বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় পিছিয়ে

বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় পিছিয়ে

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনাতেও অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়ন তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ২০ শতাংশের বেশি পরিবার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় থাকলেও বাংলাদেশে এ সংখ্যা মাত্র তিন শতাংশের কিছুটা বেশি।

বাংলাদেশে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ম্লোগান দিয়ে ইন্টারনেট সহজলভ্য করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু তারপরও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দিক থেকে বাংলাদেশ এত পিছিয়ে কেন?

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইএসপিগুলোর দেয়া হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২ কোটি ৯৪ লাখ। কিন্তু এদের মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ১২ লাখের কিছুটা বেশি। মোট জনসংখ্যার তুলনায় যেটি খুবই নগণ্য।

টেলিযোগাযোগ খাতের একজন বিশেষজ্ঞ আবু সাইদ খান বলছিলেন গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও সেটি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।

তিনি বলেন, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের প্রসার না হবার পেছনে সরকারের নীতি অনেকটা দায়ী।
তিনি বলেন, “ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখনও বেশ ব্যয়বহুল এবং শহরের যারা আর্থিকভাবে স্চ্ছল তাদের মধ্যেই সেটি সীমাবদ্ধ। টেলিযোগাযোগখাতে যারা সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী অর্থাৎ মোবাইল টেলিফোন কোম্পানিগুলো এখাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না সরকারি নীতির কারণে।”

গত কয়েকবছরে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সরকারের উদ্যোগে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন সেখানে মানুষের আগ্রহ দেখে বোঝা যায় ইন্টারনেট ব্যবহারের আগ্রহ শুধু শহরাঞ্চলে নয়, গ্রামঞ্চলেও বেড়েছে। কিন্তু ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যয়বহুল হওয়ায় বিষয়টি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের সভাপতি আখতারুজ্জমান মঞ্জু বলেন, প্রতি মেগাবাইট ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিতে ঢাকায় যেখানে খরচ হয় দশ হাজার টাকা সেখানে ঢাকার বাইরে তার দ্বিগুণ খরচ হয়। তিনি বলেন, সরকার যদি ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের অবকাঠামো উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যায় তাহলে বেসরকারি উদ্যোগে গ্রামাঞ্চলে সেটি পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মঞ্জু বলেন, ইন্টারনেটের ব্যবহার ছড়িয়ে দেবার জন্য তারা শহরাঞ্চলের বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যাচ্ছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে দুই কোটি ৯৪ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে দুই কোটি ৭৭ লাখই মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। বিশ্লেষকদের মতে সংখ্যার বিচারে এটি উল্লেখযোগ্য হলেও গুনগত মানের বিচারে সেটি মোটেও যথেষ্ঠ নয়।

বিশ্লেষক আবু সাইদ খান বলছিলেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে মানুষ যে ধরনের সেবা পেতে চায় সেটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তা এবং বিশ্লেষকদের মতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বাংলাদেশে কতটা বিস্তৃত হবে তার অনেকটাই নির্ভর করছে এ খাতে খরচ কতটা কমে আসবে তার ওপর। সূত্র: বিবিসি।

About বিদ্যুৎ বিশ্বাস

একটি উত্তর দিন