ফরেক্সে কিভাবে আয় করা যায় ও এর লাভক্ষতির হিসাব

ফরেক্সে কিভাবে আয় করা যায় ও এর লাভক্ষতির হিসাব

ফরেক্স ট্রেডিং  নিয়ে সবকিছু আমি আমার লেখায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি , এ জন্য লেখাটি একটি ব্লগপোস্টের হিসাব অনুযায়ী বেশি বড় হয়ে যাওয়ায় লেখাটিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম , আপনাদের সুবিধার জন্য ।ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে আপনি যেটা জানতে চান সেটাই পড়ুন –

**************************************************************************************************

ফরেক্স মার্কেট এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

জেনে নিন ফরেক্সে ক্যারিয়ার ও কাজের কৌশল

কিভাবে শিখবেন ফরেক্স ও ফরেক্স অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম

ফরেক্স মার্কেটের প্রধান মুদ্রাগুলোর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

ফরেক্স সম্পর্কিত কিছু terms এর সাথে পরিচিত হয়ে নিন

জেনে নিন কখন ফরেক্স করবেন এবং ট্রেডিংয়ের উপযুক্ত ও খারাপ সময়

ফরেক্স কাদের জন্য ও কাদের জন্য নয়

ফরেক্সে কিভাবে আয় করা যায় ও এর লাভক্ষতির হিসাব

ফরেক্স ট্রেডিংয়ের সুবিধা ও অসুবিধা

**************************************************************************************************

কিভাবে আয় করা যায়? 

বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান সব সময় একই রকম থাকে না, তা সময়ের সাথে এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়। যেমন : কয়েক বছর আগে ১ মার্কিন ডলারের সমান ছিল ৭০ টাকা। এখন তা বেড়ে ৭৪ টাকার মতো হয়েছে। কিছুদিন পর তা আরো বাড়তে পারে বা তার চেয়ে কমে যেতে পারে। টাকার মান ওঠা-নামার সাথে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা জড়িত। ফরেক্সের ভাষায়, অর্থের মানের এ তারতম্যকে বলতে গেলে বলতে হবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমা মানে ডলার টাকার চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। আর টাকার মূল্যমান বাড়ার অর্থ হচ্ছে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। টাকা এখনো ফরেক্সের বাজারে নিজের স্থান শক্ত করে নেয়নি। ফরেক্সের বাজারের প্রধান মুদ্রাগুলো হলো : মার্কিন ডলার, ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, জাপানি ইয়েন, কানাডিয়ান ডলার, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ইত্যাদি।

মনে করুন, আপনার কাছে ১০০ মার্কিন ডলার আছে। তা দিয়ে আপনি ৭০ ইউরো নিলেন। তার অর্থ হচ্ছে আপনি ১০০ ডলার বিক্রি করলেন এবং ৭০ ইউরো কিনলেন। কিছুদিন বা কিছু সময় পর ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম বেড়ে গেলে আপনি তা বিক্রি করে দিয়ে আগের চেয়ে বেশি ডলার পেলেন। ১০০ ডলারের সাথে ইউরোর লেনদেন করে বাড়তি যে ডলার আপনি আয় করলেন সেটাই আপনার লাভ। এভাবেই আপনি ফরেক্সে আয় করতে পারবেন। শেয়ার মার্কেটের বেলায় শুধু শেয়ারের দাম বাড়লেই লাভ করার সুযোগ থাকে, নতুবা নয়। কিন্তু ফরেক্স মার্কেটে মুদ্রার মান বাড়ুক বা কমুক অর্থাৎ শক্তিশালী হোক বা দুর্বল হোক, দুই ক্ষেত্রেই আপনি লাভ করার সুযোগ পাবেন। কারণ একটি মুদ্রার বিপরীতে আরেকটির মান বাড়বে বা কমবে।

ফরেক্সে লাভক্ষতির হিসাব

ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড ওপেন বা খোলার এবং তা ক্লোজ বা বন্ধ করার পদ্ধতি বেশ সোজা। শুধু মাউস দিয়ে ক্লিক করেই তা অনায়াসে করতে পারবেন। কিন্তু কোন ট্রেডটি খুলবেন এবং কখন তা বন্ধ করবেন সে ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা কঠিন। স্টক মার্কেট বা শেয়ার মার্কেটে ট্রেড করার অভিজ্ঞতা থাকলে এ ব্যাপারে আপনার তেমন একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এখন দেখা যাক কিভাবে লাভ-লোকসান হয় ফরেক্স মার্কেটে।

মনে করুন, ১ ইউরো/মার্কিন ডলার = ১.৪২০০ এক্সচেঞ্জ রেটে (১ EUR/USD = ১.৪২০০) আপনি ১০০০ ইউরো কিনলেন ১৪২০.০ মার্কিন ডলার দিয়ে। দুই-তিন দিন পর বা এক সপ্তাহ পর এক্সচেঞ্জ বেড়ে হলো ১.৪৫০০।

এক্সচেঞ্জ রেট বাড়ায় কিনে রাখা ১০০০ ইউরো আপনি বিক্রি করে দিলেন ১৪৫০.০ মার্কিন ডলারে। তাহলে আপনার লাভ হলো ১৪৫০-১৪২০ = ৩০ মার্কিন ডলার। এভাবে আপনি ১০০০ ইউরোর বদলে যদি ১০০০০০ ইউরো কিনতেন, তাহলে লাভের পরিমাণ হতো ৩০০০ মার্কিন ডলার। অপরদিকে কারেন্সি কেনার পর এক্সচেঞ্জ রেট যদি কমে যায়, তখন আপনার লোকসান হবে।

ফরেক্স কোটেশন পড়ার নিয়ম

ফরেক্স ট্রেডিংয়ের সময়ে প্রতিটি ট্রেডে একটি কারেন্সি কিনতে হয় এবং আরেকটি বিক্রি করতে হয়। এক্সচেঞ্জ রেটের দিকে বেশ খেয়াল রাখতে হয় প্রতিটি ট্রেড ওপেন করার পর। এক্সচেঞ্জ রেট ও কারেন্সি পেয়ার একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে লেখা হয়, একে ফরেক্স কোটেশন বলে। সংক্ষেপে বলতে গেলে ইউএসডলার/ইউরো = ০.৬৯৮১ হচ্ছে একটি ফরেক্স কোটেশন। এখানে স্ল্যাশ (/)-এর আগে থাকা কারেন্সি বা ইউএসডলার (মার্কিন ডলার) হচ্ছে বেস (Base) কারেন্সি এবং স্ল্যাশের পরের কারেন্সি বা ইউরো হচ্ছে কুওট (Quote) কারেন্সি।

ফরেক্সে লং/শর্ট, বিড/আস্ক, বাই/সেল ইত্যাদি আরো কিছু টার্ম দেখতে পাবেন। এগুলোকে কি বোঝায়?

বাই/সেল (Buy/Sell) : 
ট্রেড করার সময় কারেন্সি বাই ও সেল করতে হবে। তাই কেনার সময় এক্সচেঞ্জ রেট নির্দেশ করে ১ ইউনিট বেস কারেন্সি কেনার জন্য কত ইউনিট কুওট কারেন্সি দিতে হবে। ১ ইউএস ডলার/ইউরো = ০.৬৯৮১-এর ক্ষেত্রে ১ ডলার কেনার জন্য দিতে হবে ০.৬৯৮১ ইউরো।

বিক্রি করার সময় এক্সচেঞ্জ রেট নির্দেশ করে ১ ইউনিট বেস কারেন্সি বিক্রি করলে কত ইউনিট কুওট কারেন্সি পাওয়া যাবে। ১ ইউএস ডলার/ইউরো = ০.৬৯৮১-এর ক্ষেত্রে ১ ডলার বিক্রি করলে পাওয়া যাবে ০.৬৯৮১ ইউরো।

বেস কারেন্সি হলো বাই ও সেলের মূল ভিত্তি। যদি আপনি ইউএসডলার/ইউরো বাই করেন, তবে আপনি বেস কারেন্সি ইউএসডলার কিনছেন এবং একই সাথে কুওট কারেন্সি ইউরো বিক্রি করছেন। সহজ কথায় ইউএসডলার কেনা, ইউরো বিক্রি করা।

আপনি একটি কারেন্সি পেয়ার বাই করবেন যখন আপনার মনে হবে যে, কুওট কারেন্সির তুলনায় বেস কারেন্সি শক্তিশালী হবে। এরপর আপনি সেল করবেন তখন, যখন আপনার মনে হবে কুওট কারেন্সির তুলনায় বেস কারেন্সি দুর্বল হয়ে যাবে।

লং/শর্ট (Long/Short) : 
ট্রেড শুরু করার আগে বাই করবেন না সেল করবেন, তা ঠিক করে নিতে হবে। আপনি ঠিক করলেন বাই করবেন, তার মানে হচ্ছে আপনি বেস কারেন্সি কিনবেন এবং কুওট কারেন্সি বিক্রি করবেন। এখন বাই করার পর আপনার চাওয়া থাকবে বেস কারেন্সির দাম বেড়ে যাক, তাহলে আপনি বেশি লাভে তা বিক্রি করতে পারবেন। ফরেক্সের ভাষায় আপনি লং পজিশনে রয়েছেন। সহজভাবে মনে রাখার জন্য বলা বাই করলে তা লং পজিশন।

একইভাবে যদি আপনার ইচ্ছে হয় সেল করার অর্থাৎ বেস কারেন্সি বিক্রি করা এবং কুওট কারেন্সি কেনার। তাহলে সেল করার পর আপনার লক্ষ থাকবে বেস কারেন্সির দাম কমে গেলে, তা আপনি কিনবেন আরো কম দামে। ফরেক্সের ভাষায় আপনি আছেন শর্ট পজিশনে। শর্ট পজিশন সেলের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

বিড/আস্ক (Bid/Ask) : 
ফরেক্স ট্রেডিং সফটওয়্যার ব্যবহার করার সময় দেখবেন কোটেশনে দুটি কারেন্সির মূল্য দেয়া থাকে। যে মূল্য দুটি দেয়া থাকে তাদের বিড ও আস্ক বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিডের মূল্য আস্কের মূল্যের চেয়ে কম হয়। অর্থাৎ বিড ছোট ও আস্ক বড়।

বিড হচ্ছে এমন একটি মূল্য, যে দামে ব্রোকার কুওট কারেন্সির পরিবর্তে বেস কারেন্সি কিনতে চায়। অর্থাৎ সেল করার জন্য বিড হলো সবচেয়ে ভালো মূল্য।

আস্ক হলো এমন একটি মূল্য, যে দামে ব্রোকার কুওট কারেন্সির পরিবর্তে বেস কারেন্সি বিক্রি করতে চায়। অর্থাৎ বাই করার জন্য আস্ক হলো সবচেয়ে ভালো মূল্য।

ডলার/ইউরো = ০.৬৯৮১ হচ্ছে বিড এবং তা বেড়ে যদি ০.৭০১০ হয় তবে তা হচ্ছে আস্ক। তাদের পার্থক্য হচ্ছে (০.৭০১০-০.৬৯৮১) = ০.০০২৯ বা ২৯ পিপস। এ পার্থক্যকে বলা হয় স্প্রেড।

About blogger - ব্লগার