প্রোগ্রামাদের সব ধরণের সহযোগিতা দেবে সরকার : পলক

প্রোগ্রামাদের সব ধরণের সহযোগিতা দেবে সরকার : পলক

ICTপ্রোগ্রামিংকে শিল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে পারলে বাংলাদেশেও বিশ্বখ্যাত প্রোগ্রামার তৈরি হবে। দেশে বেশি বেশি প্রোগ্রামার প্রস্তুত হবে। যত বেশি প্রোগ্রামার হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কার্যক্রম তত জোরালো হবে।
তাই প্রোগ্রামিংয়ে ভাল করতে প্রোগ্রামাদের সব ধরণের সহযোগিতা দেবে সরকার। এখন থেকে প্রোগ্রামারদের সরকারি প্রণোদনা,অনুদান ও সম্মাননা প্রদান অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল(বিসিসি) মিলনায়তনে দেশের মেধাবী প্রোগ্রামারদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
অনুষ্ঠানে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত  এসিএম-আইপিসির ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি প্রোগ্রামারদের সম্মাননা ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়।
এতে সকল প্রতিযোগি ও কোচদের সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়।  ২০১৫ সালের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলের প্রত্যেককে দেয়া হয় ৫০ হাজার টাকা করে উৎসাহ পুরস্কার।
এছাড়া জুলাইয়ের ২৬ তারিখ থেকে  কাজাখাস্তানে অনুষ্ঠিতব্য স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অব ইনফরমেটিকসের ২৭তম আসরের (আইওআই) ফাইনালে অংশগ্রহণকারী দলকেও সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতাসহ ৫ লাখ টাকা দেয় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।
প্রতিমন্ত্রী প্রোগ্রামারদের অধ্যাবসায়ী এবং ইংরেজি শিক্ষার প্রতি জোর দিতে আহবান জানিয়ে বলেন, প্রোগ্রামিং কনটেস্ট একটি কো-কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি। এখানে সফল হতে হলে চাই দ্রুত ও নিখুঁত কোডিং, জটিল সমস্যা সমাধান করার সক্ষমতা, ধৈর্য্য, ভালো টিম ওয়ার্ক, চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা।
প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করে আধুনিক ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগের কথা উল্লেখ করে প্লক বলেন, গুগল, ফেইসবুক, মাইক্রোসফটের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো ভালো প্রোগ্রামিং জানা তরুণ-তরুণীদেরকে লুফে নিচ্ছে। আমাদের এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। ভালো ক্যারিয়ার তৈরিতে আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
প্রোগ্রামারদের সম্মাননা কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহকারি সচিব আরএইচএম আলাওল কবির।
অনুষ্ঠানে ১৯৯৮ সাল থেকে আইসিপিসি ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শীর্ষস্থান অধিকারী বিভিন্ন টিমের ৮০ জনকে সম্মননা প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সবচেয়ে বড় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট বা আইসিপিসি। আইসিপিসির মূল আয়োজক হচ্ছে অ্যাসোসিয়েশন অব কম্পিউটার মেশিনারিজ বা এসিএম। এজন্য এই আয়োজনকে একসাথে এসিএম-আইসিপিসি বলা হয়ে থাকে।
আইসিপিসি মূলত দুই ধাপে আয়োজন করা হয়। প্রথম ধাপ আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা বা রিজিওনাল কনটেস্ট এবং দ্বিতীয় ধাপ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ বা ওয়ার্ল্ড ফাইনাল ।
বর্তমানে অনেক জায়গায় আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার আগে অনলাইনে একটি বাছাই প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়। এসব প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বা একাধিক দল অংশগ্রহণ করতে পারে।
আইসিপিসিতে অংশ নিতে  কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী হতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই। প্রোগ্রামিং জানা যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন বিভাগের শিক্ষার্থী এতে অংশ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ৩ জন মিলে একটি দল করেই অংশ নিতে হয়। মূল প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলকে দেয়া হয়া হয় একটি কম্পিউটার এবং এক সেট প্রোগ্রামিং সমস্যা যা ৯ থেকে ১২ টি হয়ে থাকে।
সমস্যাগুলো সমাধানে প্রতিযোগিরা ৫ ঘন্টা সময় পান। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে দল সবচেয়ে বেশি সমস্যা সমাধান করতে পারে তারাই বিজয়ী হয়। সমান সংখ্যক সমস্যার সমাধান করলে যারা কম সময়ে সমাধান করেছেন এবং যাদের পেনাল্টি কম (সমাধান ভুল হলে ২০ মিনিট পেনাল্টি) তারা র‌্যাঙ্ক লিস্টে উপরে থাকে।
তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালে একবারই সেরা ২০ দলের মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করতে পেরেছিল। সেবার সেরা ২০ দলের মধ্যে ১১তম স্থান নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন