ফরেক্স সম্পর্কিত কিছু terms এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

ফরেক্স সম্পর্কিত কিছু terms এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

ফরেক্স ট্রেডিং  নিয়ে সবকিছু আমি আমার লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি , এ জন্য লেখাটি একটি ব্লগপোস্টের হিসাব অনুযায়ী বেশি বড় হয়ে যাওয়ায় লেখাটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম , আপনাদের সুবিধার জন্য ।ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে আপনি যেটা জানতে চান সেটাই পড়ুন –

**************************************************************************************************

ফরেক্স মার্কেট এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

জেনে নিন ফরেক্সে ক্যারিয়ার ও কাজের কৌশল

কিভাবে শিখবেন ফরেক্স ও ফরেক্স অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম

ফরেক্স মার্কেটের প্রধান মুদ্রাগুলোর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

ফরেক্স সম্পর্কিত কিছু terms এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

জেনে নিন কখন ফরেক্স করবেন এবং ট্রেডিংয়ের উপযুক্ত ও খারাপ সময়

ফরেক্স কাদের জন্য ও কাদের জন্য নয়

ফরেক্সে কিভাবে আয় করা যায় ও এর লাভক্ষতির হিসাব

ফরেক্স ট্রেডিংয়ের সুবিধা ও অসুবিধা

**************************************************************************************************

ফরেক্স সম্পর্কিত কিছু পদবাচ্য

ফরেক্সে বেশ কিছু শব্দ বা পদবাচ্য রয়েছে, যার অর্থ নতুনদের জন্য বোঝা কঠিন। তাই ফরেক্সের সাথে যুক্ত শব্দগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে ফরেক্সে আসা উচিত নয়। ফরেক্স বোঝার জন্য এসব শব্দের গুরুত্ব অপরিসীম। ফরেক্সে অনেক টার্ম বা পদবাচ্য আছে, যা কাজ করতে করতে আপনি জানতে পারবেন। কিন্তু যে টার্ম বা শব্দগুলো জানা না থাকলেই নয়, সেগুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো :

কারেন্সি পেয়ার : 
কারেন্সি পেয়ার নিয়ে এখানে আগেই বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তবে এখানে সহজ কিছু উদাহরণের ব্যাপারটি আরো স্পষ্ট করে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। আগেই জেনেছি কারেন্সি পেয়ারগুলোকে কিভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যেমন : মার্কিন ডলার ও ইউরোর কারেন্সি পেয়ারের সঙ্কেত হচ্ছে USD/EUR। এখন যদি লেখা থাকে ১ USD/EUR = ০.৬৯৩০, তাহলে বুঝতে হবে ১ ডলার দিয়ে আপনি পাবেন ০.৬৯৩০ ইউরো। বিপরীতভাবে যদি লেখা থাকে ১ EUR/USD = ১.৪৪২৮, তাহলে বুঝতে হবে ১ ইউরো দিয়ে কেনা যাবে ১.৪৪২৮ ডলার।

পিপস : 
ওপরের কারেন্সি পেয়ারের ব্যাখ্যায় কারেন্সি পেয়ার রেটের বেলায় দশমিকের পরে চার ঘর পর্যন্ত সংখ্যা রাখা হয়েছে। অনেকের মাথায় আসতে পারে এত সূক্ষ্ম করে লেখার কী দরকার? যারা শেয়ার ব্যবসায় করেন, তাদের প্রশ্ন হতে পারে শেয়ারের মূল্য সাধারণত পূর্ণ সংখ্যায় থাকে, যেমন : শেয়ারের মূল্য ৫০ টাকা হতে পারে বা ১০০০ টাকা হয়ে থাকে? খুব কমই শেয়ার দেখা যায় যার মূল্য দশমিক পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু ফরেক্সের বেলায় এত সূক্ষ্ম হিসাবের কী প্রয়োজন? এক্ষেত্রে বলা যায়, শেয়ার হচ্ছে দুটি কারেন্সির অনুপাত, তাই এখানে মুদ্রার মূল্যমানের সূক্ষ্ম পার্থক্যটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ার বাজারে আমরা এমনভাবে হিসাব করি না যে, গ্রামীণফোনের শেয়ারের বদলে কতগুলো এয়ারটেলের শেয়ার পাব। শেয়ার বাজারে শেয়ারের মূল্যাটাই আসল, যার দাম সাধারণত পূর্ণ সংখ্যায় হয়ে থাকে।

ফরেক্স মার্কেটে দশমিকের পর ৪ ঘর পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। কারণ কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেটের হেরফের বেশি লক্ষ করা যায় দশমিকের পরে তৃতীয় ও চতুর্থ ঘরে। কোনো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বড় কোনো পরিবর্তন না হলে দশমিকের পরে প্রথম ঘরের পরিবর্তন সাধারণত দেখা যায় না। ২-৩ দিন বা এক সপ্তাহের বাজার পর্যালোচনা করলে দশমিকের পরের দ্বিতীয় ঘরে পরিবর্তন দেখা যায়। পিপস সম্পর্কে বেশ ভালো জ্ঞান রাখা উচিত। তা না হলে ফরেক্স শেখাটা বেশ কঠিন হয়ে যাবে।

একটি সহজ উদাহরণ দেখা যাক, আগস্ট ২০১১ সালের ১১ তারিখ থেকে ১৮ তারিখ মোট ৮ দিনের হিসাব ডলার/ইউরো এক্সচেঞ্জ রেট নিচের ছকে দেয়া হলো :

এ ছক থেকে দেখা যাচ্ছে, ১১-১৪ তারিখ পর্যন্ত দশমিকের পরের তৃতীয় ও চতুর্থ ঘরে পরিবর্তন হয়েছে। ১৫ তারিখে এসে দশমিকের পরের ঘরে ৬ বেড়ে ৭-এর ঘরে গেছে এবং ১৫-১৮ তারিখ পর্যন্ত তা বহাল থেকেছে। ১৫-১৮ পর্যন্ত আবারো দশমিকের পরের তৃতীয় ও চতুর্থ ঘরেই মানের হেরফের হয়েছে। দশমিকের পরের চতুর্থ সংখ্যাটিকে বলা হয় পিপ (Pip)। অর্থাৎ ০.৬৯৮১ সংখ্যার মধ্যে ১ হচ্ছে পিপ। যেহেতু তৃতীয় ও চতুর্থ ঘরের মাঝে বেশি পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাই এ দুটি সংখ্যাকে বেশি হিসাব করা হয়। তাই একসাথে এ দুটি সংখ্যাকে (আরো বেশি সংখ্যাও হতে পারে) বহুবচনে পিপস (Pips) বলা হয়। অর্থাৎ ০.৬৯৮১ সংখ্যাতে পিপস হচ্ছে ৮১ বা ৯৮১ বা ৬৯৮১।

আমরা ১৭ ও ১৮ তারিখের এক্সচেঞ্জ রেটের মধ্যে পার্থক্য করলে পাব (০.৬৯৮১-০.৬৯৩০) = ০.০০৫১। এ পার্থক্যকে ফরেক্সের ভাষায় বলতে হবে ১৭-১৮ তারিখের মধ্যে মার্কেট ৫১ পিপস মুভ করেছে বা পরিবর্তিত হয়েছে। পিপসকে পয়েন্ট হিসেবেও অভিহিত করা হয়ে থাকে, তবে পিপস নামটিই বেশি জনপ্রিয়। পিপসের এ পরিবর্তন কয়েক মিনিটের মধ্যে হতে পারে বা আরো বেশি সময় লাগতে পারে।

ব্রোকার : 
শেয়ার ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তারা এবং ডলার বা অন্য দেশীয় মুদ্রা ভাঙ্গিয়েছেন তারা এ শব্দটির সাথে পরিচিত। ফরেক্সে ব্রোকার হচ্ছে আপনার পক্ষে কারেন্সি কেনাবেচার কাজ যে করবে সে। এটি সাধারণত একটি প্রতিষ্ঠান, যা ডলার এক্সচেঞ্জের কাজ করবে। অনলাইনে এরকম ভালো ব্রোকার কোম্পানি খুঁজে তাদের কোম্পানিতে আপনার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সে অ্যাকাউন্টে আপনার পুঁজি ডিপোজিট করতে হবে, যা দিয়ে আপনি ব্যবসায় শুরু করতে চান। তারা সে ডিপোজিটকৃত টাকা থেকে আপনার পক্ষ হয়ে কারেন্সি লেনদেন করবে। বাজারে হাজারো ব্রোকার কোম্পানি আছে। তাই এর মধ্য থেকে ভালো ব্রোকার খুঁজে বের করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে কিছু উপায় আছে ভালো ব্রোকার চেনার, সেগুলো জানতে হবে।

লেভারেজ : 
ফরেক্সের লেভারেজ আর শেয়ারের লোন প্রায় একই বিষয়। তবে শেয়ারে দ্বিগুণের বেশি লোন দেয়া হয় না। কিন্তু ফরেক্সে আপনার পুঁজির ১০০০ গুণ বেশি পর্যন্ত লোন বা লেভারেজ পাওয়া সম্ভব। লেভারেজ ১:২০০ বলতে বোঝায় মূল পুঁজির ২০০ গুণ লেভারেজ। যদি আপনার অ্যাকাউন্টে ১০০ ডলার থাকে এবং আপনি ব্রোকার প্রদত্ত ১:১০০ লেভারেজ সুবিধা গ্রহণ করেন, তবে আপনার পুঁজি ১০০ ডলার, কিন্তু আপনি বিনিয়োগ করলেন ১০০০০ ডলার সমমূল্যের ট্রেড। লেভারেজ ব্যবহার করলে লাভ বা ক্ষতির পরিমাণ বেশি করা সম্ভব। কম অর্থ বিনিয়োগ করে লেভারেজ প্রয়োগ করে যেমন বেশি টাকা কামানো সম্ভব, তেমনি সব খুইয়ে অ্যাকাউন্ট শূন্য বানানোও সম্ভব। তাই বিজ্ঞদের পরামর্শ, বেশি লোভ না করে ১:১০০ বা ১:২০০ লেভারেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা। আরো ভালো হয় লেভারেজ না নিয়ে কাজ করতে পারলে।

এক্সচেঞ্জ রেট : 
এক্সচেঞ্জ রেট হচ্ছে একটি কারেন্সির সাপেক্ষে আরেকটি কারেন্সির দামের অনুপাত। USD/EUR-র এক্সচেঞ্জ রেট নির্দেশ করে কত মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ১ ইউরো কেনা যাবে। ঘুরিয়ে বললে বলা যায়, ১ মার্কিন ডলার কিনতে কত ইউরো প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ : ১ USD/EUR = ০.৬৯৮১ বলতে বোঝায় ১ ডলার কেনার জন্য প্রয়োজন হবে ০.৬৯৮১ ইউরো। উল্টোভাবে বললে, ১ ইউরো কেনার জন্য লাগবে (১/.০৬৯৮১) = ১.৪৩২৪ মার্কিন ডলার। এক্সচেঞ্জ বাড়া বা কমার সাথে লাভ-লোকসানের পরিমাণ বের করা যায়।

আরো অনেক শব্দ রয়েছে ফরেক্সের, যা ফরেক্স শেখার সময় দেখা যাবে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে : Bank Rate, Flat, Gap, Liquidity, Lot, Margin, Margin Account, Margin Call, Margin Order, Momentum, Moving Average, Offer, Order, Pivot Point, Scalping, Resistance, Settled Position, Slippage, Spread, Swap, Trend ইত্যাদি। এগুলো ইন্টারনেট ঘেঁটে শিখে নিন কাজে দেবে।

About blogger - ব্লগার

একটি উত্তর দিন