পুঁজিবাজারে বিদেশি মিউচুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তি হবে: জয়

পুঁজিবাজারে বিদেশি মিউচুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তি হবে: জয়

joy1দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি মিউচুয়াল ফান্ডের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। উপকৃত হবেন স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি টেলিকম, তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতের মূলধনও বাড়বে।
রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে বৃহস্পতিবার ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে ‘ফরম ভিশন টু রিয়্যালিটি: ইন্টারনেট ফর অল অ্যান্ড ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ সব কথা বলেন। উল্লেখ্য, দেশের পুঁজিবাজারে বেশ কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ড থাকলেও কোনও বিদেশি ফান্ডের কার্যক্রম নেই।
জয় বলেন, “তার সঙ্গে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আলোচনা হয়েছে। নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে শিগগিরই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বিদেশি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর সরাসরি বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।”
সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, “তথ্য ও যোগাযোগ খাতের আধুনিকায়ন জরুরি। এ লক্ষ্যে সংশোধন করা হবে বিদ্যমান টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। জিডিপির আকারে বিশ্বের ৪৫তম অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। দেশকে আমরা বৈশ্বিক তথ্য প্রযুক্তি শিল্প হিসেবে গড়তে চাই।”
জয় তার বক্তৃতায় গত ছয় বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের অগ্রগতির চিত্রও তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, “বাংলাদেশে দারিদ্রের হার ২০০৮ সালে ছিল ৪০ শতাংশ। এ হার ২০১৪ সালে নেমে আসে ২৫ শতাংশে। সাক্ষরতার হার ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ শতাংশে।
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্তদের হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল গ্রাহক ২০ মিলিয়ন থেকে ১২০ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া, দেশে বর্তমানে এক কোটি ২০ লাখ মানুষ সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে। ”
দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে জয় বলেন, “আমাদের ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্য হচ্ছে দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছানো। দেশে ৫৩ হাজার ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষ সহজেই সরকারি সব সেবা নিতে পারছেন। এতে সিদ্ধন্ত গ্রহণসহ সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে।”
বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল সেবা চালু হওয়ায় নাগরিকদের বছরে আনুমানিক ৪৫০ কোটি টাকা এবং সরকারের ৬৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
ডিজিটাল সেবার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে জয় বলেন, “ইতিমধ্যে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষের পাশাপাশি ভকেশনাল তথ্য-প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব ইউনিয়নে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছয় বছর আগেও বিদ্যুৎ পাওয়া এবং তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প গড়ে তোলা অসম্ভব ছিল। দেশে বিশ্বমানের শক্তিশালী তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প গড়তে বর্তমান সরকার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।”
সম্মেলনটির যৌথভাবে আয়োজন করেছে টেলিনর গ্রুপ, একসেঞ্চার ও বেসিস। আর এতে সহায়তা করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগ।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন ফ্রেডরিক বাকসাস, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান প্রমুখ।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন