ব্যান্ডউইথ রপ্তানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার

ব্যান্ডউইথ রপ্তানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ থেকে সহজেই ব্যান্ডউইথ পেতে সম্প্রতি লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে ভুটান সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বরাবর এ চিঠি পাঠিয়েছে তারা। এখনই অন্তত দশ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ পেতে চায় ভুটান।ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোস এমন প্রস্তাবের বিষয়টি সমকালকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি চিঠির জবাব দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যান্ডউইথ রফতানি করতে আগ্রহী। তবে এত সহজে ভুটান ব্যান্ডউইথ পেতে পারবে কি-না সেটিও বিবেচনার বিষয় রয়েছে বলে জানান তিনি।


এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভুটানের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্যান্ডউইথ আমদানির বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই লিখিত প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু সমকালকে বলেছেন, ব্যান্ডউইথও যে রফতানি খাতকে সমৃদ্ধ করতে পারে সেটি সরকার জনগণকে দেখাতে চায়। এ খাত থেকে কোটি কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। সুনীল কান্তি বোস বলেন, ভুটানে ব্যান্ডউইথ রফতানির আগে অবশ্যই ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা করতে হবে। তাছাড়া ভারতের পূর্বদিকের আটটি প্রদেশও যেহেতু আগে থেকে বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ পেতে চায় সে ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের সুরাহা একই সঙ্গে করা যেতে পারে।

নীলফামারী জেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে ভুটান মাত্র ৫৪ কিলোমিটার দূরে। সে ক্ষেত্রে সোজাসুজি কেবলের সংযোগ নেওয়া গেলে অল্প খরচেই ভুটানে ব্যান্ডউইথ পেঁৗছে দেওয়া সম্ভব। এর আগে ২০০৯ সাল থেকে ভারতের পূর্বদিকের আটটি রাজ্য সহজেই বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল কোম্পানির (বিএসসিসিএল) কাছে ব্যান্ডউইথ পাওয়ার চেষ্টা চালায়। আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, নাগাল্যান্ডসহ পূর্বদিকের আটটি রাজ্যে কম খরচে ব্যান্ডউইথ পেতে এখানকার একটি মোবাইল ফোন অপারেটরকেও মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও কুমিল্লা এবং রংপুর দিয়ে দুটি লিংকের মাধ্যমে ওই রাজ্যগুলোয় ব্যান্ডউইথ রফতানি করতে প্রস্তুতি নেয়। নানা কারণে তা আর এগোয়নি।তবে আগামী মার্চের শুরুতে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে টেলিযোগাযোগ সচিবের নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের পূর্বদিকের রাজ্যগুলো সফরে যাচ্ছে। তখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে তারও আগে ব্যান্ডউইথ রফতানির জন্য টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুমোদনও চেয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। সুনীল কান্তি বোস জানান, ভারতের বিষয়টি সুরাহা হলে একই সঙ্গে ভুটানেও ব্যান্ডউইথ দেওয়া সম্ভব হবে। এরপর নেপালের বিষয়েও চিন্তা করার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সর্বোচ্চ তিন মাস তিন মাস করে পরিকল্পনা করলে ব্যান্ডউইথ রফতানি সহজ হবে। যাতে বাংলাদেশের যে কোনো প্রয়োজনে তিন মাসের নোটিশ দিয়েই সংযোগ বাতিল করে দেওয়া যায়।সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বিএসসিসিএলের ৪৪ দশমিক ৬ গিগাবাইটের মধ্যে মাত্র ২৩ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়ে বিএসসিসিএল তাদের ব্যান্ডউইথের ক্ষমতা ১৬০ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়িয়ে ফেলছে। জুনের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। তখন অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ সহজেই রফতানি করা যাবে। তাছাড়া দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সংযোগ নিতে বিএসসিসিএল সিম-উই-৫-এর সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর ফলে ব্যান্ডউইথ রফতানি আরও সহজ হবে। তখন প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার আয় করা যাবে বলেও জানান সুনীল কান্তি বোস।
এর আগে বিএসসিসিএল কয়েকবার ব্যান্ডউইথ রফতানির দরপত্র আহ্বান করে বিজ্ঞাপন দিলেও শেষ পর্যন্ত রফতানি করতে পারেনি। তবে এবার ভারত এবং ভুটানের আগ্রহের কারণে ব্যান্ডউইথ রফতানি সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন।

তথ্যসূত্রঃ সমকাল

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন