ফেসবুক আইডি ব্লক-স্ট্যাটাস ডিলিটের মিশনে ‘বাঁশের কেল্লা’

ফেসবুক আইডি ব্লক-স্ট্যাটাস ডিলিটের মিশনে ‘বাঁশের কেল্লা’

সামাজিক গণযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডি ব্লক ও স্ট্যাটাস ডিলিট করার মিশনে নেমেছে শিবির পরিচালতি ‘বাঁশের কেল্লা’ পেইজ। প্রগতিশীল ব্যক্তি ও ব্লগারদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে রিপোর্ট করে কিছু আইডি ব্লক (সাময়িক বন্ধ) করার পাশপাশি নিয়মিত পোস্ট ডিলিট করার কাজটি চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

বাঁশের কেল্লার এই কাজে সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ‘অ্যান্টিভারাস’ নামে একটি ফ্যান পেইজ। শাহবাগ আন্দোলনের নেতা লাকী আক্তারের ফেসবুক আইডি রিপোর্ট করে ব্লক করার পদক্ষেপ নেয় তারা। সফলও হয়। তবে প্রায় ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর আবেদন করে বৃহস্পতিবার ফের আইডি খুলতে পারেন লাকী।

একইভাবে ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাংবাদিক মাসকাওয়াথ আহসান ও জ.ই. মামুন, ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য, অভিনেতা ইরেশ জাকের ও সঙ্গীত শিল্পী প্রীতমের স্ট্যাটাস রিপোর্ট করে ডিলিট করিয়েছে- বাঁশের কেল্লা। এমনকি এই পরিস্থিতি অব্যাহত রেখে নিয়মিত পোস্ট ডিলিট করে চলেছে এই পেইজ।

জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কোনো স্ট্যাটাস দিলেই তা ডিলিট করতে রিপোর্ট করা হয়। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ রিপোর্টের পর স্ট্যাটাস ডিলিট করছে। ক্ষেত্র বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি না হলে তার আইডিও বন্ধ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা তাদের এ বিষয়টি স্ট্যাটাস দিয়ে একে অপরকে জানিয়ে দিচ্ছেন এবং একে অন্যের স্ট্যাটাস যাতে ডিলিট করতে না পারে, সে জন্য পরামর্শও দিচ্ছেন।

সাংবাদিক জ.ই. মামুনের স্ট্যাটাস ডিলিট হওয়ার পর তিনি সবাইকে ইংরেজিতে লেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে পারে না শুধুমাত্র ভাষার কারণে। পোস্ট ডিলিট করার আগে তাদের সদর দফতরে তা যাচাই করার মতো লোকও নেই।”

সাংবাদিক মাসকাওয়াথ আহসান তার স্ট্যাটাসে বলেছেন, ‘ফেসবুকে `আপত্তিকর’ পোস্ট মুছে দেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা নজরদারির প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আমার তো মনে হয়, এটি ভেস্তে যাচ্ছে। ‘ছাগুরাই’ এখন তাদের প্রশিক্ষণ পর্ব চালাচ্ছে।”

এদিকে, ‘অ্যন্টিভাইরাস’ নামের ফ্যান পেইজ’র (বাঁশের কেল্লার সহাযোগী) কাছে বাঁশের কেল্লা ‘সাদিয়া সুমি উজ্জা’ আইডি বন্ধের জন্য অনুরোধ জানায়। ‘অ্যান্টিভারাস’ এ মিশনে যোগ দিয়েছে।

‘অ্যান্টিভারাস’ পেইজটি ‘বাঁশের কেল্লা’কে বলেছে, মিশন এথিস্ট আইডি রিপোর্টিং: সাদিয়া সুমি উজা (Sadia Shumi Uyya) আমি জানি, অনেকেই ‘সাদিয়া সুমি উজ্জা’ নামের এই নাস্তিকের আইডি বন্ধ করতে চান! এই জন্য অনেকে আমাকে রিকুয়েস্টও করেছেন! তো চলুন শুরু হয়ে যাক এই মিশন! আমার দুইটা রিপোর্টিং স্কোয়াড দরকার। কম্পিউটার ব্যবহারকারী ও মোবাইল ব্যবহারকারী।”

এই দুইটা রিপোর্টিং স্কোয়াডের কাজ কী তাও লিখেছে তারা।

Basherkella

যেভাবে রিপোর্টিং স্কোয়াডের মাধ্যমে আইডি বন্ধের চেষ্টা
‘অ্যান্টিভাইরাস’ থেকে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বলা হয়- ‘কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা যারা পিসি ইউজ করেন, তারা সবাই ওই নাস্তিকের আইডির বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন।‘ ‘মোবাইল ব্যবহারকারী যারা মোবাইল ফোন ইউজ করেন, তারা সবাই ওর প্রোফাইল পিক, কভার ফটো, স্ট্যাটাস ও ফটোতে রিপোর্ট করুন।‘

জানা গেছে, ‘অ্যান্টিভারাস’ ঘোষণা দিয়ে বলেছে, ‘আসুন, আমরা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে এই মিশন সাফল্যমণ্ডিত করি। আমাদের জয়  সুনিশ্চিত। নাস্তিকদের দৌড়ের উপর রাখুন, অ্যন্টিভাইরাসে যোগ দিয়ে এ যুদ্ধে আপনিও সামিল হোন।”

ফ্যান পেইজ ‘অ্যান্টিভাইরাস’ আরো জানায়, অনলাইন থেকে আওয়ামী ভাইরাস নির্মূলে অ্যান্টিভাইরাস গ্রুপের পক্ষ থেকে এটি একটি ফ্যান পেইজ মাত্র।

সূত্র: ইউকে বিডিনিউজ

About কমজগৎ ডেস্ক

একটি উত্তর দিন