বাংলাদেশ ইন্টারনেট গর্ভনেন্স ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ইন্টারনেট গর্ভনেন্স ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিতব্য সপ্তম ইন্টারনেট গর্ভনেন্স ফোরামের (আইজিএফ) প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রস্তুতি বিষয়ে আজ ৮ মে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গর্ভনেন্স ফোরাম (বিআইজিএফ)। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জিয়া আহমেদ, পিএসসি। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সেন্টার ফর ই-পার্লামেন্ট রিসার্চ এর চেয়ারম্যান ড. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সঞ্চলনায় সভায় দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে আমাদের গ্রাম উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রেজা সেলিম এবং বিটিআরসি’র পরিচালক লে. কর্ণেল রাকিবুল হাসান।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাকুতে অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারনেট গর্ভনেন্সের মতো এ রকম সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারের কোন অফিশিয়াল অংশগ্রহন নেই। বেসরকারিভাবে এসব সম্মেলনে বাংলাদেশকে অনেকে বিভিন্ন সময়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সরকারিভাবে এ ধরনের সম্মেলনে অংশগ্রহন করা সম্ভব হলে, দেশ অনেকভাবে উপকৃত হবে। তিনি আইজিএফ’র এর আগের সম্মেলনগুলোতে তাঁর অংশগ্রহনের সুযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে আমরা টপ লেভেল ডোমেইনে বাংলা অন্তঃভূক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি। ফলে, সরকারি অংশগ্রহন নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের আরো সফলতা আসবে। তিনি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম বিষয়ে বলেন, সরকারের ভিতরে একটি এন্টি-ডিজিটাল প্রশাসন আছে, তাদের কারনে এসব কার্যক্রম অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বিষয়ে সবার সজাগ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করে সরকার কতটাকা রাজস্ব পায়। আর এ খাত থেকে কর প্রত্যাহার করে নিলে দেশ কতটুকু উপকৃত হবে, নূন্যতম এ হিসাব টুকু করার যোগ্যতাও এনবিআর’র নাই। তিনি বলেন, আমাদের বাংলা কনটেন্টের প্রচন্ড অভাব। কনটেন্ট দিতে না পারলে ইন্টারনেট আসলে সাধারন মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য করা যাবে না। তিনি অবিলম্বে ডেটা প্রোটেকশন এক্ট এবং প্রাইভেসী এক্ট প্রণয়নের বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আইকান গর্ভনমেন্ট এডভাইজারি গ্র“প এবং আইজিএফে বাংলাদেশ সরকারের অফিশিয়াল প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, এক কথায় বললে আমরা গত ৩ বছরে অনেকদূর এগিয়েছি কিন্তু যতটুকু এগুনো দরকার ততটুকু এগুইনি। তিনি বলেন, ইন্টারনেটের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের ফলে সরকার কত রাজস্ব পায় আর এটা প্রত্যাহার করলে দেশ কতটুকু লাভবান হবে, সে বিষয়ে নূন্যতম ধারনা নাই এনবিআর কর্তৃপক্ষের।
বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা ইন্টারনেট ব্র্যান্ডউইথের দাম কমালেও সাধারন মানুষ এ সুবিধা পায় না। এ বিষয়গুলো ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, গত বছর বিটিআরসি থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা রেভিনিউ দেয়া হয়েছে সরকারকে। ভ্যালু এডেড সার্ভিস (ভ্যাস) গাইড লাইন নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের সাথে বিটিআরসি’র অনেক দেন দরবার চলছে কিন্তু আমরা কনটেন্ট প্রোভাইডারদের স্বার্থ ছেড়ে দিবো না। ভ্যাস দিয়ে শুধু মোবাইল অপারেটররা লাভ করবে তা হবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোঃ ফয়েজুল্ল্যাহ খান, বেসিসের সাবেক সহ-সভাপতি শামিম আহসান, দৃক আইসিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আলতাফ হোসেন। শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিআইজিএফ-এর সদস্য ও বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশনের সিইও এএইচএম বজলুর রহমান।

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন