বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ প্রদান

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ প্রদান

boaপ্রতিবারের মতো এবারও স্বীকৃতি পেলো দেশে আউটসোর্সিংয়ে সেরা প্রায় একশ’ আউটসোর্সিং প্রফেশনালস ও প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর উদ্যোগে পঞ্চমবারের মতো সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫’ শীর্ষক অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসান। বক্তব্য রাখেন ব্যাংক এশিয়ার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও বেসিসের মহাসচিব উত্তম কুমার পাল। উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সহ-সভাপতি এম রাশিদুল হাসান, যুগ্ম-মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ শাহ ইমরাউল কায়ীশ, পরিচালক সানি মো. আশরাফ খান, আরিফুল হাসান অপু, নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদসহ বেসিসের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিচারকবৃন্দ, বেসিস সদস্যবৃন্দ প্রমুখ।
তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং এ কাজে দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বীকৃতিদানের লক্ষ্যে বেসিস গত কয়েকবছর ধরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। কয়েকটি ধাপে নিবিড় পর্যালোচনা ও সাক্ষাতকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে রপ্তানীর পরিমাণ, কর্মসংস্থান ও তাদের সামাজিক ভূমিকাকে প্রাধান্য দেয়া হয়।
প্রধান অতিথি এম এ মান্নান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, আমরা ২০২০ সাল নাগাদ ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছি। এক্ষেত্রে আউটসোর্সিং তথা তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কাজের কোনো বিকল্প নেই। তরুণরা তথ্যপ্রযুক্তিতে তাদের যোগ্যতা ও  জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
শিক্ষা সচিব মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, আউটসোর্সিং তথা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অমিত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। প্রতিবছর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ২০ হাজার আইটি প্রফেশনালস বের হচ্ছে। এছাড়া সরকার তথ্যপ্রযুক্তিকে শিক্ষা কার্যক্রমে বাধ্যতামূলক করছে। শিক্ষার মানোন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে দেশের ১২৫ উপজেলায় আইসিটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় এ ধরনের আইসিটি ভবন নির্মাণ করা। আর এর মাধ্যমে আগামীতে তথ্যপ্রযুক্তিতেই সবচেয়ে বেশি জনবল তৈরি হবে, আর তার মধ্যে আউটসোর্সিংয়ে সংশ্লিষ্টতা থাকবে সবচেয়ে বেশি।
বেসিস সভাপতি শামীম আহসান তার বক্তব্যে বলেন, অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীদের অনুপ্রাণিত করতে এবং ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মকে আরও অধিকহারে ব্যক্তি পর্যায়ে অথবা আইটি উদ্যোক্তা হিসেবে অনলাইন আউটসোর্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসিসের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বেসিসের বিআইটিএমের মাধ্যমে আমরা ২০১৮ সাল নাগাদ ২৩ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরির কাজ করছি। একই সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ আইটি প্রফেশনালস তৈরির কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। এই জনশক্তি একদিন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় গার্মেন্টস খাতকেও ছাড়িয়ে যেতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আউটসোর্সিংকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেবার জন্য এবছর ৬৪টি জেলা থেকে সেরা ৫৮ জন ফ্রিল্যান্সার তথা আইটি উদ্যোক্তাদের এই অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে ৮ জন এবং ৩ জনকে নারী ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে ১৫টি কো¤পানি আউটসোর্সিং খাতে বিশেষ অবদানের জন্য বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে। এবারই প্রথম স্টার্টআপ কোম্পানি ক্যাটাগরিতে ১০টি কোম্পানিকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫ আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলো বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইটিএম), ব্যাংক এশিয়া, পেওনিয়ার ও  বিডিজবস ডটকম।
বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে http://outsourcingaward.basis.org.bd/  সাইট ভিজিট করে জানা যাবে।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন