বাংলালিংক ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের নাম ঘোষণা

বাংলালিংক ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের নাম ঘোষণা

কমজগৎ প্রতিনিধি:- ২০১৪ বাংলালিংক গ্র্যান্ডমাস্টার সিজন ৩ এর চুড়ান্ত আসর অনুষ্ঠানটি ঢাকাস্থ প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বলরুমে আয়োজিত হয়। সর্বমোট রেজিষ্ট্রিকৃত ১২০০টি দলের মধ্যে থেকে শীর্ষ ৫টি দল চুড়ান্ত আসরের জন্য মনোনীত হয়। চুড়ান্ত আসরে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য এই শীর্ষ ৫টি দলের ছাত্রছাত্রীরা মোবাইল এপ্লিকেশন উন্নয়নে বাংলালিংক এর প্রশিক্ষণ গ্রহনের সুযোগ অর্জন করেন। অংশগ্রহনকারীরা তাদের নিজস্ব মেধা ও অর্জিত প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে গ্র্যান্ডমাস্টার হিসেবে নিজেদের চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেন।

কয়েকমাসের কঠোর পরিশ্রমের পর সেরা পুরষ্কারসমূহ জিতে নেওয়ার লক্ষ্যে শীর্ষ ৫টি দল  প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। চ্যাস্পিয়ান ২ লক্ষ টাকা, প্রথম রানার্স আপকে ১.৫ লক্ষ টাকা ও তৃতীয় রানার্স আপকে ১ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ পুরষ্কৃত করা হয়।  চ্যাম্পিয়ন হয় চুয়েটের ‘ম্যাভেরিক’ প্রথম রার্নাস আপ হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ এর  “ডেমেন্টোরস” এবং দ্বিতীয় রানার্স আপ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ এর ‘হাফেল পাফস্’। এছাড়াও বাংলালিংক গ্রান্ডমাস্টার সিজন এর (সিজন ১,২ এবং ৩) বিজয়ী ছাত্র ছাত্রীগন বাংলালিংক-হুয়াওয়ের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইয়ুথ কাম্প এ চীন এর প্রখ্যাত তিনটি শহর ঘুরে দেখার পাশাপাশি এই সময়ে হুয়াওেয় টেকনলজিস লিমিটেড এর বিশেষজ্ঞদের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষন, র্কমশালাতে অংশগ্রহন করবে। টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি ও প্রকৌশলের সঙ্গে পরিচিতি ও সরাসরি অভিজ্ঞতা গ্রহনের পাশাপাশি তাদের কর্মজীবনেও নতুন মাত্রা যুক্ত করতে পারবে।

Pic (2)

অংশগ্রহনকারী ছাত্রছাত্রীরা ছাড়াও চুড়ান্ত আসরে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বাংলালিংক এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এবছর ‘মোবাইল এ্যাপ্লিকেশনস ভিত্তিক নতুন ধারণা’ থিমের উপর ভিত্তি করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসা, প্রকৌশল, টেক্সটাইল, চিকিৎসা ইত্যাদি বহুক্ষেত্র থেকে প্রতিযোগীরা এতে অংশগ্রহন করেন। এই বহুমাত্রিকতা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, বাংলালিংক এরই মধ্যে দেশের তরুণ প্রজন্মের চিত্তে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ব্যতিক্রমী ভাবে বাংলালিংক প্রতিযোগিতায় সক্রিয় গ্রাহকদের অংশগ্রহনেরও ব্যবস্থা রেখেছিল। চুড়ান্ত আসরের দিন অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারী বিজয়ীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া দুই পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে, একটি বাংলালিংক মেলা নামে ফেসবুক পেজে বাংলালিংক এর সকল গ্রাহকদের ভোট প্রদান যা চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার ২০ শতাংশ এবং আরেকটি হচ্ছে বিচারকদের মূল্যায়ন যা ছিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অবশিষ্ট ৮০ শতাংশ ।

এবারের জ্যুরি বোর্ডের সদস্য ছিলেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. কায়কোবাদ; নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স, ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী; ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ বিজনেস এন্ড ইকোনমিক্সের ডিন অধ্যাপক ড. মো: মূসা; ফিনানসিয়াল এক্সেলেন্স লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন রশিদ এবং ইন্ডিপেন্ডেট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্কুল অফ বিজনেসের ডিন ড. সারওয়ারউদ্দীন আহমেদ।

জ্যুরি বোর্ডের অন্যতম সদস্য ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ বিজনেস এন্ড ইকোনমিক্সের ডিন জনাব ডিন অধ্যাপক ড. মো: মূসা বলেন, ‘গ্র্যান্ডমাস্টারের মতো এধরনের প্রতিযোগিতা তরুণদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেয় যেখানে তারা তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিজয়ী হওয়ার সুযোগ পায়। এটি কোন ক্লাসরুম প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটাই প্রকৃত জীবন এবং তারা প্রত্যেকে সেটা উপলব্ধি করারও সুযোগ পায় এখানে।

বাংলালিংক এর সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব জিয়াদ সাতারা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, গ্র্যান্ডমাস্টার ছাত্রছাত্রীদের মৌলিক উদ্ভাবনার দিকে উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম। এটাও প্রত্যাশিত যে, এধরনের সৃজনশীল চিন্তা এমন ধরনের মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে সক্ষম যা সমাজের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে। গ্র্যান্ডমাস্টার প্রতিযোগিতা শুরু হয় ২০১১ সালে এবং এর ফলাফল অসাধারন এবং এ’কারণেই আমরা তৃতীয়বারের মতো এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি, যা গতবারের আয়োজন থেকেও ব্যাপক। বাংলালিংক নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আমরা বিশ্বাস করি যে, তারুণ্যই আমাদের আগামীদিনের দিনবদলের মূল শক্তি।

বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর হলো বাংলালিংক, যাদের প্রায় দুই কোটি ৯০ লাখের মত গ্রাহক রয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলালিংক হচ্ছে নেদারল্যান্ড্স ভিত্তিক ভিম্পেলকম লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

 

About অঞ্জন দেব

একটি উত্তর দিন