস্ট অথবা পেজটি শেষ করুন, আপনার ক্যাটাগরী স্থির করুন, নিশ্চিতভাবে এসইও সেট আপ করুন এবং উপযুক্ত নেটওয়ার্কে শেয়ার করুন। এটা একটি সহজ কাজ যা সম্পন্ন করতে ৫ মিনিট সময় প্রয়োজন এবং পরে আমরা এটি ভেঙে ফেলবো। অন্যদিকে ঐসব পুরাতন পোস্টগুলো যা কিনা হয়তো সঠিকভাবে সেট আপ করা হয়নি কারন তুমি সেই মুহূর্তে জানতে না যে ব্যাপারটি তোমাকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।কোনটিকে প্রথমে প্রমোট করা বেষ্ট হবে? আপনার ব্লগিং রুটিন সঠিকভাবে সেট আপ করার সাথে সাথে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়া হবে আমাদের আজকের চ্যালেঞ্জ।

চলুন আপনার ব্লগিং রুটিন তৈরী করার সমস্যাগুলোর উপর ঝাপিয়ে পড়ি। আমরা কিছু বেসিক স্টেপ অনুসরন করব নিয়মিত…

১. এসইও নিয়ে ভাবছেন ত!
প্রতিটি ব্লগ পোস্ট ই যাতে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো করে সে জন্য অনেক কাজ করতে হয় যাতে করে এটি সার্চে ভালো অবস্থান করে। নিশ্চিত হউন আপনি আপনার পোস্টের টাইটেলটিতে কিওয়ার্ড ব্যবহার গুছিয়ে একটি মেটা ডেসক্রিপশন দিন। এবং অবশ্যই পোস্টে কিওয়ার্ড ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ইমেইজ এর জন্য অল্টার ট্যাগ ব্যবহার করুন। এছাড়াও অন্যান্য ট্যাগ যেমন h, blod, italic ইউজ করুন। পাশাপাশি পুরাতন পোস্টের সাথে ইন্টারনাল লিংক করাও জরুরী।

২. তিনটি বড় নেটওয়ার্কে শেয়ার
আপনি নিজেকে কমপক্ষে ৭ টি সামাজিক সাইটে বিস্তৃত করুন। যদি আপনার তাদের সবগুলোর উপর একটি গুরুত্বপূর্ন উপস্থিতি না থাকে, জাস্ট আপনার সর্বাধিক নিযুক্ত শ্রোতাকে বাছাই করুন। যদি আপনার ৩ টি না থাকে, তাহলে যেটি আপনার কাছে সর্বাধিক নিয়মিত সেটি বাছাই করুন কিন্তু অন্যান্য সুযোগের প্রতি মনোযোগ দিন। যদি আপনার হাতের তালুতে ফেসবুক থাকে তাহলে টুইটার, গুগল+, লিংকেডিন এর প্রতি মনোযোগ দিন। এই সবগুলোর মধ্যেই আপনাকে ভাল পাঠক তৈরী করার মত অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।

৩. ব্লগিং কমিউনিটিতে যুক্ত হন
এখানে আপনার মত আরও অনেকে রয়েছে। তারা তাদের নিজস্ব আর্টিকেলকে বিস্তৃত করতে চাইছে। অনলাইনে বহু কমিউনিটি আছে যা আপনাকে বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যেও শেয়ার করতে অনুমতি দেয়। ট্রাইবার, লিংকেডিন এবং ফেসবুক, এদের সবগুলোরই দক্ষ ব্লগারদের একটি কালেকশন আছে যারা আপনাকে ফিডব্যাক দিতে সাহায্য করতে পারে।

৪. ডাইরেক্টরি এবং ফিডস এ সাবমিট করা
স্টাম্বলআপন এবং ডিগ এর মত সাইটগুলো ব্লগারদের একটি অভিনব সুযোগ এনে দেয় তাদের আর্টিকেলস গুলোকে প্রকাশনার লিস্টে যুক্ত করার যা আবিষ্কার করা যায়।জাস্টরিটুইট এর মত কিছু সংখ্যক সামাজিক মাধ্যম ডাইরেক্টরী ও আছে যারা কিনা আপনার পোস্টটিকে ব্যবহারকারীদের নিকট সারকুলেট করতে সাহায্য করে।

এই ধাপগুলো ক্রমানুসারে করা যেতে পারে কিন্তু সেগুলো পর্যায়ক্রমে করলে বেশি কার্যকর হয়। আমি একটি ক্রম তৈরী করেছি যা কিনা আমার জন্য বিশেষভাবে কার্যকর কিন্তু আপনার জন্য যেটা উত্তম আপনাকে সেটাই করতে হবে। একটি ভাল অভ্যাস প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে আপনি এরকম একটি চেকলিস্ট এর মাধ্যমে পুরষ্কৃত হতে পারেন যেখানে, প্রতিবার আপনি একটি আর্টিকেল প্রকাশ করার পরে সেটি আপনার কাছে একটি ইমপ্রুভড সার্চ রেজাল্ট হিসেবে ফিরে আসে। আমি যেসব উদাহরন এর কথা বলেছিলাম সেগুলো আর কিছুই নয় শুধুমাত্র দুটি জিনিস যা কিনা আমি পূর্বে ব্যবহার করেছি। আপনি নিশ্চয়ই প্রতিটি অপশন নিজে নিজে যত্ন সহকারে পরীক্ষা করবেন এবং কিছু নতুন পথ আবিষ্কারের চেষ্টা করুন যা কিনা আপনার কনটেন্ট এর সাথে ভালভাবে কাজ করবে।

এবার ঐসব পুরাতন আর্টিকেল এর দিকে যাওয়া যাক। আপনি এমনও পেয়েছেন যেখানে বুঝতে পারেননি কি করতে হবে এবং এটা ভাবতেই ভয় হয় যখন আপনি ব্লগটা শুরু করেছিলেন তখন কতটা মিস করেছেন। সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। একটি চমৎকার সুযোগ রয়েছে যা হল এই সকল পোস্ট এরই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনও তাদের যে সম্ভবনা রয়েছে সেটা হল তারা অন্তত কিছু সংখ্যক যোগাযোগের মাধ্যম তৈরী করতে পারে। চলুন সর্বাধিক উপযুক্ত পথের বাঁধা উন্মোচন করি যাতে করে আপনি আপনার সফল ব্লগ পোস্ট এর অবাঞ্ছিত অংশগুলো দূর করতে পারেন। আপনি নিজেকে প্রশ্ন করে এবং তার উত্তর দেয়ার মাধ্যমে কাজটি শুরু করতে পারেন। আপনার গুগল এনালাইটিকস রিপোর্টটি সুবিধাজনক হতে যাচ্ছে, এখানে,

১. এই পোস্টটি কি আমার ব্লগ এর জন্য জনপ্রিয় কি টার্মস হিসেবে কাজ করবে ?
২. এই নির্দিষ্ট আর্টিকেলটি মানুষ কখন ভিসিট করে ?
৩. এই পোস্টটি কি অন্যান্যগুলোর থেকে বেশি কমেন্ট পাচ্ছে ?
৪. ভিজিটর কি আসলেই আমার সাইটের সাথে লেগে আছে পোস্টটি পড়ার জন্য?

# ক্লিনিং আপ ,অরগানাইজিং এবং শেয়ারিং
আপনি সম্ভবত ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন যে আপনার সাইটে কোন আর্টিকেলগুলো বেশি জনপ্রিয় কিন্তু এটি একটি ভাল উপায় সংকীর্ন অংশগুলোকে সরিয়ে ফেলার জন্য যদি পোস্টগুলোর মধ্যে কোন প্রতিযোগীতা থাকে। পরবর্তী পদক্ষেপটা সহজ, কারন আমরা যেটা করতে যাচ্ছি সেটা হল আমাদের নতুন পাবলিকেশন চেকলিস্ট এর মাধ্যমে চালনা করা। এই পোস্টগুলোতে আদৌ কি কোন এসইও এর কাজ আছে? যদি তা-ই হয় তাহলে লেগে থাকুন এবং নিশ্চিত করুন যে এটি আপনার পোস্ট এর সকল প্রয়োজন মেটাচ্ছে যাতে করে আপনার পোস্টটি ওয়েবে উপযুক্তভাবে অবস্থান করতে পারে।সম্ভাবনা হল, যদি আপনার পোস্টটি দ্বারা মানুষ আকৃষ্ট হয় তার মানে আপনি ইতোমধ্যেই কিছু কাজ সঠিকভাবে করেছেন তাই শুধুমাত্র নিশ্চিত হউন যে সবকিছু ঠিকভাবে চলছে।এখন আমাদের প্রয়োজন পোস্টটিকে নতুন শ্রোতাদের সাথে শেয়ার করা এবং ছড়িয়ে দেয়া।

এই কৌশলটা সম্পর্কে উদ্বেগ সহকারে একটি প্রচলিত প্রশ্ন আসে তাদের নিকট থেকে যাদের একশ এর মত পাবলিকেশনস আছে কিন্তু তাদের মধ্যে কোনোটি কার্যকর কিনা সে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আছে। এটি পরীক্ষা করার ভাল একটি উপায় হল কিছুটা পেছনে চলে যান দেখুন তাতেও আপনার ব্লগটি কোন গুরুত্বপূর্ন যোগাযোগের মাধ্যম পায় কিনা।যদি আপনি হতাশাজনক কিছু খুঁজে পান,তাহলে নিরুৎসাহিত হবেন না। ধরুন আপনার ১০০ টি পোস্ট আছে। এখন প্রথম ১০ টি পোস্ট এর সাথে আপনার সর্বাধিক নব্য ১০ টি পোস্টের তুলনা করুন। এটি একটি ভাল পথ যার মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার লেখার দিকটা উন্নত হয়েছে। এর বিশেষত্ব হল এটাই যে আপনার কাছে নির্ণয় করা সহজ হয়ে যাবে, আপনার কোন লেখাটি পাঠকের সময়কে বেশি মূল্যায়ন করে এবং ফলশ্রুতিতে এটি আপনার পোস্টটিকে আরও দর্শনীয় করে তুলবে। আপনি এখন পর্যন্ত যা কিছু লিখেছেন তা সমাধান করার চেষ্টা করাও নিরর্থক। আপনার শক্তিশালী পয়েন্টগুলো নির্বাচন করুন এবং যতটা সম্ভব সেগুলো সকলের সামনে তুলে ধরুন।

# ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীদের জন্য
যদি আপনি আপনার ব্লগটিকে আরও পছন্দনীয় করে তোলার জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনি বহু সংখ্যক টুলস খুঁজে পাবেন যা কিনা সম্পূর্ন প্রক্রিয়াটিকেই সহজ করে তুলবে। এসইও, পাবলিসাইজিং, শেয়ারিং সহ এমন আরও অনেক কিছু সম্পর্কে সাহায্যের জন্য এখন আপনার নিকট বৃহৎ পরিমানের চয়েজ রয়েছে। বিশেষকরে পুরাতন পোস্টগুলোর জন্য স্বয়ংক্রীয় কিছু সার্ভিস আছে যেগুলো আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়েও আগে এবং আপনার নেটওয়ার্কের বাইরেও আর্টিকেল প্রেরন করতে সাহায্য করে।আপনি যা লিখেছেন তা পড়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এটি প্রত্যেক স্টেপ থেকে অন্তত কিছু অংশ বাদ দিয়ে দেয়। আপনার যদি স্পেসিফিক প্লাগিনস সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমি উৎফুল্লভাবে নিচে কমেন্টের স্থানে উত্তর দিব।

# আপনার লক্ষ্যের বাঁধা উন্মোচন করুন
যদি আপনার ব্লগ এ কোন তথ্য বাদ পড়ে যায় তাহলে আমরা আজ কি শিখেছি সেটার উপর দৃষ্টিপাত করার এটাই উপযুক্ত সময়। কোন প্রকারে আপনি খারাপ ব্লগিং রুটিন সমস্যার নিকটে আসলেও আমি বিশেষভাবে আপনার লক্ষ্যের বাঁধা উন্মোচন করার পরামর্শ দিই। আপনার নতুন আর্টিকেলটির যোগাযোগের মাধ্যমসমূহ দেখতে শুরু করা যদি আপনার প্রথম প্রাধান্য হয় তাহলে আপনার আগামীকালের কাজ হবে আমার লিস্ট এর মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করা অথবা আপনার পোস্টটি সক্রিয় হওয়ার পরে নিজে নিজে একটি সিস্টেম তৈরী করা।

চেষ্টা করা ছাড়া আর কিছুই নেই। কিছু সময়ের গবেষনাও আপনার পুরো ব্লগিং অভিজ্ঞতাকেও বদলে দিতে পারে এবং ব্লগিং রুটিন এর মত সহজ জিনিসও দরজার বাইরে দ্রুততর অসংঘটিত প্রকোপ এবং দিনের বাকিটা সময় শান্তভাবে কথা বলার মধ্যে পার্থক্য এনে দিতে পারে।

About ডেভসটিম ইনস্টিটিউট

একটি উত্তর দিন