ফ্রিল্যান্সিং : শীর্ষ ৫ কাজ

ফ্রিল্যান্সিং : শীর্ষ ৫ কাজ

বর্তমানে দেশের প্রায় দুই লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ে জড়িত। জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নানা ধরনের কাজ রয়েছে। এখান থেকে নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করে অর্থ আয় করছেন ফ্রিল্যান্সাররা। ফ্রিল্যান্সিংয়ের এমনই জনপ্রিয় ৫ কাজ নিয়ে আমার এই লেখা…

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট : প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার এই সময়ে বিশ্বের ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রায় সবাই ক্রমেই ইন্টারনেটের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ওয়েব দুনিয়ায় বর্তমানে মোট ওয়েবসাইটের সংখ্যা প্রায় ৬৫ কোটি। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে হাজারো ওয়েবসাইট। এই বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটকে তৈরির জন্য ডিজাইনের পাশাপাশি প্রয়োজন ওয়েব ডেভেলপমেন্টের চাহিদা। ওডেস্ক, ফ্রিল্যান্সার, ইল্যান্সসহ জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেট প্লেসগুলোতে সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য কাজ হলো ওয়েব ডেভেলপমেন্ট। ওডেস্কে প্রায় সব সময়ই ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরিতে ১০ হাজারের অধিক জব থাকে। ইল্যান্সের প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজই ওয়েব ডেভেলপমেন্টের। প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে শত শত কাজ। ওডেস্কে প্রতি ঘণ্টায় ১৫০ ডলারের বেশি রেটে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করছেন এমন অনেকেই রয়েছেন। তবে এই আয়ের পরিমাণ নির্ভর করে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে নিজেকে কতটা স্কিল করতে পারছেন তার ওপর। একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডেভেলপার হতে হলে অবশ্যই এইচটিএমএল, সিএসএস, পিএইচপি, জাভা স্কিপ্ট, জেকোয়ারি, মাইএসকিউএলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভালোভাবে জানতে হবে। এই বিষয়গুলো ভালোভাবে শিখে বিলিয়ন ডলারের ওয়েব ডেভেলপমেন্টের বাজারে যে কেউ প্রবেশ করতে পারে।

DevsTeam

আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ডেভসটিমে ফ্রিল্যান্স-আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছেন সংশ্লিষ্ঠরা

ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইন : আঁকাআঁকিতে ঝোঁক থাকলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে প্রথম পছন্দ। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ডিজাইনার স্যালারিজের মতে, একজন ডিজাইনার প্রতি বছর গ্রাফিক্স ডিজাইন বা এ সম্পর্কিত চাকরি বা কাজ করে এক লাখ ডলার সেই হিসাবে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ টাকা আয় করতে পারেন। অনলাইন মার্কেট প্লেসে একটি লোগো ডিজাইন করলে ৫ থেকে শুরু করে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে দক্ষতার ক্ষেত্রেও বেশি ক্রিয়েটিভ কাজ হলে এটি ৫ হাজার ডলার পর্যন্তও হতে পারে। এ ছাড়া একটি ওয়েবসাইটটের ফাস্ট পেজ ডিজাইন করার ক্ষেত্রে ৫০ ডলার থেকে শুরু করে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত পেতে পারেন। ৯৯ ডিজাইন্স ডটকম, ফ্রিল্যান্সার, ওডেস্কসহ অনেক অনলাইন মার্কেট প্লেস রয়েছে যেখানে এই কাজগুলো পাওয়া যায়। তাই ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইন হতে পারে একজন ফ্রিল্যান্সারের সবচেয়ে উপযোগী পেশা।

কনটেন্ট রাইটিং : অনলাইনে আয় করার অন্যতম সহজ ও সম্ভাবনাময় উপায় হচ্ছে লেখালেখি, যেটিকে আর্টিকেল রাইটিং বা কনটেন্ট রাইটিং অথবা কনটেন্ট ডেভেলপিং বলা হয়। যারা ইংরেজিতে ভালো তারাই লেখালেখিকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে পারেন। কনটেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন কাজের জন্য কনটেন্ট লিখে থাকেন। ওয়েব কনটেন্ট ছাড়াও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য রিসোর্স বই, ব্রশিউর, লিফলেট বা অন্যান্য প্রচারের কাজে কনটেন্ট ডেভেলপ করা হয়ে থাকে। একজন কনটেন্ট ডেভেলপারের অনেক কাজের ক্ষেত্র রয়েছে। ক্ষেত্রগুলো হলো_ কপি রাইটিং, প্লগ লেখা, ওয়েব কনটেন্ট, প্রেস রিলিজ রাইটিং, ট্রান্সলেশন, ট্রান্সক্রিপশন, সামারাইজেশন, রিজিউম রাইটিং, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ইত্যাদি।
তবে বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন, একজন ওয়েব কনটেন্ট রাইটারকে কোনো নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করে ডেটাবেজ তৈরি করতে হয়। উন্নত বিশ্বে একজন কনটেন্ট রাইটারকে একজন সাংবাদিক আবার গবেষকও অভিহিত করা হয়। বাংলাদেশে এমন অনেক ফ্রিল্যান্স লেখক আছেন যারা ঘণ্টায় ১০ থেকে ৩০ ডলার আয় করে থাকেন।

ব্লগিং অ্যান্ড অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং : অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। বাংলাদেশ থেকে অনেক তরুণ-তরুণী ব্লগিং-অ্যাফিলিয়েটের মাধ্যমে নিজেদের স্মার্ট ক্যারিয়ার নিশ্চিত করেছেন। এই সেক্টর থেকে প্রতি মাসে ২ থেকে ১০ হাজার ডলার আয় করছেন এমন সফল ব্লগার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের সংখ্যাও এখন অনেক। ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রায় একই বিষয়। দুটিই একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বিশ্বে ব্লগারদের সাংবাদিক হিসেবেও এখন গণ্য করা হয়। স্মার্ট ক্যারিয়ার হিসেবে তাই ব্লগিং এখন ওয়েব উদ্যোক্তাদের মধ্যে ‘হট-কেক’!
ব্লগিংয়ের মাধ্যমে অনেক উপায়েই আয় করা যায়, তার মধ্যে গুগল অ্যাডসেন্স আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টের এ বিজ্ঞাপন প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১০ হাজার ডলারের ওপরে আয় করছেন এমন ব্লগারের সংখ্যাও বাংলাদেশে রয়েছে।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন : ইন্টারনেট বাণিজ্যের এই যুগে ওয়েবসাইট ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে তো কল্পনাই করা যায় না! আবার ওয়েবসাইট থাকলেই কিন্তু এখন চলে না। একটি ওয়েবসাইটকে গুগল সার্চে প্রথম দিকে নিয়ে আসার যে কৌশল সেগুলোকেই মূলত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন [এসইও] বলা হয়ে থাকে। দিন দিন বিশ্বব্যাপী যত ওয়েবসাইট বাড়ছে, এসইও কাজের ক্ষেত্রও অনেক বাড়ছে। এসইও বিশ্বে বাংলাদেশ এখন খুব পরিচিত একটি নাম। আপনি যদি ইংরেজিটা মোটামুটি জানেন, তবে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন শেখা শুরু করে দিতে পারেন।

সতর্ক থাকুন : অনলাইন মার্কেট প্লেস সহজে আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। অনলাইন মার্কেটে বর্তমানে স্প্যামিং সংশ্লিষ্ট কাজের সংখ্যা বেড়েছে। বিষয় ভিত্তিক দক্ষতা না থাকলেও অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে এ ধরনের কাজ করে অনেকেই অর্থ আয় করছেন। তবে এ ধরনের কাজের মাধ্যমে মূলত স্প্যামারদেরকেই উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে ক্যাপচা লেখার মতো কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসের বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা বলছে, ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই কাজে নামা উচিত। এজন্য নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ বেছে নিতে হবে। প্রয়োজনে অনলাইন থেকে কনটেন্ট সংগ্রহ করে কিংবা প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে কাজ শিখতে হবে।

About বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন

একটি উত্তর দিন