প্রযুক্তিতে মেয়েদের এগিয়ে আসতে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান

প্রযুক্তিতে মেয়েদের এগিয়ে আসতে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান

eatlপ্রযুক্তিতে মেয়েদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো দরকার। এজন্য প্রতিযোগিতার আয়োজকদের বিষয়টির প্রতি আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ইএটিএল-প্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে স্মার্টফোনের ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে দেশকে গড়ে তুলতে প্রযুক্তির উদ্ভাবনী উদ্যোগের বিকল্প নেই। তাই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে এই প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলো নিতে হবে দেশের সব খাতকে বিবেচনায় এনে। শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও অন্যসব খাতের মতোই গুরুত্ব দিতে হবে।
চতুর্থবারের মতো প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করেছে এথিকস অ্যাডভান্স টেকনোলজিস লিমিটেড (ইএটিএল)।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ইতোমধ্যে দেশের সবগুলো উপজেলায় থ্রিজি মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা চালু করা হয়েছে। আর ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এর আগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আইসিটি বিভাগ হাজারেও বেশি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে। নতুন ও সৃজনশীল ধারণার বিকাশে এসব প্রতিযোগিতা খুবই কাজে দেয়। এর মধ্য দিয়েই উদ্ভাবনী ধারণার জন্ম হয়।
পলক বলেন, দেশে এখন জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, জাতীয় হ্যাকাথন, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের মতো আয়োজন হচ্ছে নিয়মিত। ইএটিএল-প্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতাও তেমনই। যেখান থেকে আমরা সৃজনশীল ধারণা পেয়ে থাকি।
আগামী বছর আন্তর্জাতিক পরিসরে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে জানিয়ে পলক বলেন, এখন মোবাইল অ্যাপ বিশ্বব্যাপীই চাহিদার শীর্ষে। ২০২১ ভিশনকে সফল করতে এধরনের আয়োজন আরও করা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ-ভুটান-নেপাল ও দক্ষিণ এশিয়ার ডিরেক্টর কিমিয়াও ফেন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে তরুণরা খুব ভালো করছে। তারা বিশ্বের যেকোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।
তিনি বলেন, সামাজিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে এখন প্রযুক্তির বিকল্প নেই। আমি বিশ্বাস করি অন্য সবকিছুর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নিয়ে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
ইএটিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান জানান, প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম ও ধারণা পত্র সংগ্রহ দিয়ে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত ধারণা পত্র নিয়ে শুরু হবে মূল পর্ব। প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার ১০ লাখ টাকা।
এছাড়া প্রত্যেক বিভাগ থেকে একটি করে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা দেয়া হবে। দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর সদস্যদের জন্য থাকবে স্মার্টফোন।
প্রতিযোগিতার আইডিয়া দেয়া যাবে ৩১ শে আগস্ট পর্যন্ত। এই ঠিকানায় গিয়ে আইডিয়া জমা দিতে হবে। এরপর যথাক্রমে বাছাই পর্ব, বুট ক্যাম্প, প্রথম প্রেজেন্টেশন রাউন্ড, গ্রুমিং শেষে প্রমোশনাল অ্যাক্টিভেশন এবং চূড়ান্ত কারিগরি সেশন মূল্যায়নের পর অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ডফিনালে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনইত পিয়েরে লারামি, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন