ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টে চ্যাম্পিয়ন শাবিপ্রবি

ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টে চ্যাম্পিয়ন শাবিপ্রবি

Champion Teamবিশ্বের ১৬০টি দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষাসপ্তাহ ২০১৫’ উদযাপন করা হচ্ছে। এই উপলক্ষে বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে ৭-১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশেও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রোগ্রামিংকে ছড়িয়ে দিতে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ার অব কোড, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালা ও আড্ডা, ১১ ডিসেম্বর অনলাইন প্রোগ্রামিং কনটেস্ট এবং ১২ ডিসেম্বর দেশে কেবল মেয়েদের জন্য ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট (এনজিপিসি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে সকাল ৯টা থেকে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইস্কুলের ৬৩টি দলের ১৮৭ জন ছাত্রী এই কনটেস্টে অংশ নিয়েছে। প্রতিযোগিতায় ছয়টি সমস্যার মধ্যে চারটি সমস্যার সমাধান করে প্রথম হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল সাস্ট টুইংকেলস। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হচ্ছেন- সাদিয়া তাসনিম স্বর্ণা, নিশাত তাসনিম আহমেদ মীম ও নাফিসা নওশিন। প্রথম রানার আপ হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দল চুয়েট স্পার্কলেস এবং দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ডিইউ টিম-১। প্রথম রানারআপ দলের সদস্যরা হচ্ছেন সুমাইয়া আখতার, সাবেরা জামিলা ও মিফতাহুল জান্নাত মোকাররমা এবং সেকেন্ড রানার আপ দলের সদস্যরা হচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবরিনা জামান ইশিতা, ফারিহা মুমতাহিন উপমা ও মালিহা তাশফিয়া ইসলাম। চতুর্থ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি দল ডিইউটিম-২, পঞ্চম হয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ভার্গো, ষষ্ঠ হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এনএসইউ ন্যাক্রাস, সপ্তম হয়েছে মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এমআইএসটি ড্রিমারস, অষ্টম হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইউ লিটলবার্ডস, নবম হয়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইউআইইউ পাওয়ার পাফ গার্লস এবং দশম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিইউ টিম-৩ দল।
হাইস্কুল ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে উদয়ন স্কুল, ভিকারুন্নিসা স্কুল ও এসওএস হারম্যান মেইনারের সাদিয়া আরেফিন হক, মরিয়ম আখতার ও সামিউন ফাতিহার সমন্বয়ে গঠিত দল কোড উইজার্ড। এছাড়া সুদূর নেত্রকোনা থেকে আসা ১০ ও ১১ বয়সের তিন খুদে প্রোগ্রামার বিয়াম ওয়েসিস স্কুলের ইপ্সিতা জাহান, খন্দকার জেবা রেজওয়ানা ও নাফিসা ইসলাম কল্প সবার মনও জয় করে নিয়েছে।
এনজিপিসি ২০১৫ এর বিজয়ীদের হাতে প্রধান অতিথি হিসাবে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় তিনি বলেন, প্রোগ্রামিংয়ে নারীদের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মেধার চাহিদা বাড়ছে তাতে ভবিষ্যিৎ নির্ভর করছে প্রোগ্রামিংয়ের উপর। তিনি আরও বলেন, বিশ্বেআইটি সেক্টরে এখন নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের আয়ও বাড়ছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে চ্যাম্পিয়ন দলকে ১৫ হাজার টাকা, প্রথম রানার আপকে ১০ হাজার এবং দ্বিতীয় রানার আপকে পাঁচহাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেয়া হয়।এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চ্যাম্পিয়ন দলকে ১৫ হাজার টাকা, প্রথম রানারআপকে ১০ হাজার টাকা এবং নেত্রকোনার খুদে প্রোগ্রামার দলকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।
বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান বলেন, পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার এডা লাভলেস একজন মেয়ে, শুধু তাইনা, পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার কম্পাইলারও একজন মেয়েই (গ্রেস হোপার) তৈরি করেছেন। কিন্তু দু:খের বিষয় হচ্ছে, শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারা পৃথিবীতেই আসলে মেয়ে প্রোগ্রামারের সংখ্যা অনেক কম। এই জন্য সারা পৃথিবীতেই বিভিন্ন ধরনের ইনিশিয়েটিভ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও আমরা এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করছি। তিনি বলেন, শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম মেয়েদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ২০টি টিমও হবে না। সেখানে আজকে ৬৩টি টিম অংশ নিয়েছে। শুধু তাই নয়, সবাই অন্তত একটা করে প্রবলেম সলভ করেছে। তিনি জানান, এবারই প্রথম হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যাবিদ্যালয়ের মেয়েদের জন্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ২০১১ সারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মেয়েদের জন্য প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক এস এম আশরাফুল ইসলাম, পিরচালক ইনামুল কবীর, গ্লোবাল ব্র্যান্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল ফাত্তাহ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. আকতার হোসেন, বিডিওএসএনের সহ-সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক লাফিফা জামাল প্রমুখ।
ডিজিটাল সলিউশন ইনোভেটর, একাডেমিক কেয়ার বর্ণ, রকমারি ডট কম, মিওর ক্যাশ, লুমেক্স আইটি, দোহাটেক, ইজ পে ওয়ে-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে  ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোডমার্শাল, ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ, গুগুল ডেভেলপার গ্রুপ বাংলা, গুগলওম্যান টেকমেকার্স ও দ্বিমিককম্পিউটিং স্কুলএবং ম্যাগাজিন পার্টনার হিসাবে ছিল কিশোর আলো। বিস্তারিত আরো  তথ্যের জন্য – http://cseweek.bdosn.org/।

About Sohel Rana

একটি উত্তর দিন