বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে ওয়াটার এইডের নানা আয়োজন

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে ওয়াটার এইডের নানা আয়োজন

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও এর ব্যবহার জনপ্রিয় করতে রাজধানীতে শনিবার বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে আষাঢ়ের প্রথম দিন পালন করলো ওয়াটার এইড ও রেইন ফোরাম। সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক  সম্মেলন কেন্দ্রে  রেইন ডে’র উদ্বোধন করেন ওয়াটার এইডের দেশীয় প্রতিনিধি ড. খায়রুল ইসলাম ও রেইন ফোরামের সভাপতি সৈয়দ আজিজুল হক।

রেইন ডে উপলক্ষে দিনভর আয়োজনের মধ্যে ছিল পলিসি ডায়ালগ, প্রদর্শণী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণ ও দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থা এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

DSC_8072

অনুষ্ঠানে দুটো ইন্টারেকটিভ সেশনের আয়োজন করা হয়, যাতে বলা হয়েছে শহুরে এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ঢাকায় বছরে গড়ে ১ থেকে ৩ মিটার করে নেমে যাচ্ছে। এ রকম প্রেক্ষাপটে বৃষ্টির পানি হতে পারে  সমাধান।

আলোচনা পর্বে বক্তারা  বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে গণ সচেতনতা তৈরী করতে হবে। এর সাথে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বাড়ি ও ভূমির মালিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক সংস্থার মানুষকে সাথে নিয়ে একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সরকারের উদ্যোগ দরকার জানিয়ে ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন নীতিমালা, বিশেষ করে ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করার পূর্ব শর্ত বাস্তবায়ন করা উচিৎ। তাহলে নগর কেন্দ্রিক  ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। এতে করে আমরা আসন্ন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবো।

বিকালে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগকে সফল করার উপায় নির্দেশ করতে একটি নীতি নির্ধারণী গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তারা বলেন, নগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মানুষের সামনের পানি সঙ্কট মোকাবিলা করা সম্ভব। সে জন্য এখনই আমাদের সচেনতন হতে হবে। সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শওকত হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে। এ জন্য আমাদের সব অধিদপ্তর ও পেশাগত সব শ্রেণীর পেশাদাররা এক যোগে কাজ করবে। আমরা সবই উপলব্ধি করছি কিন্তু অর্জন করছি না। পরিবেশের প্রতি, পানির ব্যবহারের প্রতি অবিচার করেছি। ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান ২০১৫ সাল পর্যন্ত কার্যকারিতা আছে। ২০১৬ সাল থেকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত আরেকটি ড্যাপ হবে। এতে সব কিছু এডজাস্ট করা থাকবে। রমনা পার্কের সাথে ৪ টি খালের সংযোগ ছিল। সে গুলো কোথায়? পেছনে যা ঘটেছে তা বাদ দিলাম, কিন্তু সামনে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য কেবল আইন দিয়ে কাজ হবে না। এ জন্য গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।

রাজউকের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা বলেন, সরকারি ভবনে প্রথমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। গণ সচেতনতা তৈরী করতে হবে, সে জন্য শিক্ষাবিদদের এগিয়ে আসতে হবে। বৃষ্টির পানির গুরুত্ব তুলে ধরে পাঠ্যক্রম প্রণয়ণ করতে হবে।

ওয়াসার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রহমত উল্লাহ বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিকল্প আছে। পানির কোনো বিকল্প নেই। ঢাকায় প্রতিদিন পানির চাহিদা ২৪০ কোটি লিটার। কিন্তু প্রতি বছর পানির স্তর গড়ে তিন মিটার করে নিচে নামছে। তাই এ সঙ্কট সমাধানে ভূ উপরিস্থ পানির ওপর ওয়াসা গুরুত্ব দিচ্ছে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। ওই অনুষ্ঠানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের পথিকৃৎ ৬ জনকে  পুরস্কৃত করা হয়েছে। এছাড়া দুটি গ্রন্থেও মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

দিন ব্যাপী এ আয়োজনে ২০ টি স্টলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। আগত দর্শকরা এ সব আগ্রহ ভরে দেখেন এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিষয়ে জানতে চান। এ বিষয়ে স্টলগুলো থেকে দর্শকদের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন