বিশ্বের বিপিও কাজের পরবর্তী গন্তব্য হবে বাংলাদেশ

বিশ্বের বিপিও কাজের পরবর্তী গন্তব্য হবে বাংলাদেশ

Post BPO Summit Press Conferenceবিশ্বের বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোসিং) কাজের পরবর্তী গন্তব্য হবে বাংলাদেশ। ‘বিপিও সামিট ২০১৫’ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গত ৯-১০ ডিসেম্বর, ২০১৫ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং-এর উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হয় বিপিও সামিট-২০১৫। সামিট চলাকালীন সময়ের কার্যক্রম সবার সামনে তুলে ধরতে আইসিটি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি খাত। বাংলাদেশের বিপিও ব্যবসার প্রবৃদ্ধি বছরে শতকরা ১০০ ভাগের বেশি, যার বর্তমান বাজারমমূল্য ১৩০ মিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এই খাতে ১ বিলিয়ন ডলার আয়। বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ২৫ হাজার লোক এই সেক্টরে যুক্ত আছে, আমরা এই সংখ্যা শীঘ্রই ১ লক্ষ দেখতে পারবো বলে আশা করছি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাক্য’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, মহাসচিব তৌহিদ হোসেন প্রমুখ।
বাক্য মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, এই সামিটের মাধ্যমে আমরা দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই সেক্টরে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে ভালো একটি ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, আমাদের সক্ষমতার জায়গাগুলো দেখানোর চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরের সাফল্যের গল্পগুলো মানুষকে জানানোর চেষ্টা করেছি। দেশের তরুণদের কাছে এই সেক্টরকে অন্যতম একটি কর্মক্ষেত্র হিসাবে হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
তিনি জানান, দুই দিনের এ সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে ১২টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে দেশী বিদেশী ৭৪ জন বিশেষজ্ঞ বক্তা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। ১০টি দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন এবং ৬০টি দেশ থেকে আগ্রহীরা অনলাইনে সম্মেলন সংক্রান্ত খোঁজ খবর নিয়েছেন। সম্মেলনের ২ দিনে ১০ হাজারের বেশি দর্শনার্থী সরাসরি সম্মেলন পরিদর্শন করেছেন।
বাক্য’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ বলেন, তরুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করার জন্য, সম্মেলনের আগেই ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাক্টিবেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখান থেকে প্রায় ১৫ হাজার বায়োডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সামিট চলাকালীন সময়ে এর মধ্য থেকে ২৩৫ জনকে সরাসরি চাকরীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং বাকীদেরও পর্যায়ক্রমে চাকরীর ব্যবস্থা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইন বিপিও সেক্টরে সবচেয়ে ভালো করেছে। বিপিও সেক্টরে সারা বিশ্বের ৫০০ বিলিয়ান ডলারের মধ্যে ভারত ৮০ বিলিয়ন, ফিলিপাইন ১৬ বিলিয়ন এবং শ্রীলঙ্কা ২ বিলিয়ন ডলার আয় করছে। বর্তমানে বাংলাদেশও দিন দিন এই খাতে এগিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সামিটের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্স (উইটসা) এর সভাপতি সান্তিয়াগো গুতিয়ারেজ। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এছাড়াও সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কমকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিদ্যুৎ-জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমান, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।
সম্মেলনের সহযোগী হিসাবে ছিলো প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)।
গোল্ড স্পন্সর হিসাবে ছিলো এডিএন গ্রুপ, জিনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। সিলভার স্পন্সর সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিসকো সিস্টেমস, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, টেলিটক, এয়ারটেল এবং আইটি পার্টনার আমরা কোম্পানীজ, নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার এট হোম ও ইউথ এক্টিভেশন পার্টনার বিক্রয় ডট কম।
সম্মেলন আয়োজনে অংশীদার হিসেবে যুক্ত ছিলো বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ), বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন