পিসি’র ঝুটঝামেলা এবং তার সমাধান

পিসি’র ঝুটঝামেলা এবং তার সমাধান

কমপিউটার ব্যবহারকারীদের নিত্যনতুন সমস্যায় পড়তে হয়।সেই সবসমস্যার সমাধান আমরা দেয়ার চেষ্টা করব এখানে-

সমস্যা : পিসিতে পেনড্রাইভ অনেক স্লো কাজ করছে। প্রথম দিকে ডাটা ট্রান্সফার বেশ দ্রুতগতিতেই হতো, কিন্তু এখন অনেক সময় লাগছে। আমার পেনড্রাইভের মডেল ট্রান্সসেন্ড ভি৬০ ৪ গিগাবাইট। অন্য পিসিতে কাজ করার সময় ভালোই স্পিড পাওয়া যায়, কিন্তু আমার পিসিতেই এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সমস্যা কি পেনড্রাইভে নাকি পিসিতে? এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো কিভাবে? 

সমাধান :কি ধরনের ফাইল ট্রান্সফার করা হচ্ছে তার ওপরেও পেনড্রাইভের ডাটা ট্রান্সফারের গতি নির্ভর করে। অনেক ছোট ফাইল একসাথে ট্রান্সফার করার সময় তা অনেক সময় স্লো হয়ে যায়, আর বড় আকারের সিঙ্গেল ফাইল ট্রান্সফারের সময় গতি বেশি হয়। পেনড্রাইভ থেকে পিসিতে ডাটা ট্রান্সফার করার জন্য টেরাকপি (TeraCopy) নামের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ফাইল ট্রান্সফারের সময় তা পজ করতে পারবেন এবং একসাথে আলাদা আলাদা অনেক ফাইল কপি করার কমান্ড দিতে পারবেন। সেই সাথে প্রতিটি কপি কমান্ডকে কন্ট্রোলও করতে পারবেন। http://www.codesector.com লিঙ্কটি থেকে টেরাকপি সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন বিনামূল্যে।

সমস্যা : ব্রাউজিংয়ের সময় কোনো ওয়েবপেজ সেভ করতে দিলে সিপিইউ থেকে শব্দ করে এবং ভারি কোনো কাজ করার সময় মাঝে মাঝে পিসি হ্যাং করে। ভাইরাসের কারণে কি এ ধরনের সমস্যা হতে পারে? গেম খেলার সময় গেম লোড হতে বেশ সময় লাগে

সমাধান :আপনার প্রসেসরের ফ্যানের শব্দ হচ্ছে যখন তা বেশ জোরে ঘুরছে। যখন আপনি কোনো ওয়েবপেজ সেভ করছেন- তখন তা সেভ করার সময় প্রসেসরের মধ্য দিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে ডাটা ট্রান্সফার করে। এতে প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় সাধারণ অবস্থার চেয়ে। সে জন্য প্রসেসর গরম হয়ে ওঠে আর কুলিং ফ্যানের গতি আরো বেড়ে যায় প্রসেসর ঠান্ডা করার জন্য। ক্যাসিং খুলে আপনার প্রসেসরের ওপরে রাখা হিটসিঙ্কটি চেক করুন। এতে হয়তো বেশ ময়লা জমে রয়েছে, যার কারণে প্রসেসর ঠিকমতো ছেড়ে দিয়ে ঠান্ডা হতে পারছে না এবং কুলিং ফ্যানের ওপরে চাপ বাড়াচ্ছে। প্রসেসর বেশি গরম হয়ে গেলে হ্যাং হওয়া বা মেশিন স্লো হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। মাসে অন্তত একবার ক্যাসিং খুলে ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন। দুই থেকে তিন মাস অন্তর কুলিং ফ্যান ও হিটসিঙ্ক পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। এতে কমপিউটার এ ধরনের সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন। ধুলোবালি কমপিউটারের যন্ত্রাংশের জন্য বেশ ক্ষতিকর, তাই পিসি এমন স্থানে রাখা উচিত যেখানে ধুলোবালি কম প্রবেশ করতে পারে এবং ডাস্ট কভার ব্যবহার করা আবশ্যক। তবে ডাস্ট কভার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে কাজ শেষে পিসি বন্ধ করার পর পিসিটি ঠান্ডা হবার সুযোগ না দিলে গরমে পিসির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

সমস্যা : আমার পিসি কোর টু ডুয়ো ২.৫৩ গিগাহার্টজ, ২ গিগাবাইট র্যানম, ২৫০ গিগাবাইট হার্ডডিস্ক ও মনিটর এলজি ১৭ ইঞ্চি সিআরটি। আমি একটি ইউপিএস কিনতে চাই। আমার পিসির জন্য কত ওয়াটের ইউপিএস লাগবে? অনলাইন ও অফলাইন দুইরকমের ইউপিএস দেখলাম বাজারে। এ দুটির মাঝে পার্থক্য কি? কোনটি ভালো হবে আমার জন্য? কত ওয়াটের ইউপিএসে কতটুকু ব্যাকআপ পাওয়া যাবে তা কিভাবে বুঝবো? 

সমাধান :পিসির কনফিগারেশন অনুযায়ী আপনার ৬৫০ভিএ পাওয়ারের ইউপিএসের দরকার হবে। তবে বেশি ব্যাকআপ পাওয়ার জন্য আরো বেশি ক্ষমতার ইউপিএস ব্যবহার করতে পারেন। অনলাইন ইউপিএস ও অফলাইন ইউপিএসের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে AC মোড থেকে DC মোডে যাওয়ার সময় অনলাইন ইউপিএস কোনো সময় নেয় না, কিন্তু অফলাইন ইউপিএস কয়েক মিলিসেকেন্ড সময় নেয়। অফলাইনের ক্ষেত্রে অনেক সময় লোডশেডিং হলে পিসি রিস্টার্ট হতে পারে, কিন্তু অনলাইনের বেলায় সেরকম হয় না। অনলাইন ইউপিএসকে ডাবল কনভার্সন ইউপিএসও বলা হয়, কারণ তা AC থেকে DC এবং DC থেকে AC মোডে পাওয়ার কনভার্ট করতে পারে। অনলাইন ইউপিএসে মূল কারেন্ট প্রবাহ ব্যাটারির ভেতর দিয়েই হতে থাকে, তাই পিসি চলাকালীন তা ব্যাটারি চার্জ করার সাথে সাথে পিসিতে পাওয়ার সাপ্লাই দিয়ে থাকে। কারেন্ট চলে গেলে ব্যাটারি থেকে পাওয়ার ব্যাকআপ দেয়া শুরু করে, তাই এতে পাওয়ার ইনভার্ট করার জন্য সময়ের প্রয়োজন হয় না। অফলাইন ইউপিএসের ক্ষেত্রে মূল কারেন্ট প্রবাহের সাহায্যে পিসিতে পাওয়ারের যোগান দেয়া হয় এবং কারেন্ট চলে গেলে তা দ্রুত ব্যাটারি ব্যাকআপে কানেকশন দিয়ে থাকে। এ ক্ষুদ্র সময়ের ব্যবধান অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে যদি পিসি বেশি শক্তিশালী হয়। এছাড়াও অনলাইন ইউপিএসে ফায়ারওয়াল থাকে, যা ভোল্টেজ আপ-ডাউনের সমস্যার হাত থেকে পিসিকে রক্ষা করে। তাই অনলাইন ইউপিএসই বেশি ভালো এবং দামের দিক থেকে তা অফলাইনের চেয়ে কিছুটা বেশি মূল্যের হয়ে থাকে।

সমস্যা : পিসি কতটুকু পাওয়ার টানছে তা পরিমাপ করার কোনো উপায় আছে কি? 

সমাধান :পিসিতে কি কি ডিভাইস সংযুক্ত রয়েছে এবং পিসি কনফিগারেশনের তালিকা যুক্ত করে http://extreme.outervision.com/PSU Engine এ সাইটি থেকে নিজের পিসির পাওয়ার রিকোয়ারমেন্ট সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবেন। আপনাকে শুধু পিসির পার্টসগুলোর সঠিক বর্ণনা দিতে হবে, বাকি কাজ ওয়েবসাইট ক্যালকুলেশন সিস্টেম করে দেবে। যারা পিসি আপগ্রেড করতে চান তাদের নতুন ডিভাইসগুলোর জন্য কতটুকু বাড়তি পাওয়ারের প্রয়োজন হবে তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।

সমস্যা : ইন্টেল কোর আই সেভেনের জন্য কোন মাদারবোর্ড ভালো হবে? কোন ব্র্যান্ডের মাদারবোর্ড সবচেয়ে ভালো? 

সমাধান :বাজারে দুই রকমের কোর আই সেভেন প্রসেসর রয়েছে। একটি হচ্ছে i7-8xx ও অপরটি i7-9xx সিরিজ। প্রথম সিরিজের জন্য যে মাদারবোর্ড ব্যবহার করা হয় তার সকেট হচ্ছে LGA-1156 এবং অপরটি হচ্ছে LGA-1366। LGA-1156 সাপোর্টের কিছু ইন্টেল চিপসেট হচ্ছে H55, H57, P55, Q57 এবং LGA-1366 সাপোর্টের ইন্টেল চিপসেটটি হচ্ছে X58। মাদারবোর্ডের বেশিরভাগ মাদারবোর্ডই চীনের তৈরি। তাই তাদের পারফরমেন্সের মধ্যে তেমন একটা হেরফের নেই। যে হারে বাজারে কমপিউটার পণ্যের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তাতে কেউ খারাপ পণ্য বাজারে ছেড়ে কোম্পানির সুনাম নষ্ট করবে না। তাই নিশ্চিন্তে যেকোনো ব্র্যান্ডের ওপরে ভরসা করতে পারেন। তবে একেক ব্র্যান্ডের মাদারবোর্ড একেক রকমের ফিচার দিয়ে থাকে। কেউ গ্রাফিক্স কার্ড ভালো দেয় তো কেউ কিছু স্লট বেশি দেয়, আবার কেউ বেশি চ্যানেলযুক্ত সাউন্ডকার্ড দেয় তো কেউ স্পেশাল টেকনোলজির সাপোর্ট দেয়। তাই একই চিপসেটের কয়েকটি মডেল দেখেশুনে যেটি আপনার পছন্দ হয় সেটি কিনুন।

About blogger - ব্লগার