বাংলাদেশে আসছেন সালমান খান

বাংলাদেশে আসছেন সালমান খান

khan-academyশিক্ষাপ্রদান পদ্ধতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করে বিশ্বব্যাপী আলোচিত খান একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ সালমান খান বাংলাদেশে আসছেন।
পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে এমন পাঁচ আইডিয়ার একটি ধরা হয় খান একাডেমিকে। বিজ্ঞান, গণিত থেকে শুরু করে পরিসংখ্যান অর্থনীতি বা ইতিহাসের মতো বিষয়কেও ভিডিও টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজবোধ্য করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খানের এই একাডেমি। আর এই কাজ দিয়েই বিখ্যাত টাইম সাময়িকীতে ২০১২ সালে পৃথিবীর ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায়ও স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি।
খান একাডেমি বাংলা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে বাংলাদেশে আসবেন সালমান।
সম্প্রতি খান একাডেমির হিন্দি সংস্করণের উদ্বোধন করতে ভারতে এসেছিলেন তিনি। ভারত সফর শেষে ৮ হতে ৯ ডিসেম্বর দু’দিনের সফরে বাংলা সংস্করণ উদ্বোধনে বাংলাদেশেও আসার কথা ছিলো তাঁর। কিন্তু পরবর্তীতে সে সফর সূচী বাদ হয়ে যায়।
ইতোমধ্যে গনিতের এক হাজার ভিডিও কনটেন্ট বাংলায় প্রস্তুতের কাজ গুছিয়ে আনা হয়েছে। দেশে এই কাজে যুক্ত রয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশন (বাংলাদেশ) এবং আগামী ইনকর্পোরেটেড (যুক্তরাষ্ট্র)।
আগামীর নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বোর্ড সদস্য ড. সাবির মজুমদার যুক্তরাষ্ট্র থেকে টেকশহরডটকমকে জানান, সালমান খানের বাংলাদেশে আসার সফর সূচী ঠিক করতে আলোচনা চলছে। তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ২০১৬ সালে যেকোনো সময় তিনি বাংলাদেশে আসবেন এটা অনেকটা নিশ্চিত।
এর আগে ২০১৪ সালের জুলাইতে একাডেমির ইংরেজি ভিডিও কনটেন্টগুলো বাংলায় অনুবাদের কাজ শুরু করা হয়েছিল। ওই অনুবাদ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় খান সালমান খান বলেছিলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে খান একাডেমি চেষ্টা করে বিশ্বের যে কোনো স্থানে, যে কোনো সময় শিক্ষাকে পৌঁছে দেওয়ার। আর এবার বাংলাদেশের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য এটা চালু করতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের একাডেমিকে প্রস্তুত করতে আগামীকে দায়িত্ব দেন সালমান। আগামী সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও সম্প্রসারণে কাজ করে থাকে।
২০১০ সালে এই আগামীই মূলত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য খান একাডেমির কনটেন্ট বাংলা করার প্রস্তাব সালমান খানকে দেন। সালমান বেশ সানন্দেই রাজি হয়ে যান এবং কাজটি করার জন্য তিনি আগামীকে আর্থিক সহায়তা দেন।
ড. সাবির মজুমদার জানান, ২০১০ সালে আগামীর এক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন সালমান খান। সেখানেই আমরা খান একাডেমিকে নিয়ে এই প্রস্তাব দেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য কনটেন্ট দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়বে।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কাজ করার রয়েছে। আসলে শুধু অনুবাদ হলেই হবে না। বাংলাদেশের পাঠ্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্যতা ও কোন স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য কোন কনটেন্ট উপযোগী তা ঠিক করতে হয়।
২০১৪ সালে এই কনটেন্ট ম্যাপিং, ইন্টারনেটের ব্যবহারসহ কারিগরি বিষয় এবং বিস্তৃত কাজে আর্থিক সহায়তা নিয়ে আগামীর সাথে পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে গ্রামীণফোন। ইতোমধ্যে লক্ষ্য অনুয়ায়ী এসব কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশন (বাংলাদেশ)।
যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি ও হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন করা খানের তার মা ভারতের কলকাতায় এবং বাবা বাংলাদেশের বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ফখরুল আমিন খান সত্তরের দশকে বরিশাল থেকে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
যুক্তরাষ্ট্রের লুজিয়ানায় জন্মগ্রহণ করা সালমান খান ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে তড়িৎকৗশল ও কম্পিউটার-এই দুই বিষয়ের ওপর স্নাতক করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই দুই বিষয়ে স্নাতকোত্তরও করেন তিনি। এরপর এমবিএ করেন হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে।
২০০৬ সালমান খান সালমান খান অলাভজনক এই শিক্ষামূলক সাইটটি প্রতিষ্ঠা করেন।
খান একাডেমি সাইটটিতে রয়েছে পড়াশোনার জন্য হাজার হাজার রিসোর্স। রয়েছে এক লাখেরও বেশি অনুশীলনী, চার হাজারেরও বেশি মাইক্রো-লেকচার যেগুলো ভিডিও আকারে ইউটিউবে সংরক্ষিত রয়েছে।
সাইটটিতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, ইতিহাস, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, মেডিসিন, অর্থনীতি, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, জৈব রসায়ন, আর্টস, কম্পিউটার বিজ্ঞানসহ প্রচুর বিষয়ে পড়াশোনার জন্য রিসোর্স রয়েছে। এই সব পাঠই বিশ্বব্যাপী যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সহজলভ্য।
খান একাডেমি প্রতি মাসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ৩০ কোটিরও বেশি পাঠ প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছে। একাডেমির নিবন্ধিত সদস্যদের তালিকায় মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সালমান ১৯৮৪ সালে আট বছর বয়সে একবার বাংলাদেশে এসেছিলেন।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন