প্রস্তাবিত বাজেটে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিফলন ঘটেনি : বেসিস

প্রস্তাবিত বাজেটে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিফলন ঘটেনি : বেসিস

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে রূপকল্প তৈরি করে। আর ডিজটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের এই শেষ মুহুর্তে তথ্যপ্রযুক্তি বান্ধব একটি বাজেট খুবই অপরিহার্য ছিল। নির্বাচনের পরে তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি কিছুটা হলেও মন্থরগতি হবে। তাই বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ঘোষিত বাজেটে সে বিষয়ে কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

বুধবার সকালে বেসিস সভাকক্ষে জাতীয় বাজেট ২০১৩-১৪ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি এ কে এম ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার পূর্বেই অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পৃথকভাবে তথ্য প্রযুক্তি খাতের পক্ষ থেকে দুটি প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিলো। কিন্তু আমরা আশাহত যে, মাননীয় অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে গত ৬ জুন ২০১৩-১৪ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করেছেন তাতে বেসিসের প্রস্তাবের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

BASIS Past Budget Press Conference

তিনি তথ্য প্রযুক্তি খাতকে দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ খাতে বিগত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। বিশেষত সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানী প্রবৃদ্ধি দেশের শীর্ষ ১৫টি রপ্তানী পণ্যের অন্যতম হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিগণিত হয়েছে। বিগত ২০১১-১২ অর্থবছরে রপ্তানী প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৬% এবং ২০১২-১৩ বর্ষেও এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক বেশি বলেও উল্লেখ করেন বেসিস নেতৃবৃন্দ ।

সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে জাতীয় বাজেট ২০১৩-১৪ অনুমোদনের পূর্বে বেসিস কয়েকটি বিষয় পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, এগুলো হচ্ছে- ক) তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সেবার জন্য ধার্যকৃত বর্তমানের মূসক ৪.৫% [এস.আর.ও. ২৩৯-আইন/২০১২/৬৫৬-মূসক] থেকে শূন্য (০%) শতাংশে নামিয়ে আনা। খ) বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর থেকে ১৫% মূসক প্রত্যাহার করা, গ) (৩) ই-কমার্স উৎসাহিত করতে ই-কমার্স লেনদেনের ওপর থেকে অন্তত আগামী ৩-৫ বছরের জন্য ভ্যাট প্রত্যাহার, ৪) জাতীয় আইসিটি নীতিমালা ২০০৯ অনুযায়ী আইটি ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ও অথরিটি গঠনের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং বৃহৎ করদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহকে ভ্যাট অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা যাতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বেসিসের প্রস্তাবিত এই বিষয়গুলো নিয়ে অর্থমন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, সকল সংসদ সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। বেসিস সরকারের কাছে দাবি নয়, সরকারকে সহায়তার জন্যই এই বিষয়গুলো বাজেটে পুন:বিবেচনা করার জন্য জানাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বেসিস এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম আহসান, সহ-সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, মহাসচিব রাসেল টি আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব এম রাশিদুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ উত্তম কুমার পাল, পরিচালক রিয়াজউদ্দিন মোশাররফ, শাহ ইমরাউল কায়ীশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

About বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন

একটি উত্তর দিন