ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন যেভাবে!

ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন যেভাবে!

তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় ঘরে বসে আয় বা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথাগত চাকরির সময় মেনে অফিসে বসে কাজ করার থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে এই পেশাটি। গত কয়েক বছরে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং ক্ষেত্রটি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যের ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টের এক জরিপে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ২০০৮ সালের তুলনায় ১২ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার বৃদ্ধি পেয়েছে। জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস ইল্যান্সে ২০১২ সালের প্রথম প্রান্তিকে ২ লাখের অধিক জব পোস্ট হয়। এটি বৃদ্ধি পেয়ে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩ লাখে পৌছেছে।

সময়সূচীতে ধরাবাধা নিয়ম কিছুটা কম থাকে বলে ফ্রিল্যান্সারা কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ২০১২ সারের ফ্রিল্যান্স ইন্ডাস্ট্রির তথ্য মতে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারায় ৯০ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার সুখী এবং বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা হওয়া স্বত্বেও অর্ধেকের বেশি ফ্রিল্যান্সার চিন্তিত নয়। এটা বলা চলে, ৭৭ শতাংশ ফ্রিল্যান্সাররা আগামী এক বছরে তাদের ব্যবসা বা পেশা নিয়ে দারুন আশাবাদী থাকে। অনেকেই এই সফলতা দেখে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং পেশায় আসতে চান। তবে কেউ কেউ মনে করে অভিজ্ঞ না হলে এই পেশায় নামা যায় না। তবে আসল কথা হলো অভিজ্ঞ না হয়েও এই পেশায় আসা যায় এবং ইচ্ছা, পরিশ্রম ও ধৈর্য্য থাকলে অনেক ভালো করা যায়। কয়েকটি বিষয় মেনে চললে বা সিদ্ধান্ত নিলে আপনি এই পেশায় আসতে পারেন।

1173842_541180542647239_1154854623_n

লক্ষ্য নির্ধারণ করা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন কাজটি করতে চান বা আপনার কোন সেবা বিক্রি করতে চান সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। অধিকাংশ মানুষ যে ভুলটি করে, তা হলো অন্যরা কি করছে তা অনুসরণ করা। এ ক্ষেত্রে আপনার যে অভিজ্ঞতা আছে বা আপনার যে বিষয়টি ভালো লাগে সেটি নির্বাচন করা। আপনি যদি গণিতে ভাল হন, তাহলে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রোগ্রামিং। আর যদি আঁকাআঁকি ভাল লাগে তাহলে আপনার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে। যদি লেখালেখি ভাল লাগে তাহলে লেখালেখিতেই ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

ফ্রিল্যান্স প্রোফাইল তৈরি করা
ফ্রিল্রান্সারদের মূল সমস্যা হলো তারা তাদের প্রোফাইল সুন্দর করে তৈরি করে না। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সাররা ভাবে কাজের দক্ষতা অর্জনের পরেই প্রোফাইল তরি করা যায়। এটা একটি ভুল ধারনা। হবে একজন ফ্রিল্যান্সারের স্কিল অর্জন করার আগে কাজে বিড করা উচিত নয়, একজন ফ্রিল্যান্সরের যদি মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট না থাকে এবং যদি প্রতিনিয়ত কাজের ধারাগুলো না দেখে, তাহলে কখনো জানতে পারবে না মার্কেটপ্লেসে কি কি ধরনের কাজ থাকে। স্কিলের পাশাপাশি মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকতে হবে, কেননা কাজ করার আগে মার্কেপ্লেস সম্পর্কে জানা অতিব জরুরী।

মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারনা নেওয়া
নতুন অবস্থায় একজন ফ্রিল্যান্সারের মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধরনা নাও থাকতে পারে। তবে সঠিকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে এসম্পর্কে পূর্ন ধারনা থাকা আবশ্যক। বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সার এ ধারনা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সোস্যাল সাইট গুলোতে প্রশ্ন করে থাকে। অথচ প্রতিটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে তাদের হেল্প সেন্টার থাকে, যেখানে অনেক সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ইল্যান্সে শতাধিন সাহায্যকারী পোস্ট আছে। একজন ফ্রিল্যান্সারের নিয়মিত এই পোস্টগুলো দেখা উচিত। ভালো ভাবে জানার পরেই মার্কেটপ্লেসে কাজের জন্য বিড করা বা কাজ করা উচিত।

বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা
আমরা একটি কম্পিউটার কিনতে গেলে শুধু একটি কম্পিউটারের ক্যাচিং বা বাক্স কিনি না, এর সাথে প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশও কিনি। তেমনি, যখন কোন ক্লায়েন্ট একজন ফ্রিল্যান্সারকে হায়ার করবে সে একটি পরিপূর্ণ প্যাকেজ চায়। এক্ষেত্রে একটি প্রোফাইল তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই প্রমান করতে হবে কাজটি করার জন্য তার কি যোগ্যতা আছে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে এবং যোগ্যতা প্রমান করতে একজন ফ্রিল্যান্সার দুটি কাজ করতে পারেন।

একজন ফ্রিল্যান্সারের স্কিল টেস্টের মাধমে তিনি কি কাজ করতে পারেন সে সম্পর্কে জানা যায়। ইল্যান্সে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য স্কিল টেস্টের ব্যবস্থা আছে, যেখান থেকে স্কিল টেস্ট দিয়ে আপনার দক্ষতা যাচাই করা খুবই সহজ। এই টেস্টগুলো বিনামূল্যে দেওয়া যায় এবং কেউ যদি টেস্টে খারাপ করেন তাহলে টেস্টটি হাইড করতে পারবেন এবং পুনরায় টেস্টটি ১৪ দিন পরে আবার দিতে পারবেন এবং এটাও আবার ফ্রিতেই দিতে পারবেন। যদি ফ্রিল্যান্সার তার প্রোফাইলে ভালো স্কোর দেখাতে পারেন, তাহলে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

পোর্টফোলিও এবং স্কিল টেস্ট এর ফলাফল একজন ফ্রিল্যান্সারের দক্ষতা এবং হাতে কলমে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রমান করে। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার এর উচিত যত বেশি পোর্টফোলিও সংযোগ করা। ওয়েব ডেভেলপার তার ডেভেলপ করা সাইটের স্ক্রীনশর্ট নিয়ে আপলোড করতে পারেন, এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার ডিজাইন তৈরি করে প্রোফাইলে যুক্ত করে দেখাতে পারেন। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজগুলো সংযুক্ত করতে পারেন স্কিল হিসেবে। সার্ভিস হোল্ডাররা তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে দিতে পারেন অভিজ্ঞতা হিসেবে। সর্বোপরি কোন প্রোফাইলের পোর্টফোলিও একজন ফ্রিল্যান্সার যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে তার পরিপূর্ন দক্ষতা আছে সেটা প্রমান করে।

নিজের প্রচারণা চালানো
নিজের ঢোল পেটানো কথাটি খারাপ শোনালেও একজন ফ্রিল্যান্সের ক্ষেত্রে এটি তেমনটা নয়। আপনাকে যেহেতু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মার্কেটে কাজ করতে হবে তাই আপনার পরিচিতি থাকা আবশ্যক। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে নিজের অবস্থান তৈরি করতে আপনার ত্রুটিমুক্ত প্রোফাইল এর পাশাপাশি নিজেকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরতে হবে। তাই সম্ভব হলে নিজের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করা ভালো। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটের প্রোফাইল ও পেজের মাধ্যমে আপনার এবং আপনার বিভিন্ন সেবা তুলে ধরতে পারেন। অবশ্যই প্রফেশনাল ছবি ও তথ্য শেয়ার করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আপনার পার্সোনালিটি নষ্ট হয় এমন কোনো কিছু করা উচিত নয়। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করেন তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন। এতে তাদের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এভাবেই আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং জীবন শুরু করতে পারেন।

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন